২৮ মার্চ ২০২৩


বর্জনের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধিই রমজানের মূল উদ্দেশ্য

শেয়ার করুন

খলিলুর রহমানমঃ রমজানে সাওম (রোযা) পালনের উদ্দশ্য তাক্বওয়া অর্জন। তাক্বওয়া মানে পরহেজগারি। পরহেজগারির অর্থ এই নয় যে শুধু নামায তিলাওয়াত, তাসবীহ তাহলীল ও সাদাক্বা-খয়রাত করে সওয়াব হাসিল করা। তাক্বওয়ার মূল অর্থ সংযম বা সংযমী হওয়া। অর্থাৎ হারাম মকরূহ এবং অপ্রয়োজনীয় সবকিছু বর্জন করে আত্মাকে খালি ও পরিচ্ছন করা। যাতে করে ইবাদাতের মাধ্যমে অর্জিত সওয়াব পরিচ্ছন্ন দেহ ও অন্তরে স্থান পায়।
রমজানে সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে সাওয়াব অর্জনে’র চেয়ে বর্জন’টাই মূখ্য হয়ে থাকে। এ জন্য আল্লাহ তয়ালা لعلكم تتقون বলে তাক্বওয়া তথা বর্জনকেই সাওম পালনের ফল ও উদ্দেশ্য বলেছেন। অনুরূপ ‘সাওম’ শব্দটিও বর্জনের দিকে আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
মূলত আমাদের শারীরিক সাওম (রোযা) হচ্ছে দিনের বেলা পানাহার ও কামাচার থেক বিরত থাকা। পক্ষান্তরে আত্মিক সাওম (রোযা) হচ্ছে সর্বপ্রকার গোনাহ, পাপাচার ও হারামকে বর্জন করে অতীতের গোনাহ ও অপকর্ম থেকে তাওবাহ করে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা।
এখন আমরা যদি সারা বছর লুটপাট করে, সুদ ঘুষ গ্রহণ করে, জালিয়াতি করে,মজুতদারি করে জনগনের পকেট কেটে কোটি কোটি টাকা কামাই করি এবং মাহে রমজানেও পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগনের পকেট কাটা ও হারাম উপার্জন অব্যাহত রাখি, তা হলে আমাদের সাওম (রোযা) সালাত তারাবীহ, খতমে কোরআান, লিল্লাহ সাদাকাহ কতটুকু রমজানের সাথে সামঞ্জস্যশীল হবে, তা একবার হলেও ভেবে চিন্তে দেখা দরকার।
চুরি-ডাকাতির মাধ্যমে অন্যের মাল বা হক লুটে নেওয়া যেমন হারাম, তেমনি ঘুষ- চাঁদাবাজি জালিয়াতি ও মজুতদারির মাধ্যমে অন্যের সম্পদ হরণ ও পকেট কাটা সম্পূরণ হারাম এবং ডাকাতি।
তাই আসুন, আমরা রমজানে অর্জন থেকে বর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেই। সকল প্রকার হারাম উপার্জন থেকে নিজেদের বারণ করি। কারণ হারাম উপার্জন ও হারাম ভোগ করে, অন্যের হক মেরে আল্লাহর রহমত ও মাগফেরাত পাওয়া খুবই দুষ্কর। হারাম ও পাপকে বর্জনের মাধ্যমে ইবাদত বন্দেগী করে রমজান সাওয়াব হাসিল করাই তাক্বওয়া এবং এটাই মাহে রমজানের মূল লক্ষ্য। আল্লাহ আমাদের সকলকে তাওফীক দিন। আমীন।

শেয়ার করুন