২৭ মে ২০২৩


সিলেটে নবীপ্রেমের জনস্রোত

শেয়ার করুন

শাহিদ হাতিমী : কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে সিলেটে বিভাগীয় মহাসমাবেশ করেছে  উলামা পরিষদ বাংলাদেশ। সাবেশস্থল ছেড়ে মিছিল ও তৌহিদী জনতার স্রোত ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। দুপুর হওয়ার আগেই সিলেট মহানগরী মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়ে ওঠে। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলাসহ সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসতে থাকে নবীপ্রেমকিদের এ মিছিল । মিছিলে গগণবিদারী স্লোগান ছিল, কাফের কাফের- কাদিয়ানীরা কাফের। খতমে নবুয়াত-করবো হেফাজত। নবীর পরে নবী নেই, সংসদে আইন চাই। হাজার হাজার প্রতিবাদী মোমিনের পদভার দেখে অনেকেই বলাবলি করেছেন আজ সিলেটে নবীপ্রেমের জনস্রোত ছিল।

শনিবার সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে উলামা পরিষদ বাংলাদেশ এর বিভাগীয় খতমে নবুওয়ত মহাসমাবেশের শেষ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দিন । প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা শায়েখ মহসিন আহমদ । মহাসমাবেশে উলামা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল খায়ের বিতঙ্গলী সরকার বরাবরে ৮ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন।

মহাসমাবেশে বক্তারা বলেন, কোরআন এবং হাদিসের সুস্পষ্ট ঘোষণা সত্ত্বেও আজ থেকে প্রায় দেড়শত বছর আগে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারে মদদে গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নামে অভিশপ্ত ব্যক্তি নবুয়তির দাবি করে। সেসময় থেকে তার অনুসারীরা নিজেদেরকে আহমদিয়া মুসলিম জামাত দাবি করে মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। মুসলিম বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রে তাদের অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের দেশেও কাদিয়ানি ধর্ম অনুসারীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন চলছে।

মহাসমাবেশ বক্তারা আরও বলেন- আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলাম। আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। তিনি এক ও দ্বিতীয়। এটা যেভাবে মুসলমানদের মূল বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত। ঠিক তেমনি আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ স. সর্বশ্রেষ্ট ও সর্বশেষ। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ স. এর পর কোন নবি আসবেন না। এটা মুসলমানদের মূল বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ স. সর্বশেষ নবি, এটাই খতেম নবুয়ত। নবিজির পর আর কোনো নবি এ পৃথিবীতে আগমন করবেন না। এ ব্যাপারে কোনো মুসলমান যদি সামন্য পরিমাণ সন্দেহ করে সে মুসলমান থাকতে পারবে না। পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট ঘোষণা- হযরত মুহাম্মদ স. শেষ নবি। আর স্বয়ং নবিজী তাঁর হাদিসে বলেছেন, আমিই শেষ নবি। আমার পর আর কোনো নবি আসবেন না। আখেরি নবীর পরে আর কোনো নবী নেই, সংসদে অইন চাই ।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আলিমুদ্দিন দুর্লভপুরী, মাওলানা নুরুল ইসলাম খান সুনামগঞ্জী, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বরুনা, মাওলানা আব্দুস সোবহান জাউয়া, মাওলানা আব্দুল বছির সুনামগঞ্জী, মাওলানা সামসুদ্দিন দুর্লভপুরী, প্রিন্সিপাল মাওলানা মজদুদ্দিন আহমদ, মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান, মাওলানা মোস্তাক আহমদ খান, মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, সাবেক এমপি মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী, মাওলানা আহমদ আলী চিল্লা, মাওলানা আতাউর রহমান কোম্পানিগঞ্জী, মাওলানা মুহিবুর রহমান মিটিপুরী, মাওলানা মাশুক আহমদ সালামী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মাওলানা আহমদ কবির বিন আমকুনী, মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ, মাওলানা মুহিবুর রহমান মক্তিরচক, মাওলানা শায়েখ সাইফুল্লাহ, মাওলানা রেজাউল কবির আবরার, মাওলানা নজরুল ইসলাম তৌয়াকুলী, মুফতি মুজিবুর রহমান আঙ্গরা, মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানি, মুফতি আবুল হাসান লামারগ্রামী,  ক্বারী আব্দুল হাফিজ শাহবাগ, মাওলানা এনুমুল হক বহরগ্রাম, মাওলানা হিলাল আহমদ হরিপুর, মাওলানা তফজ্জুল হক আজিজ, মাওলানা আহমদ কবির আমকুনী, মাওলানা গাজী রহমত উল্লাহ, মাওলানা জুনাইদ কিয়ামপুরী, মাওলানা জিলাল আহমদ শ্রীরামপুরী, মাওলানা আহমদ বিলাল মৌলভীবাজার, প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মাহমুদুল হাসান এলএলবি, মাওলানা মুহি উদ্দিন, মাওলানা হোসাইন আহমদ, মাওলানা জাকারিয়া মাহমুদ, মাওলানা তালিব উদ্দিন, মাওলানা ইমরান আলম, মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব, মাওলানা নুর আহমদ কাসিমী, মাওলানা আব্দুর রহমান শাহ জাহান, মাওলানা সৈয়দ মাসরুর আহমদ, মাওলানা সাইদ আহমদ, মাওলানা আব্দুল্লাহ গাজীনগরী, মাওলানা দিলওয়ার হোসেন, মাওলানা এহিয়া খান, গোয়াইঘাট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েছ, কানাইঘাট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল্লাহ শাকের, রাজাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা শামসুল ইসলাম, মাওলানা তৈয়বুর রহমান চৌধুরী, এডভোকেট মোহম্মদ আলী, মুফতি এবাদুর রহমান , ক্বারি হারুনুর রশিদ, মাওলানা কবির আহমদ জৈন্তাপুর, মাওলানা ফয়সল আহমদ প্রমুখ।

মাওলানা আবুল হুসাইন চাতুলী, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মুফতি রশিদ আহমদ, মাওলানা আহমদ সগীর বিন আমকুনী, মাওলানা নিয়মত উল্লাহ খাসদবীরির যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন- অনেক নবিপ্রেমি মুসলমান শাহাতাদ বরণ করেছেন। কিন্তু খুবই দুঃখের বিষয়- এখন পর্যন্ত মুসলমানের প্রাণের সেই দাবি বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হয়নি। ইদানিং কাদিয়ানী ধর্মের অনুসারীরা সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় মসজিদের নামে উপাসনালয় স্থাপন করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঈমাণ হরণের চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য- কাদিয়ানিরা মুসলমানদের ধর্মীয় শব্দাবলী ব্যবহারের অধিকার রাখে না। খৃষ্টান ও অন্যান্য ধর্মের মতো কাদিয়ানী ধর্মালম্বী হিসেবে বসবাস করুক আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তাই বর্তমানে সরকারে নিকট ৯৫ ভাগ মুসলমানের প্রাণের দাবি- আখেরি নবির পরে নবি নাই, সংসদে এমন আইন চাই। কালামে পাক থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ মাওলানা শাহিদ হাতিমী।

উল্লেখ্য, ‘উলামা পরিষদ বাংলাদেশ’র সভাপতি ছিলেন সিলেট সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বিন আল্লামা মুহিব্বুল হক (গাছবাড়ি)। শনিবারের মহাসমাবেশের তারিখ ঘোষণা করেছিলেন তিনি। কিন্তু গত ১৭ তিনি শেষে নিঃশ্বাস ত্যাগ করে চলে যান সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্যে। এ মহাসমাবেশে তাঁর সভাপতিত্ব করার কথা ছিলো। শনিবারের মহাসমাবেশে আল্লামা মুহিব্বুল হক (গাছবাড়ি)-এর জন্য জান্নাতুল ফিরদাউসের দোয়া ও তাঁর শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।

শেয়ার করুন