৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩


জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটে ধুঁকছে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক ও কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : আলিমা’র (ছদ্মনাম) গাইনী সমস্যা, রেডিওগ্রাফি করতে হবে, যেতেই হবে সিলেট শহরে। দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা, দাঁত ফেলতে বা চিকিৎসা করাতে যেতে হবে ওসমানী হাসপাতালে অথবা শহরের কোনো ক্লিনিকে। বুকে ব্যথা, অঙ্গে আঘাত। এক্সে করাতে হবে সিলেট শহরে গিয়ে। প্রসূতি ছটফট করছে, সার্জারী প্রয়োজন, পাঠিয়ে দেওয়া হয় নগরে বা দূরবর্তী কোনো ক্লিনিকে।

শুধুমাত্র প্রাথমিক ব্যবস্থাপত্রের জন্যই কি শতকোটি টাকায় নির্মিত চাকচিক্যময় এ ভবন। এটা শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন না লুটপাটের উন্নয়ন?

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে আঙ্গুল তুলে উপর্যুক্ত প্রশ্ন করলেন স্থানীয় এক নাগরিক।

জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটে ধুঁকছে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বর্ণিল রঙের বহুতল ভবন হলেও তা একেবারে অন্তঃসারশূন্য। সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলার লাখো মানুষ। জনবল ও যান্ত্রিক সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

বিগত ১৯৯৭ সালে নির্মিত হয় ৩১ শয্যা বিশিষ্ট সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল। দীর্ঘ ২৬ বছরেও পূর্ণতা পায়নি হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যবস্থা। নিয়োগ করা হয়নি বিভিন্ন বিভাগে পর্যাপ্ত জনবল। প্রতিষ্ঠা করা হয়নি উন্নত মানের একটি ল্যাব। রেডিওলজি সচল না থাকায় সামান্য একটা এক্সরে, ইসিজি বা আলট্রা সোনো করাতে হলে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে রোগী নিয়ে যেতে হয় সিলেট নগরীতে।

প্রথাবস্থায় হাসপাতালে একটি এক্সরে মেশিন দেওয়া হলেও দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মেশিনটি বিকল। হাসপাতালের একজন মাত্র রেডিও গ্রাফারকে প্রেসনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ঢাকার আইসিটিতে। ডেন্টাল এমটিকে প্রেসনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ঢাকাস্থ ডেন্টালে। সেনিটারী ইন্সপেক্টরকে রাজশাহী এবং প্রধান সহকারীকে সিলেট মেট্রাসিটির খাদিমপাড়ায়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি কোন প্রসুতির অস্ত্রোপাচার করা হয়নি এ হাসপাতালে। মাত্র ১ জন পুরুষ চিকিৎসক দিয়ে পরিচালিত হয় গাইনী বিভাগ। হাসপাতালটির জন্য নির্ধারিত পদের প্রায় অর্ধেক পদই শূন্য ১৯ মাস থেকে অ্যাম্বুলেন্স চালকের পদ শূন্য। এতে করে অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলার নানা রোগী।

২০১৯ সালে ৩১ শষ্যা থেকে ৫০ শষ্যায় উন্নীত করা হয়েছে হাসপাতালটি। নতুন ভবনের কাজ শেষ হয় ২০২২ সালে। কিন্তু ৫০ শষ্যার কার্যক্রম এখনও চালু হয়নি।

সিলেটের সিভিল সার্জন এস,এম, শাহরিয়ার ওই হাসপাতালে জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল চালু করা হলে পর্যাপ্ত জনবল দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন