১৪ এপ্রিল ২০২৩
শাহিদ হাতিমী : নাজাতের দশক চলছে। আজ ২২তম রামজান। আমরা রামজানের আরেকটি শুক্রবার আজ অতিবাহিত করছি। আজ জুমুআবারের দিবাগত রাতে লাইলাতুল কদর হতে পারে। পবিত্র রামজান মাস শেষের পথে। ভাগ্যবানরা এতেকাফে বসেছেন, মসজিদে এবং আল্লাহওয়ালা বুজুর্গদের সান্নিধ্যে অবস্থান করছেন।
আসলে আমাদের সমাজটা কতোইনা রঙময়। কিছু কিছু জায়গা আছে মু’তাকিফদের অভাব হয় না! আবার মফস্বলে এমন জায়গাও আছে যেখানে পুরো গ্রামবাসীর মধ্যে থেকে একজনকেও এতেকাফে অবস্থান করার জন্য পাওয়া যায় না বা রাজি করানো যায় না। যাহোক এতেকাফ বিষয়ে নানা প্রসঙ্গ আলোকপাত করা হয়েছে গতকাল এবং এর আগের দিন।
আজকে আমরা দৃষ্টিপাত করবো আল্লাহওয়ালাদের, বরেণ্য বুজুর্গদের সান্নিধ্যে যেয়ে এতেকাফে অবস্থান প্রসঙ্গে। বুজুর্গদের সান্নিধ্য আত্মার পরিশুদ্ধি অর্জনে অত্যন্ত কার্যকর। মানুষের শারীরিক অসুস্থতার মতো আত্মাও অনেক সময় অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়। এর ফলে কেউ কেউ জীবন সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েন, আবার কেউ অহঙ্কার-আত্মতুষ্টি প্রভৃতি অন্তরের রোগে ভোগেন এবং এ রোগ যে তার মধ্যে আছে তা তিনি নিজে বুঝতেও পারেন না।
শরীরকে সুস্থ করে তুলতে যেমন চিকিৎসা করা প্রয়োজন- তেমনি আত্মার ব্যধি সারাতেও প্রয়োজন আত্মার চিকিৎসা করা। যুগে যুগে আধ্যাত্মিক সুফি-সাধকেরা মুসলিম উম্মাহর এই খেদমতই করে আসছেন। এমনও মানুষ আছেন যার শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমন যে, তিনি সহজে রোগাক্রান্ত হন না বা আক্রান্ত হলেও চিকিৎসকের সাহায্য ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন (যদিও চিকিৎসা গ্রহণ করা সুন্নদ)। আত্মার ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি ঈমানি মজবুতির উচ্চস্তরের হন- তবে আল্লাহর ইচ্ছায় নিজেই আত্মার ব্যাধি প্রতিকার করতে পারেন। যে কোনো আত্মিক অসুস্থতার চিকিৎসা করা জরুরি (শারীরিক, মানসিক), তবে এর জন্য এটা জরুরি না যে- সুফি-সাধক বা পীরের মাধ্যমেই তা করতে হবে।
কিন্তু আত্মার ব্যাধি এমন যে, তা নির্ণয় করা একটি দুরূহ কাজ এবং অধিকাংশ সাধারণ মানুষের জন্যই তা অসম্ভব। তাই একজন আধ্যাত্মিক বুজুর্গের সাহায্যে আত্মার ব্যাধির চিকিৎসা করানো অবশ্যই উপকারী। এটা মোটেও শিরকি-বিদআতি কর্মধারা নয়। তাছাড়া আধ্যাত্মিক বুজুর্গদের সান্নিধ্য আত্মা তথা নফসের পরিশুদ্ধি অর্জনের জন্যও অত্যন্ত কার্যকর।
তাই কোনো ব্যক্তি যদি আত্মিক ব্যাধি দূর করার জন্য তথা আত্মা পরিশুদ্ধির জন্য অথবা আমলের সংশোধনের জন্য অর্থাৎ আমলের মধ্যে আল্লাহর ধ্যান আনা, একাগ্রতা সৃষ্টি করা, পরিপূর্ণ সুন্নতের অনুসরণ প্রভৃতি গুণ অর্জনের জন্য কোনো কামেল পীরের দ্বারস্থ হন (বা মুরিদ হন) বা কোনো আধ্যাত্মিক বুজুর্গের হাতে বায়াত হন- তবে সেটা ওই ব্যক্তির জন্য দ্বীনের রজ্জু শক্তভাবে ধারণেই সহায়ক হবে। আর এমন আল্লাহওয়ালাদের সান্নিধ্যে থেকে এতেকাফ করলে ইবাদতে মজা অনুভব হবে, ইনশাআল্লাহ।
(লেখক : জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম)