১৬ এপ্রিল ২০২৩
মোঃ ফারুক মিয়া : সিলেট শহরের পাইকারি ও খুচরো ফলের দোকানগুলোতে গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজের বাহারি সাজ,দোকান্দাররা যেন তরমুজ দিয়ে লাল সবুজের পতাকা এঁকেছেন। সারি সারি তরমুজের মাঝখানে দেখা মিলছে কাটা তরমুজের লাল শাঁস। লাল সবুজের এক অনাবধ্য মিলন চোখে পড়ার মতো।
পবিত্র রমজান মাস যতই শেষের দিকে যাচ্ছে আবহাওয়া যেন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠছে। তীব্র গরমে যখন মানুষের মাথার টাক ফেটে যাওয়ার উপক্রম তখনই ইফতারে প্রশান্তি নিয়ে আসছে গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজ। সারাদিন রোজা শেষে ইফাতারে তরমুজ দিয়ে যেন তৃপ্তির ঢেকুর তুলেন রোজাদাররা।
তীব্র গরমকে কেন্দ্র করে ফলের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা, কয়েকদিন আগের তুলনায় বর্তমানে দাম হাতের নাগালে থাকায় ক্রেতারাও যেমন স্বাচ্ছন্দ্যে তরমুজ কিনতে পারছেন,তেমনি বিক্রেতারাও বিক্রি করে খুশি। ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় পচে যাওয়ার সুযোগ নেই,তাই বিক্রেতারাও বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।
সরেজমিনে সিলেট শহরের ফলের আড়ৎ ও খুচরো দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায়,আঙ্গুর,আপেল,মাল্টার পাশাপাশি প্রতি দোকানেই রয়েছে তরমুজ। প্রতিটি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা ধরে।
খুচরো ফল ব্যবসায়ীরা জানান, কদমতলী পাইকারী আড়ৎ থেকে তরমুজ কিনে আনছেন তারা। তীব্র গরমে ব্যপক চাহিদা থাকায় তারাও একটু বেশি তরমুজ কিনে আনছেন বিক্রির উদ্দেশ্যে।
তরমুজ বিক্রেতা সিজিল ব্যাপারী বলেন, সারা বছর মৌসুমী ফলের ব্যবসা করি,এ অঞ্চলে তরমুজের চাষ হয় না। বাংলাদেশের বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে সিলেটে তরমুজ আসে। এবারের তরমুজের স্বাদ ভালো থাকায় বাজারে চাহিদা বেড়েছে,এক মাসের বেশি সময় ধরে তরমুজ বিক্রি করছি। তবে এবার রমজান মাসে বেচাকেনা জমে উঠছে,বিশেষ করে রমজানের শেষের দিনগুলোতে ব্যপক হারে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ।
সিজিল বলেন, বড় আকারের তরমুজ প্রতিটি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত এবং ছোট আকারের তরমুজ ১০০ থেকে ২০০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। পিস প্রতি খরচ বাদ দিয়ে ২০-৩০ টাকা করে লাভ থাকছে।
সিএনজি চালক ইব্রাহিম বলেন,চোখের সামনে নতুন ফল দেখে সন্তানের জন্য কিনতে ইচ্ছা হলেও কিছুদিন আগে দাম বেশি থাকায় কিনতে পারিনি। বর্তমানে দাম স্বাভাবিক থাকায় কিনতে পারছি।
খুচরা ফল বিক্রেতা লালন বলেন, এখানে আমরা ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। বাজারে তরমুজের চাহিদা থাকায় অন্য সময়ের তুলনায় এবার ভালো ব্যবসা করতে পারছি।