১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩


ধসে পড়ছে কোম্পানীগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমার করার কিছু নেই, আমি নিজও যে ভারপ্রাপ্ত। বললেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম। ভারপ্রাপ্ত’দের পদভারে ধসে পড়ছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। যেখানে বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা অফিসারও ভারপ্রাপ্ত হয়ে বহন করছেন দায়িত্বের অতিরিক্ত ভার।

কোম্পানীগঞ্জের ৭৩ টি সরকারি প্রাথমিক নিদ্যালয়ের মধ্যে ২২ টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। সহকারী শিক্ষকদের কাধে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ভার দিয়েই চলছে এই ২২ স্কুল। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন কালে সহকারী শিক্ষকগনকে পাঠদানের পাশাপাশি পালন করতে হচ্ছে অতিরিক্ত গুরু দায়িত্ব। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের নামে বরাদ্দ বেতন-ভাতা ও সুবিধাদি ভোগ করতে পারছেন না তারা। অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় শ্রম ও মেধা ব্যয় করতে হচ্ছে তাদের। অবসর, বদলি ও মৃত্যুজনিত কারণে পদগুলো শূন্য হলেও পরবর্তী সময়ে হয়নি প্রধানশিক্ষক পদে পদায়ন ও নিয়োগ। আর পদায়িত প্রধান শিক্ষক না থাকায় কার্যত এসব বিদ্যালয় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছ।

সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদের দায়িত্ব পালন, পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করায় স্কুলগুলোতে ঠিকমতো পাঠদান হচ্ছে না। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে শিশু-কিশোরদের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। অঙ্কুরেই অভিজ্ঞতা ও মেধাহীন হয়ে ওঠছে তারা। তাইতো জেএসসি এসএসসি-সহ উপরের স্তরগুলোতে ঘটছে ফল বিপর্যয়। আবার ভালো রেজাল্ট করতে না পেরে ঝরে পড়ছে অনেক শিক্ষার্থী। সিলেটে দিন দিন কমছে তুলনামূলক শিক্ষিতের হার। চাকরি ও পেশার হার। বাড়ছে বেকারত্ব ও বখাটেপনা।

ফলে ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার ভিত মজবুত করতে ও ঠিকিয়ে রাখতে বাড়ি বাড়ি শিক্ষক রেখে ছেলে-মেয়েদের পড়াতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকগন। প্রধান শিক্ষকদের পদ শূন্যতায় বিদ্যালয়গুলোর সহকারী শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষকদের অধিকাংশ সময় অফিসিয়াল কাজে উপজেলা ও জেলা সদরে শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। তাদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণ, সভা-সেমিনারে অংশ নেওয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হচ্ছ। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও নৈতিক প্রশিক্ষণ। খেলাধূলা করে বা আড্ডা মেরে সময় কাটায় শিক্ষার্থীরা।

কোম্পানীগন্জ উপজেলার ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। অনেক স্কুলে আবার সহকারী শিক্ষকও পর্যাপ্ত নেই।
সূত্রে প্রকাশ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রধান শিক্ষ পদে নিয়োগ বন্ধ থাকায় সিলেটে এ শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। শূন্যতা লাঘবে সুপারিশ করা হলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রায় একদশক ধরে সেই সুপারিশ ও নির্দেশনস বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক অভিভাবক জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা বলতে এখন বইয়ের বোঝা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আসা-যাওয়া খেলা ও আড্ডা ছাড়া আর কিছুই নেই। অনেক বিষয়ে ক্লাসে শিক্ষকই থাকেন না। তাই বাধ্য হয়ে আমাদেরকে গৃহশিক্ষক রাখতে হচ্ছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি নিজেই ভারপ্রাপ্ত। তবে সরকার ধাপে ধাপে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণ করছে।

শেয়ার করুন