৩০ মার্চ ২০২৩


রহমতের সপ্তম দিন : পাপাচারী! অনুতপ্ত হও, চোখ খোলো

শেয়ার করুন

শাহিদ হাতিমী : আজ ৭ রামজান, বৃহষ্পতিবার। রহমতের দশক শেষের পথে। ক্যালেন্ডার অতিক্রম করছে ১৪৪৪ হিজরী। ২০২৩ ঈসায়ী। আলহামদুলিল্লাহ, এযাবত আমরা ৭টি রোজা রাখতে সক্ষম হয়েছি। মানে অমাদের থেকে রামজানের প্রথম সপ্তাহ বিদায়। এবার ১ম রামজান ছিল শুক্রবার, আগামীকাল আমরা পাচ্ছি আরেকটি জুমুআবার। নেকির দিন বা সময়গুলো চটজলদি ফুরিয়ে যায়। অথচ, আমরা গাফিল থেকে যাই। সিয়াম সাধনার মাসে ইদানিং সিলেটে লক্ষ্য করা যাচ্ছে- ঘন ঘন খুনাখুনির ঘটনা ঘটছে। এরমধ্যে আগামী কয়েকদিন দমকা হাওয়া, বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে সিলেট আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা কিছুটা পরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

প্রাক মৌসুম হওয়ায় বছরের এই সময়টিতে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। স্থানীয় ভাষায় যা কালবৈশাখী ঝড় বলা হয়। বিভাগের বেশকিছু জায়গায় আগামী কয়েকদিন কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। এসময় সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা নাও মিলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের উচিত সৃষ্টিকর্তার আদেশ নিষেধের প্রতি গুরুত্ব দেয়া। খুন-খারাবী ছেড়ে সকল বিপদ আপদ থেকে মহান আল্লাহর নিকট পানাহ চাওয়া।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মাহে রামাজানের প্রতি রাতেই একজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, ‘হে পুণ্য অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে পাপাচারী! থামো, চোখ খোলো।’ তিনি আবার ঘোষণা করেন, ‘ক্ষমাপ্রার্থীকে ক্ষমা করা হবে। অনুতপ্তের অনুতাপ গ্রহণ করা হবে। প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করা হবে।’ এ মাসে আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করলে, গরিব-দুঃখীদের প্রতি দান-সদকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে, নিজে সব ধরনের খারাপ কাজ পরিহার করলে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া-ইস্তেগফার করলে, মহান আল্লাহ তা অবশ্যই কবুল করেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এ মাসে চারটি কাজ অবশ্যকরণীয়। দুটি কাজ এমন যে, তার দ্বারা তোমাদের প্রতিপালক সন্তুষ্ট হন। অবশিষ্ট দুটি এমন, যা ছাড়া তোমাদের কোনো গত্যন্তর নেই। এই চারটির মধ্যে একটি হলো কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করা, দ্বিতীয়টি হলো অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা। এ দুটি কাজ আল্লাহর দরবারে অতি পছন্দনীয়। তৃতীয় ও চতুর্থ হলো জান্নাত লাভের আশা করা ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের প্রার্থনা করা। এ দুটি এমন বিষয়, যা তোমাদের জন্য একান্ত প্রয়োজন, (ইবনে খুজাইমা)।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তিনিই (আল্লাহ) তার বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং পাপগুলো ক্ষমা করে দেন’ (সূরা আশ শুরা: ১৫)। অতএব, মুমিন বান্দাদের উচিত রহমাতের দশকটি আমল-ইবাদত, প্রার্থনা-মোনাজাতে কাটিয়ে আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা রহমত লাভে ধন্য হওয়া। (চলবে…)

(লেখক : জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম)

শেয়ার করুন