১১ মে ২০২৩


মিরাবাজারে মা-ছেলে হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রী মৃত্যুদণ্ড

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর মিরাবাজার খারপাড়ায় মা ও ছেলেকে গলা কেটে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গৃহপরিচারিকা ও তার স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে দণ্ডিতদের আরো এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- গৃগপরিচারিকা তানিয়া আক্তার ও তার স্বামী ইউসুফ খান মামুন। তাদের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা এলাকায়।

বৃহস্পতিবার সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর ২য় আদালতের বিচারক মো. নূরে আলম ভূঁইয়া এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ রাতে নগরীর মীরাবাজার খারপাড়া ‘মিতালী ১৫/জে’ বাসার নিচতলার একটি ফ্লাটে রোকেয়া বেগম (৪৫) ও তার ছেলে রর্বিউল ইসলামকে (১৬) গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন ১ এপ্রিল বাসা থেকে মা ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশ থেকে আহত অবস্থায় ৫ বছরের ছোট শিশু রাইসাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। হত্যাকারীরা রাইসাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে গিয়েছিল। নিহত রোকেয়া সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর কলকলি গ্রামের হেলাল মিয়ার স্ত্রী।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই জাকির হোসেন অজ্ঞাত চারজনের বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর ওই বছরের ১০ এপ্রিল কুমিল্লা থেকে পিবিআই’র হাতে আটক হন তানিয়া আক্তার ও তার স্বামী ইউসুফ খান মামুন। তারা উভয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

এদিকে, ঘটনাস্থল একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী নিহত রোকেয়া বেগমের মেয়ে রাইসার। তারও জবানবন্দিও রেকর্ড করেন আদালত। আদালতে রাইসা ও আসামিদের জবানবন্দি হুবহু মিলে যায়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি মোহাম্মদ জুবায়ের বখত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই। ২০১৯ সালের ১৯ মে তদন্ত শেষে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পিবিআই’র পরিদর্শক দেওয়ান আবুল হোসেন। ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি আদালত চার্জ গঠন করে বিচারকার্য শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানিতে ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।

বাদিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মিসবাউর রহমান আলম জানান, গৃহকর্ত্রী রোকেয়া বেগমের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বন্দ্ব থেকেই গৃহকর্মী তানিয়া তাকে হত্যা করে।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট দিদার আহমেদ জানিয়েছেন তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

শেয়ার করুন