২০ এপ্রিল ২০২৩
আজকের সিলেট ডেস্ক : ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। বাসাবাড়ি তালাবদ্ধ করে বেশিরভাগ বাসিন্দাই ছুটছেন স্বজনের সান্নিধ্যে ঈদ করতে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আগে থেকেই এ প্রস্তুতি ছিল ঢাকার বেশিরভাগ বাসিন্দার। তবে সম্প্রতি দেশব্যাপী আগুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণে ঈদের ছুটি কেন্দ্র করে বিশেষ নজরদারি রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। বিমানবন্দরে ফায়ার অ্যালার্ট জারি করে চিঠি পাঠিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ওই চিঠির পর অগ্নিঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক রয়েছে দেশের সব বিমানবন্দর ও মালামাল রাখার কার্গো ভিলেজ।
এরই মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের প্রতিটি মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং প্রতিটি থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট এরিয়ায় মার্কেট এবং বাসাবাড়ির নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ নজরদারি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে ঈদের ছুটিতে যাওয়া মানুষের বাসস্থান, কর্মস্থল, শপিংমলে চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে। এদিকে ঢাকা ফাঁকা হয়ে যাওয়ার এই সুযোগে যাতে চুরি ডাকাতি ছিনতাইসহ এ ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড না ঘটে তা ঠেকাতে বিশেষ কর্মকৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে ঢাকা মহানগর পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিট। ফাঁকা ঢাকায় বাসিন্দাদের মালামাল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে, গতকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চিরাচরিত যানজট নেই। বাস টার্মিনাল এবং ট্রেন স্টেশনে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বেড়েছে। ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় এরই মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাগ্রহণসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বহু স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মাঠে রয়েছে পুলিশ-র্যাব ও গোয়েন্দারা। যেকোনও নাশকতা এবং হামলা মোকাবিলায় র্যাবের স্পেশাল ফোর্স কমান্ডো টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাবের হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ভার্চুয়াল জগতে যেকোনও গুজব এবং উস্কানিমূলক তথ্য প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয় সাইবার মনিটরিং জোরদার রাখা হয়েছে।
র্যাব বলছে, গোয়েন্দা তথ্য সাইবার মনিটরিংসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের জঙ্গি হামলার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। সাইবার জগতে মনিটরিং বৃদ্ধির মাধ্যমে জঙ্গিদের যেকোনও ধরনের নাশকতা পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিতে প্রস্তুত রয়েছে কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, দেশব্যাপী আগুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণে ঈদের ছুটি কেন্দ্র করে বিশেষ নজরদারি রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। ঈদের ছুটিতে বাসা বাড়ি এবং মার্কেট ফাঁকা থাকার কারণে কোথাও কেউ যেন কোনও ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ না পায় সে ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে ফাঁকা ঢাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায় এমন বিষয়টি সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট পরিচালনা করবে। বেপরোয়া গতির গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কেউ কোনও ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, ফাঁকা ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ছিনতাই প্রতিরোধেও বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ছাড়াও বাস স্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, লঞ্চঘাট এবং বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সড়কের যানবাহন থামিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত থাকলে নেওয়া হবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা।
অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেন বা লঞ্চে না ওঠার পরামর্শ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সড়ক পথে হাইওয়েতে বাসগুলো যেন রাস্তায় যাত্রী উঠাতে না পারে সে ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাইওয়েতে যেন যানজটের সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারেও মাঠে থাকা পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঈদের আগে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় মার্কেটগুলোতে কেউ যেন কোনও ধরনের হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ শপিং মল, বিপণিবিতান ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় স্ট্যাটিক টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যাতে করে সাধারণ জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে এবং নিরাপদে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফিরতে পারে।
এছাড়া ঈদের ছুটিতে বিনোদন কেন্দ্র, পার্ক, চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গিয়ে কেউ যেন কোনও ধরনের হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব মেট্রোপলিটন শহর, জেলা শহর এবং উপজেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ঢোকার মুখে চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে।
ঈদ নিরাপত্তার বিষয়ে পলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘ঈদের সময় ফাঁকা ঢাকায় রাত কিংবা দিন সব সময় পুলিশের কড়া নিরাপত্তা থাকবে। শুধু ঢাকাতেই নয় বড় বড় শহরগুলোসহ গ্রামেও ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেকেই গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সময় ঢাকার বাসায় স্বর্ণালংকার, টাকা-পয়সা রেখে যান। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মূল্যবান জিনিসপত্র ফাঁকা বাসায় রেখে যাওয়া উচিত না। যদি যেতে চান সেক্ষেত্রে টাকা-পয়সা ও গহনা নিকট আত্মীয়-স্বজনের কাছে রেখে যান অথবা সঙ্গে করে নিজে নিয়ে যান।’
এবছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া তৎপরতায় নিজ নিজ গন্তব্যে মানুষ পৌঁছাতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন পুলিশপ্রধান বলেন, ‘গত বছরগুলোতে ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের সারাদিন রাত রাস্তায় যানজটে বসে থেকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে পদ্মা সেতু চালু হয়েছে। উত্তরবঙ্গের রাস্তার অনেক উন্নতি হয়েছে, চন্দ্রার আগের সেই ৮/১০ ঘণ্টার যানজট নেই, ছুটির পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে সবমিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা সন্তোষজনক হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’
যাত্রীদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, ‘পথে সহযাত্রী কিংবা কারো দেওয়া কোনো কিছু খাবেন না। এতে করে আপনি অজ্ঞান পার্টি কিংবা মলম পার্টির খপ্পরে পড়তে পারেন। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের সিনিয়র কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, ‘ফাঁকা ঢাকায় ফায়ার সার্ভিস বিশেষ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। আমরা সবসময়ই প্রস্তুত রয়েছি। ঈদে ঢাকা ফাঁকা হওয়ার বিষয়ে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।’