৪ জুন ২০২৩


পেঁয়াজের দামে অস্থির সিলেট

শেয়ার করুন

শাহিদ হাতিমী : পেঁয়াজের চেয়ে তার দামের ঝাঁজ কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। আমদানীর খবরে গেল সপ্তাহে পেঁয়াজের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। দাম বেশি হওয়ায় অনেকে  এক কেজি কিনতে এসে আধা কেজি ক্রয় করছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমদানী না হওয়ায় পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে লাফিয়ে। আদার দাম লাগামহীন আর পেঁয়াজের দাম সেঞ্চুরির পথে এমন সংবাদে যখন হতবিহবল সিলেটসহ সারাদেশের সাধারণ জনগণ, ঠিক তখনই খবর এসেছে আমদানির। সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌছতে না পৌছতেই সরকারিভাবে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি সংবাদটি কতোটুকু আশাবঞ্চক জনগণের জন্য তা সময়ই বলে দেবে।

রোববার কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে- পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় সোমবার (৫ জুন’২০২৩) থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এতে উল্লেখ করা হয়, সোমবার থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেবে কৃষি মন্ত্রণালয়। পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের, শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট লাঘবসহ সব ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

এদিকে আমদানীর খবরে কয়েকদিন স্থিতিশীল থাকার পর আরেক দফা বাড়লো পেঁয়াজের দাম। শনিবার নগরীর বিভিন্ন বাজারে ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।

ব্যবসায়ীরা জানান, গেল ঈদুল ফিতরের পরে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। মাত্র এক মাসের মধ্যে দাম বেড়ে হয়ে যায় দ্বিগুণের বেশি। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৮০ টাকার ওপরে। পেঁয়াজের হঠাৎ এ মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টানতে আমদানীর কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। আমদানীর খবরে কয়েকদিন পেঁয়াজের দাম ছিল সামান্য কমতির দিকে। তখন কেজিপ্রতি ৫ টাকা কমে কোথাও কোথাও বিক্রি হয় ৭৫ টাকায়। তবে আমদানির বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত না আসায় আবারও বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম, বিক্রি হচ্ছে ৮৫-৯০ টাকায়। রবিবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

পেঁয়াজ বিক্রেতা কালাম বলেন, শনিবার পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। এখন কিনতে হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা কেজি। সেজন্য ৯০ টাকার কমে খুচরা বিক্রি করা যাচ্ছে না। বন্দর বাজারের ফটপাতে কুতুব উদ্দীন নামে পেয়াঁজ বিক্রেতা বলেন, সরকার যখন আমদানীর অনুমতি দেওয়ার কথা বলেছিল, তখন দাম কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু কয়েকদিনে সেটা না হওয়াতে (আমদানি না হওয়ায়) এখন আবার দাম বাড়তে শুরু করেছে।

রিকাবীৗ বাজারের বিক্রেতা সিুমন বলেন, রোজার ঈদের আগে আমরা ২৮ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করতাম। ঈদের পর দফায় দফায় বেড়ে তা ৯০ টাকায় বিক্রি করছি। গত সপ্তাহে দাম কিছুটা কমে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা হয়েছিল। এখন আবার বেড়েছে। নগরীর বাজারগুলোতে দুইদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা।

যদিও কৃষি মন্ত্রণালয় দাবি করে আসছে, দেশে এখনো পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। চলতি অর্থবছরে পেঁয়াজের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার টনে। গত ১০ বছরে উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। বর্তমানে ১৮ লাখ ৩১ হাজার ১৭০ টন পেঁয়াজ মজুত আছে। মজুত পেঁয়াজের উল্লেখযোগ্য অংশই এখন মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলছে, মধ্যস্বত্বভোগীরাই এখন সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে। প্রয়োজনে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতির কথাও বলছে মন্ত্রণালয়।

হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতির কথা বলেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী। কিছুদিনের মধ্যেই পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে বলে গত সপ্তাহে শোনা যাচ্ছিল। এমন খবরে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা পেঁয়াজ রপ্তানির সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন। এমনকি বাংলাদেশি আমদানিকারকদের মৌখিক আদেশের ভিত্তিতে পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক প্রবেশের অপেক্ষায় বাংলাদেশ সীমান্তে অপেক্ষায়ও ছিল। অবশেষে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কৃষকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকার গত ১৫ মার্চ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র বন্ধ করে দেয়। ফলে এখন চাহিদার পুরোটা মেটানো হচ্ছে দেশি পেঁয়াজে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ২ লাখ ৪১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করার পর উৎপাদন হয়েছে ৩৪ লাখ টন। প্রতিকূল আবহাওয়াসহ নানা কারণে প্রায় ৩৫ শতাংশের মতো পেঁয়াজ নষ্ট হলেও বর্তমানে মজুদ আছে প্রায় ১৮ লাখ টন। সে হিসেবে পেঁয়াজের সংকট হওয়ার কথা নয়, তবুও এক মাসের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে কেজিতে ৮০ টাকায় ঠেকেছে।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, গত বৃহস্পতিবারও (১ জুন) খুচরা বাজারে ৮০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। আজও একই দাম চলছে বাজারে। টিসিবির বাজার পর্যালোচনার তথ্য মতে, এক মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১২১.৪৩ শতাংশ। গত বছর এই সময় বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৩৮ থেকে ৫০ টাকায় অর্থাৎ এক বছরে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৭৬.১৪ শতাংশ।

শেয়ার করুন