১৯ মে ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট : আসন্ন সিসিক নির্বাচনে বিএনপি নেতা ও সিসক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নির্বাচন বর্জন করার জন্য ‘পথ দেখিয়ে’ দিয়েছেন সিসিকের ৪ নং ওয়ার্ডের চার বারের নির্বাচিত মেয়র ও বিএনপি নেতা রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। এখন তার দেখানো পথেই হাঁটতে পারেন সিসিকের বর্তমান মেয়র আরিফ।
সূত্রমতে, আরিফ ও লোদী দুজনই বিএনপি নেতা। এবারের সিটি নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়েছে বিএনপি। তবে তারা দুজনই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তার এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ওপর ‘চাপ’ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে লোদীর নির্বাচন বর্জনের ঘোষণায় আরো চাপে পড়েছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। লোদীর এই সংবাদ সম্মেলন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যা আরিফের উপর চাপ প্রয়োগের কৌশল বলেও মনে করছেন দলটির অনেকে।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যাপারে আরিফুল হক চৌধুরী এখনো সিদ্ধান্ত জানাননি। আগামীকাল শনিবার সমাবেশ করে নিজের সিদ্ধান্ত জানাবেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী আগামী ২১ জুন ইভিএমের মাধ্যমে সিলেট সিটি করেপারেশনের ভোটগ্রহণ হবে।দলীয় প্রতীকে হচ্ছে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন নির্বাচন। কাউন্সিলর পদে নেই দলীয় প্রতীক ও মনোনয়ন। তবু এবার কাউন্সিলর পদেও যাতে দলের কেউ প্রার্থী না হন সে ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেয় বিএনপি। দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঠেকাতে নানামূখী তৎপটরতা শুরু করে দলটি। প্রার্থীদের উপর বাড়তে থাকে চাপ। দলের এই চাপে কাউন্সিলর কয়েস লোদী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
যদিও সিটি করেপারেশনের বর্তমান পরিষদেই বিএনপি দলীয় আটজন কাউন্সিলর রয়েছেন। লোদী ছাড়া বাকীরা এখনো নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেননি। এছাড়া নগরের ৪২ ওয়ার্ডে বিএনপির শতাধিক নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তৎপরতা চালাচ্ছেন। স্থানীয় নেতারা এনিয়ে নালিশও করেছেন কেন্দ্রে। মহানগর বিএনপি ইতিমধ্যে অন্তত ৩২ নেতাকে নির্বাচনে অংশ না করতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। তবে আটকানো যাচ্ছে না অনেককে।
এরই মধ্যে কয়েস লোদী সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে কয়েস লোদী বলেছেন, সিলেট সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার পর ২০০৩ সালের প্রথম নির্বাচন থেকে অদ্যাবধি আমি নগর ভবনে ৪ নং ওয়ার্ডের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে আসছি। দীর্ঘ এই ২০ বছরে ওয়ার্ডবাসী টানা ৪ বার আমাকে বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত করেছেন। দেশে আজ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, বাক স্বাধীনতা ও সুশাসন বলতে কিছু নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ আজ দিশেহারা, সাধারণ মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখনো মুক্ত নন। তিনি বিদেশে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। মানুষ নিজের ইচ্ছে মতো ভোট দিতে পারছে না, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ।…এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবহ এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ক সিদ্ধান্ত জানানোর দুইদিন আগে কয়েস লোদীর এমন ঘোষণা মেয়রকে চাপে ফেলেছে বলে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কয়েস লোদী দলের প্রতি আনুগত্য প্রমাণে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন, এখন আরিফুল হক চৌধুরীর পালা। তিনি কি বিএনপির আদর্শের রাজনীতি করতে চান, নাকি ক্ষমতায় থাকার রাজনীতি করতে চান—এটা প্রমাণের সময় এসে গেছে।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। আশা করি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন বর্জন করবেন।
নির্বাচনে অংশ না নিতে ওয়ার্ড পর্যায়ের সম্ভাব্য প্রার্থীদের চিঠি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে চিঠি দেওয়া না হলেও তাকে মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে তার উপর কোন চাপ নেই জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, চাপের কিছু নেই। দলের অবস্থান পরিষ্কার। এই সরকারের অধীনে বিএনপি কোন নির্বাচনে অংশ নেবে না। এখন আমি নির্বাচন করতে হলে দল ছাড়তে হবে। আমি কি করবো তা শনিবারই জানাবো।