৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
শাবি প্রতিনিধি

শিক্ষকদের নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, কিছু শিক্ষক এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন যার কারণে শিক্ষকতার পেশা বর্তমানে চ্যালেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, কিছু শিক্ষক রয়েছেন যারা নৈতিক মূল্যবোধ ঠিক রাখতে পারছেন না। তাদের মূল্যবোধ ক্ষয় হয়ে তপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা এই জায়গায় থাকতে চাই না।”
বুধবার সন্ধ্যায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষকতা হচ্ছে সবচেয়ে মহৎ কাজ। শিক্ষকরা নিজের মধ্যে ডেডিকেশন, কমিটমেন্ট নিয়ে তিনি একজন অনুকরণীয় মানুষ হবেন এবং তার জীবনাচরণ সেইরকম হবে, শিক্ষাদান তেমনি করবেন যাতে শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে শিক্ষালাভ করতে পারে। ”
দীর্ঘদিনযাবত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ধারাবাহিক প্রশ্নফাঁসের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের নৈতিক দায়িত্ব সম্পর্কে এমন মন্তব্য করলেন।
তবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শেষে প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে সাংবাদিকরা মন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় ভুল, ক্রটি রয়েছে উল্লেখে করে তিনি বলেন, আধুনিক, উন্নত বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে আমাদের নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসতে।
এজন্য যুগের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিশ্বমানের শিক্ষা, বিশ্বমানের জ্ঞান, বিশ্বমানের প্রযুক্তি, বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
শিক্ষা-গবেষণায় সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘মহাপরিকল্পন’ নিয়ে একটি প্রকল্প গঠন করে সরকারের কাছে পেশ করার জন্য উপাচার্যের প্রতি অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী ও বায়োকেমেস্ট্রি এন্ড মলিকোলার সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক খন্দকার আতকিয়া ফারিহার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগিয় প্রধান ও প্রশাসনিক দপ্তর প্রধানদের সাথে নতুন শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
পরে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন গণিত বিভাগের সহাকারী অধ্যাপক ড. চন্দ্রানী নাগ।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদানের কারণে এ বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’ পুরস্কারে মনোনীত হয়েছে। আমরা শিক্ষা-গবেষণায়ও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক এগিয়ে।”
তিনি বলেন, ২৭ বছরে যতটুকু স্থাপনার দরকার তা আমাদের হয়নি। অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তিনি।
(আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এইচআই/৭ ফেব্রুয়ারি/ঘ.)