৩০ মার্চ ২০২২


ইসরায়েলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৫

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের তেল আবিবে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার তেল আবিবের পূর্বে বেনি ব্র্যাকে হামলার এ ঘটনাটি ঘটে। পরে পুলিশের গুলিতে ওই হামলাকারীও নিহত হয়। গত এক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলে এনিয়ে তৃতীয়বার এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটলো। এদিকে হামলাকারী ব্যক্তি একজন ফিলিস্তিনি অর্থাৎ ইসরায়েলি আরব নাগরিক বলে জানা গেছে।

বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত বেনি ব্র্যাক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এটি দেশটির সবচেয়ে জনবহুল অতি-অর্থোডক্স ইহুদি অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি বলে মনে করা হয়। হামলার ঘটনার পর পুলিশের গুলিতে বন্দুকধারী নিহত হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গত মঙ্গলবার ও রবিবার ইসরায়েলি আরবদের হামলায় ছয়জন নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় ছিলো। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কালো পোশাক পরা এক বন্দুকধারী তার স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে একটি গাড়ির জানালা দিয়ে গুলি চালাচ্ছে।

জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, হামলার এই ঘটনার পর একজনকে গাড়িতে এবং অন্যদের আশপাশের রাস্তায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই ঘটনার পর জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। এ বিষয়ে বুধবার দেশটির সিকিউরিটি ক্যাবিনেটের বৈঠকেও অংশ নেয়ার কথা রয়েছে তার।

বেনেট বলেন, ‘ইসরায়েল আরব সন্ত্রাসবাদ ও হত্যাকাণ্ডের ঢেউয়ের মুখোমুখি হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। আমরা অধ্যবসায় ও একাগ্রতার সঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করব।’

এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রমণকারী ব্যক্তি ২৭ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি যুবক এবং ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরে একটি গ্রামের বাসিন্দা।

ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তাসংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ইসরায়েলিদের হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন। অবশ্য গাজার ক্ষমতাসীন দল ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এই হামলার প্রশংসা করেছে। তবে এ হামলার দায় এখনো কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

এর আগে গত ২৭ মার্চ ইসরায়েলে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী তেল আবিব থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) উত্তরে অবস্থিত হাদেরা শহরে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হওয়া ওই হামলায় অভিযুক্ত দুই হামলাকারী ইসরায়েলের আরব নাগরিক।

এই ঘটনার আগে ইসরায়েলের একটি শপিং সেন্টারে দেশটির একজন আরব নাগরিকের হামলায় চারজন ইসরায়েলি নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছিলেন আরো বেশ কয়েকজন। ইহুদি এই দেশটির পুলিশ জানিয়েছিলো, ইসরায়েলের বিরশেবা শহরে বিআইজি (বিগ) শপিং সেন্টারের বাইরে একজন হামলাকারী ছুরি নিয়ে অন্যদের ওপর হামলা করে এবং এতে তিনজন নিহত হয়।

অন্যদিকে নিহত চতুর্থ ব্যক্তিকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করে ওই একই হামলাকারী। পরে একজন বাসচালক ওই হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করেন। পরে ওই দুই হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করে ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী (আইএস)।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এধরনের হামলার ঘটনাকে জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেন। সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়াসহ হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনও মঙ্গলবারের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন