১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

কানাইঘাট প্রতিনিধি : প্রেমের টানে প্রথম স্বামীর কাছ থেকে পালিয়ে আসা জাহানারা বেগম (১৯)- নামের কানাইঘাটের লহ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের এক গৃহবধু খুনের শিকার হয়েছেন দ্বিতীয় স্বামীর হাতে।
এ হত্যার অভিযোগ ঘাতক স্বামীসহ তিনজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে নিহতের মা সফিনা বেগম বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো তিন-চারজনকে আসামী করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর ও শাশুড়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে, প্রধান আসামী ইব্রাহিম আলী ইমন এখন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নুনু মিয়া। তিনি মামলা দায়েরে বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে স্বামীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হন জাহানারা বেগম। নিহত জাহানারা উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের মালিগ্রামের মৃত খলিল আহমদের মেয়ে। অভাবের সংসারে এক ভাই, তিন বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট।
মামলার বাদি নিহতের মা সফিনা বেগম জানান, প্রায় দুই বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে জাহানারার বিয়ে হয় জৈন্তাপুর উপজেলার ছাতারখাই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের সাথে। কিন্তু আত্মীয়তার সুযোগে ইব্রাহীম আলী ইমন তাকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করে।
আক্ষেপের সুরে সফিনা আরো জানান, ‘জাহানারা বড় খুশি করে ইমনকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু সে সুখ পূরণ করতে দেয়নি সে। তিনি আরো বলেন, তার মেয়েকে তারা পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। পালিয়ে এসে তারা দুজন বিয়ে করায় গ্রেফতারকৃত ইমনের মা-বাবা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি জাহানারাকে। এ দিকে স্বামীর বিভিন্ন আপরাধ কর্মকান্ডে সে বাঁধা দেওয়ায় প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো বলে জানান তিনি।
নিহতের ভাই মানিক আহমদ জানান, ‘প্রায় ৩ মাস পূর্বে একটি ডাকাতি মামলায় ইব্রাহীম আলী ইমন জেলে গেলে জাহানারা বাবার বাড়িতে চলে আসে। দুই সপ্তাহ আগে সে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে আসলে জাহানারাকে তার কাছে নিয়ে যেতে চাইলে সে যেতে চায়নি। পরে ঘাতক ইমন তাকে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে যাওয়ার ৫ দিনের মাথায় তাকে নির্মম ভাবে খুন করে ইমন। তিনি ইমনের ফাঁসি দাবি করেন।