১৫ মে ২০২৩
নিজস্ব মোতাবেক : খুব দূরে নয় ২১ জুন । সন্নিকটে চলে এসেছে সিসিক নির্বাচন। সোমবার (১৫ মে) সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে মাঠে নেমেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বর্ধিত ১৫টিসহ মোট ৪২টি ওয়ার্ডে সিলেট সিটি করপেরেশনে (সিসিক) চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬৩ এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮৪ জন। আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন মাত্র ৬জন। এসব ভোটার ১৯০টি কেন্দ্রে ১৩৬৭টি স্থায়ী ও ৯৫টি অস্থায়ী কক্ষে ভোট প্রদান করবেন।
২৭ ওয়ার্ড থেকে বর্ধিত হয়ে ৪২টি ওয়ার্ডে উন্নীত হয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন । এবার পুরাতন ২৭টি ওয়ার্ডে ভোটার বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৮৫৩ জন। আর নতুন যুক্ত হওয়া ১৫টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯০০ জন। ২০১৮ সালে সিসিক নির্বাচনে পুরাতন ওয়ার্ডগুলোতে ভোটার ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন। সে তুলনায় এবার ভোট বেড়েছে ৩৯ হাজার ১২১ জন। এ দু’টি মিলিয়ে সিসিকে এবার নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে মোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ২১ জন। আর গত নির্বাচনের তুলনায় এবার কেন্দ্র ৫৬টি এবং ভোট কক্ষের সংখ্যা ৪৪১টি বেড়েছে।
এদিকে- সোমবার (১৫ মে) সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে মাঠে নেমেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর আগে আচরণবিধি মানতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারী প্রার্থীদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার সিলেট সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সাল কাদের সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফয়সাল কাদের বলেন, আচরণবিধি মেনে চলার জন্য রোববার (১৪ মে) সব প্রার্থীদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এরপর কেউ আচরণবিধি ভঙ্গ করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার থেকে আচরণবিধি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাগণ তাদের অধিক্ষেত্র এলাকা পরিদর্শন করবেন। কেউ আচরণবিধি ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে ইসি। এমনকি ওই প্রার্থীর প্রার্থিতাও বাতিল হতে পারে।
ইসির তথ্য মতে, ২০১৮ সালে ২৭ ওয়ার্ডে পুরুষ ভোটার ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪জন। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৮৬ জন। পুরোনো ওয়ার্ডগুলোতে নারী ভোটার ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন। এবার বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৬১ জন। অর্থাৎ ৫ বছর ব্যবধানে পুরাতন ওয়ার্ডগুলোতে পুরুষ ভোটার বেড়েছে ১৮ হাজার ৪৪২ জন এবং মহিলা ভোটার বেড়েছে ২০ হাজার ৬৭৫ জন।
বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সিসিকের ১ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ৯২০ জন। ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ হাজার ৪৩৭ জন। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ হাজার ৪৬৩ জন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ হাজার ৮৯৫ জন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১৭ হাজার ৩৫৯ জন। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩ হাজার ৮২৭ জন। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২০ হাজার ৮৭৩ জন। ৮ নং ওয়ার্ডে ২০ হাজার ৯৬৯ জন। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১৮ হাজার ৪৩০ জন। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ১৮ হাজার ৫৪৫ জন। ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ১৪ হাজার ৭৮৭ জন। ১২ নম্বর ওয়ার্ডে১০ হাজার ৯৩৪ জন। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ হাজার ২২২ জন। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ হাজার ৮৪০ জন। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১১ হাজার ৫১৬ জন। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ হাজার ২৮৬ জন। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫ হাজার ১৩০ জন। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ হাজার ৮৭৮ জন। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩ হাজার ৫০৩ জন। ২০ নম্বর ১২ হাজার ৬৭ জন। ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩ হাজার ৫৪০ জন। ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ১১ হাজার ৯৪২ জন। ২৩ নং ওয়ার্ডে ৭ হাজার ৭৩৫ জন। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩ হাজার ৮৭৭ জন। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১৪ হাজার ২১২ জন। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫ হাজার ৫০৬ জন। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩ হাজার ১৬০ জন।
এছাড়া নবগঠিত ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার ৬ হাজার ৯১৬ জন। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ হাজার ১০ জন। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ হাজার ২৪ জন। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ হাজার ৪৮১ জন। ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ হাজার ৭৬৮ জন। ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ হাজার ৫৬৭ জন। ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ হাজার ৩১২ জন। ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ হাজার ৫৫ জন। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ হাজার ৯৬ জন। ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ হাজার ৭৬৯ জন। ৩৮ নম্বর ১০ হাজার ৩২৭ জন। ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩ হাজার ১৭১ জন। ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ হাজার ৯৯৬ জন। ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ হাজার ৪৩০ জনএবং ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার হলেন ৪ হাজার ৯৭৮ জন।
নির্বাচন কমিশন প্রণীত সিটি করপোরেশন নির্বাচন (আচরণবিধি) ২০১৬ এর ৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবে পারবেন না। ৮ এর (১) অনুচ্ছেদে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ব্যবহার সংক্রান্ত বিধিনিষেধে বলা আছে, পোস্টার সাদা-কালো রঙের হতে হবে। অথচ সরেজমিন দেখা গেছে, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা রঙিন ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন, তোরণ দিয়ে নানাভাবে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। কেউ কেউ প্রতীকসহ প্রচারণা চালিয়েছেন। এসব দৃষ্টিগোচর হওয়ায় ব্যানার-পোস্টার অপসারণে ইসির নির্দেশনা থাকলেও কেউ আমলে নেননি। এমনকি বিভিন্ন যানবাহনেও মনোনয়ন সংগ্রহকারি সম্ভাব্য প্রার্থীদের রঙিন পোস্টার সাঁটানো দেখা গেছে। দলীয় প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীক (নৌকা, হাকপাখা ও লাঙ্গল) সম্বলিত পোস্টার লিফলেট সাঁটাচ্ছেন ও বিতরণ করছেন।
অবশেষে গত ৬ মে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা অভিযানে নেমে সেসব প্রচারণা সামগ্রী কিছুটা সরিয়ে নেন। কিন্তু এরপরও ইসির প্রদত্ত নির্দেশনা আমলে নিচ্ছেন না অনেক প্রার্থী। ফলে এবার সরাসরি মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারী সাত মেয়র প্রার্থীসহ সংরক্ষিত ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪০২ জনকেই চিঠি দিয়ে আচরণবিধি মানতে সতর্ক করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।