১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩


রাজনৈতিক সম্প্রীতি গড়ে উঠুক

শেয়ার করুন

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রতিটি রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও সংগঠনের নিজস্ব মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানেও এই মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব এই ইতিবাচক পরিবেশ এগিয়ে নেওয়া এবং রাজনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনা। সে জন্য সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকেই জনপ্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিতে হবে। বিষয়টি এখন সামনে চলে আসছে এ কারণে যে ঢাকার পর সারা দেশেই গত শনিবার থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একই দিন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে। শনিবার দেশের প্রায় সব ইউনিয়নে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। এটি এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আন্দোলন সামনে রেখে রাজপথ দখলে রাখতে চায় উভয় দল। সরকার পতনের আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি মাঠে নামলে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগও। ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ এবং বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আবার অনেক স্থানেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একই দিনে উভয় দল কর্মসূচি পালন করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়েছে। অবশ্য ঢাকায় ইইউ মিশন এক টুইট বার্তায় রাজনৈতিক সহিংসতার খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।
আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে রাজনীতি অনেক সময় উন্নয়নের প্রতিপক্ষ হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সন্ত্রাস-নাশকতায় হুমকির মুখে পড়েছে অনেক অর্জন। অনেকেই অভিযোগ করেন, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অসুস্থ ধারার অনুপ্রবেশ ঘটে গেছে। একের দোষ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে আজও বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশের রাজনীতি। আর সে কারণেই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো উন্নতিও দেখা যায় না। কাদা ছোড়াছুড়ি ও দায় চাপানোর পুরনো অভ্যাস থেকে কোনোভাবেই বেরিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। এতে রাজনৈতিক পরিবেশই শুধু নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাজনৈতিক সম্প্রীতিও। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও আস্থা না থাকলে একসময় প্রকৃত রাজনৈতিক পরিবেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি সুস্থ গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। সব দল যদি নিজের কাজের প্রতি যতœশীল হয়, তাহলে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি নির্মাণ করা তো অসম্ভব নয়। গণতন্ত্রে পরমতসহিষ্ণু হতে হয়। গুরুত্ব দিতে হয় জনগণকে।
আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ বিষয়ে যতœবান হবেন। সহিংসতা থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করতে হবে। অন্যের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে হবে। পারস্পরিক সহমর্মিতায় বাংলাদেশের রাজনীতি গঠনমূলক ও জনমুখী হবে। মুক্তির এই একটিই পথ। ভিন্নপথে গেলে তা গণতন্ত্রকেই ঝুঁকির মুখে ফেলে দেবে।

শেয়ার করুন