২৩ মে ২০২৩


‘ওয়েটার’ থেকে ‘নগরপিতা’ হতে চান শাহজাহান মাস্টার

শেয়ার করুন

শিপন চন্দ জয় : আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচন’কে কেন্দ্র করে সিলেট এখন বইছে ভোটের ঝড়। এই ঝড়ো হাওয়ায় রেস্টুরেন্টের ওয়েটার থেকে উঠে আসা শাহজান মাস্টার হতে চান  নগরপিতা । এর আগে ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বচনে সিলেট ১ আসন থেকে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এর সাথে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন শাহজান মাস্টার । কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঁচ হাজার ভোটারের স্বক্ষর সংগ্রহ করতে না পারায় তিনি তখন মনোনয়ন দাখিল করতে পারেননি।

এবারের সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে সবার সহযোগিতা নিয়ে রোববার মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেন এবং শেষদিন মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমাও দেন শাহজান মাস্টার।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজান মাস্টার এ প্রতিবেদককে জানান, আমি সিলেটে আসি ২০০০ সালে। কীভাবে এসেছিলাম তাও আমার মনে নেই । সিলেটে আসার পর জীবন জীবিকার তাগিদে কাজ খোঁজতে থাকি।অনেক খোঁজাখুজি করে প্রথমে নগরের চৌহাট্টাস্থ আইলফাইন রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ শুরু করি। এর পর সিলেটের প্রায় ৮০টি রেস্টুরেন্টে ওয়েটার বয় থেকে শুরু করে পার্টনার হয়ে কাজ করেছি।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে জীবন সংগ্রামের অংশ হিসেবে লেখা পড়াও চালিয়ে যাই। আমি দিনে কাজ করে রাতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ভোলানন্দ নৈশ হাই স্কুলে লেখাপড়া করি। পাশাপাশি ময়মনসিংহ মডেল স্কুল থেকে এসএসসি, কিশোরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও সিলেট মদনমোহন কলেজ থেকে সমাজ বিজ্ঞানে বিএসএস ডিগ্রি সম্পন্ন করি। তখন থেকে সবাই আমাকে নামের সাথে মাস্টার বলে ডাকতে শুরু করেন।

শাহজাহান মাস্টার আরো বলেন-বর্তমানে আমি ভুষিমালের দোকানে মোমবাতি, সেলুনে ব্লেড ও ফার্মেসীতে ঔষধ সাপ্লাইয়ের কাজ করি। মোটামুটি সিলেট নগরের সবশ্রেণি ও পেশার মানুষের সাথে আমার ভালো পরিচয়। নগরজীবনের হালচাল,সমস্যা, সমাধান সব বিষয়েই আমি পরির্পূণ অবগত। তাই নগরের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ব্রত নিয়ে এবার আমি সিলেট সিটি মেয়র পদে মনোনয়ন দাখিল করেছি। নগরের মানুষজন আন্তরিকভাবে ও আর্থিকভাবে আমাকে অনেক সহায়তা করেছেন এবং করবেন বলে আশাবাদী। তাই সিলেট সিটির আপামর জনগনের পক্ষ হয়ে মেয়র পদে লড়াই চালিয়ে যাব ইনশা আল্লাহ।

এসময় তিনি আরো বলেন, বর্তমান মেয়র আরিফুল হক নির্বাচন থেকে সরে যাওয়াটা খুবই দুখঃজনক। এতে করে নগরবাসী অনেক কষ্ট ও দুঃখবোধ করছেন। তিনি একমাত্র দলীয় বাধাবাধ্যকতায় নির্বাচন থেকে সরে পড়েছেন। অন্যথায় সরে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না।

নগরের অবহেলিত জনগন যদি ভোট দিয়ে আমাকে মেয়র নির্বাচিত করেন, আমি জনগনের মতামতের ভিত্তিতে বিদায়ী মেয়র আরিফুল সাহেবের অসম্পূর্ণ সকল কাজ সম্পন্ন করবো। জনগণ আমার সাথে আছেন এবং আমি আশাবাদী শেষ পর্যন্ত জনগন আমার সাথে থাকবেন।

শেয়ার করুন