১৩ এপ্রিল ২০২৩


যানজটে ‌’অতিষ্ঠ’ নগরবাসী

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : সকাল থেকেই অফিসগামী আর মার্কেটমুখী মানুষ নেমে পড়েন নগরজুড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজটও বাড়তে থাকে। দুপুর ১২টা থেকে ১টার দিকে কিছুটা গাড়ির চাপ কম থাকলেও বেলা ২টার পর থেকে ভয়াবহ আকার ধারণ করে সড়কগুলো। বাস, কাভার্ডভ্যান, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যান একাকার হয়ে যায়। বেলা ৩টার দিকে অফিস ছুটির পর সড়কে যেন গাড়ির স্রোত নামে। ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ইফতারের এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে এই জট ভাঙে মধ্যরাতের পরে। পনের রমজানের পর থেকে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রতিদিনের দৃশ্য এটি।

সড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়া, উন্নয়নের জন্য রাস্তাঘাটের বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি ও পাড়া-মহল্লার অপ্রশস্ত রাস্তায় যানজটের মূল কারণ হিসেবে মনে করছেন নগরের মানুষজন। যার ফলে নগরের একাধিক এলাকায় যান চলাচল স্থবির হয়ে থাকতে দেখা যায় প্রায় প্রতিদিনই। রোজার মধ্যে তীব্র দাবদাহে যানজটে পড়ে ব্যাপক দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন নগরের বাসিন্দারা। ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগছে দ্বিগুণ সময়। এমনকি যানজটে আটকা পড়ে অনেককে ইফতার করতে হচ্ছে রাস্তায়।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, রমজান মাস হওয়ায় বিকেলের আগেই মানুষ প্রয়োজনীয় সব কাজ শেষ করতে তৎপর। এ ছাড়া অন্যান্য সময়ের তুলনায় নগরে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বন্দরবাজার, সুরমা মার্কেট, লালদিঘির পাড়সহ কিছু এলাকার ফুটপাতও বেদখলে আছে। এতে দীর্ঘক্ষণ ধরে যানজট হচ্ছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের যানজটের প্রভাব পাড়া-মহল্লাতে গিয়েও ঠেকছে।

এদিকে, রোজায় অফিস বিকেল ৩টায় শেষ হওয়ার পর থেকে মানুষের মধ্যে তাগিদ শুরু হয় কখন বাড়ি ফিরবে। পরিবারের সঙ্গে অংশ নিতে চান সবাই ইফতারে। সেজন্য বেশ তাড়াহুড়ো করেই রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা বা রাইড শেয়ারিং যোগে ছোটেন গন্তব্যের দিকে। কিন্তু সবকিছুই থামিয়ে দেয় যানজট।

সম্প্রতি বিকেলে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় দেখা যায়, রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ইফতারের দোকানগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন ক্রেতারা, যত্রতত্র করছেন গাড়ি ও মোটরসাইকেল পার্কিং ফলে কাঙ্খিতভাবেই রাস্তায় হয়ে যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন।

অপরদিকে সিএনজি অটোরিকশার দৌরাত্ম্য তো আছে। মানুষের চেয়ে যেন সবুজ রঙের এই যান্ত্রিক যন্ত্রনাই বেশি- বলছিলেন ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করা মারুফ আহমেদ মুন্না। তিনি বলেন যেখানে সেখানে দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা-নামানো, রাস্তায় হঠাত গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া এগুলো অটোরিকশা গুলোর নিত্য-নৈমিত্তিক আচরণ। তারওপর এদের বেপরোয়া আচরনে যানজট হয় আরো তীব্র।

বেতের বাজারের বাসিন্দা সৌরভ তালুকদার জানান, অফিস শেষে বিকেলে বাসায় ফিরেন তিনি। কিন্তু প্রতিদিন ইফতারের আগ মুহূর্তে লামাবাজার থেকে দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয়ে তাকে।

নগরের আম্বরখানায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য মো. আজিজের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইফতারের জন্য সবারই বাসায় ফেরার তাড়া থাকে। রিকশা ও পথচারীদের রাস্তা পারাপারে অন্যান্য গাড়িগুলোকে চলতে হয় ধীরগতিতে। সিগন্যাল ছাড়লেও রিকশা ও পথচারীদের চাপে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। তখনই যানজট লাগে।

এদিকে ,যানজটে আটকে পড়া মানুষের ক্ষোভ- রাস্তার পাশে অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা গাড়িগুলোর চালকদের উপর। অথচ জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার ও সুরমা মার্কেট এলাকার ফুটপাত বেদখল এবং রাস্তায় অবৈধ পার্কিং নিয়ে ট্রাফিক পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেই। জিন্দাবাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালনকালে তাদের পাশেই অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। শুধু হাত তুলে পয়েন্টে গাড়ি আটকানো আর ছাড়ার মধ্যেই তাদের যেন দায়িত্ব পালন- এমনটাই মন্তব্য ক্ষুব্ধ নগরবাসীর।

যদিও পুলিশ বলছে- অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন।

অপ্রশস্ত রাস্তাঘাট, যানবাহনের আধিক্য, ফুটপাত বেদখল এবং অধিকাংশ বিপণিবিতানে পার্কিং না থাকার কারণে সিলেট নগরে বছরজুড়েই যানজটের দুর্ভোগ লেগে থাকে। তবে এখন ঈদের আগে বিভাগীয় শহর হওয়ায় পাশের জেলা ও উপজেলা থেকেও মানুষজন ঈদের কেনাকাটা করতে আসেন সিলেট নগরে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অন্য সময়ের তুলনায় যানজট বেড়েছে।

এসএমপির উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেন, ঈদের কারণে মহানগরে যানজট কিছুটা বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তিন শিফটে ডিউটি করছে। রাস্তায় অবৈধ পার্কিং ঠেকাতে কাজ করছে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্টও বসানো হয়েছে।

এদিকে, যতই সময় ঘনিয়ে আসছে, ঈদবাজারে মানুষের চলাচল আরও বাড়বে আর তখন যানজটের দুর্ভোগ চরম মাত্রায় পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করছেন নগরের বাসিন্দারা।

শেয়ার করুন