২৫ মার্চ ২০২৩


মৌলভীবাজারে বিষপ্রেয়োগে ১৩ শকুন হত্যা :মামলা

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারে বিলুপ্তপ্রায় শকুনের ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলার বড়কাপন এলাকায়নএ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বড়কাপন গ্রামের বুড়িকোনা বিল থেকে বনবিভাগের কর্মকর্তারা ১০টি মৃত শকুন উদ্ধার করেন। পরে দুপুরে সেখান থেকে আরও ৩টি মৃত শকুন উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মো. রোকন ও কচনু মিয়া নামের ২জনকে এজাহারভুক্ত করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় এ মামলা হয়। মামলাটি করেন মৌলভীবাজার সদর বন্যপ্রাণী রেঞ্জের বর্ষিজোড়া বিটের বিট কর্মকর্তা আবু নাঈম মো. নুরুন্নবী।

গত শুক্রবার (২৪ মার্চ) ঘটনা তদন্ত করতে ১১ সদস্যের একটি তদন্তদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং আইইউসিএনের কর্মকর্তা ও গবেষক দল।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস ছামাদ জনান, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) কর্মকর্তারা ১০টি মৃত শকুন বস্তায় করে আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। এগুলো ১০-১২ দিন আগে মারা গেছে বলে ধারণা করছি। সব পচে-গলে গেছে। শকুনগুলোর মৃত্যুর কারণ জানতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিলেট ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছি। ধারণা করছি, মৃত গরু কিংবা কুকুর অথবা শিয়াল খেয়ে শকুনগুলো মারা যেতে পারে।’

‘অনেক সময় গরুর চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ইনজেকশন ব্যবহার করা হয় এবং কুকুর-শিয়াল নিধনে গ্রামগঞ্জে বিষ জাতীয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়। এই প্রাণীগুলোর কোনোটি মারা যাওয়ার পর তার মাংস শকুন খেলে তারাও বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে,’ বলেন তিনি।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শ্যামল কুমার মিত্র বলেন, ‘মামলায় মো. রোকন ও মজনু মিঞার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। বন বিভাগ থেকে শকুনের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়া এলাকা থেকে দুটি বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে ওই বোতল দুটি থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।’

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মহাবিপন্ন বাংলা শকুনগুলোর মরদেহ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ল্যাব টেস্টের পর বুঝতে পারা যাবে আসলে কী কারণে শকুনগুলো মারা গেছে।

বন বিভাগ ও আইইউসিএনের জরিপ অনুযায়ী, দেশে ২৬০টি শকুন ছিল। এর মধ্যে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে ছিল ৮০টি। এই ১৩টি শকুনের মৃত্যুর পর সংখ্যাটি আরও কমে গেল।

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশীদ চৌধুরী শকুন হত্যার ঘটনায় মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন-পুলিশ ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়েছে ।

শেয়ার করুন