৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘরে ঝুলছে তালা। বরাদ্দপ্রাপ্তরা থাকছেন না উপহারের ঘরে। কেউ কেউ আবার প্রশাসনের লোকজন আসার খবর পেলে দু’এক দিনের জন্য আসেন। আবার বেশ কয়েকটি ঘরে বরাদ্দপ্রাপ্তদের পরিবর্তে অন্য কেউ বসবাস করছেন। এছাড়া কয়েকটি ঘর ভাড়ায় দিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা যায়, উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শিমুল বাগান ও মানিগাঁওয়ে অবস্থিত দুটি মুজিবপল্লীর ১৪৬টি ঘরের মধ্যে ৩০টি ঘরের দুয়ারে ঝুলছে তালা। ১০-১২টি ঘরে বরাদ্দপ্রাপ্তদের পরিবর্তে অন্য কেউ বসবাস করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অন্যের ঘরে যারা থাকছেন, তাদের কয়েকটি পরিবারকে প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্ত ঘর মালিককে দিতে হচ্ছে ভাড়া।
এমনি একজন ভাড়াটিয়া ২ নাম্বার পল্লীর ১৯ নাম্বার ঘরে বসবাসকারী কুহিনূর বেগম বলেন, আমরা নিখিল বাবুর ঘরে থাকি এবং সবুজ মিয়ার বৈদ্যুতিক মিটার ব্যবহার করি।
তিনি ভাড়া দেওয়ার কথা প্রথমে মুখে আনলেও পরে অস্বীকার করে বলেন, আমরা শুধু সবুজ মিয়ার বিদ্যুৎ বিল বাবৎ ১০০ টাকা দেই।
তিনি আরও বলেন, নিখিল ও সবুজের জায়গা জমি আছে। তারা এখানে আসার সম্ভাবনা নেই। কোহিনূর বেগমের মতো ১ নাম্বার পল্লীতে অন্যের ঘরে আশ্রিত জয়নাল মিয়া, ফাহিমা বেগম ও আয়েশা বেগম বলেন, আমাদের মাথাগোঁজার সামান্য জায়গা নাই। তাই এখানে যাদের ঘর খালি পড়ে আছে তাদের ঘর চেয়ে থাকছি। তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে করুণ কণ্ঠে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার এরকম একটি ঘর যদি আমাদেরকে দিতেন তাহলে স্বামী সন্তান নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারতাম।
১নং মুজিবপল্লীর ১৭ নাম্বার ঘরের মমতা বেগম ও ৩৮ নাম্বার ঘরের শিরিন বেগম জানান, আমরা ভূমিহীন ও গৃহহীনরা প্রধানমন্ত্রীর অমূল্য উপহারের কারণে আজকে মাথাগোঁজা জায়গা পাইছি। আমরা এখানে শুরু থেকেই আছি। তবে এখানে ১৯টির মতো ঘর আছে, যেখানে কোনো পরিবার থাকে না। ঘরগুলো সারাক্ষণ তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে। এদের মধ্যে কয়েকটি পরিবার দুই তিন মাস পরে পরে আসে। দুএক দিন থাকে আবার চলে যায়।
২নং পল্লীর ১৭ নাম্বার ঘরের বাসিন্দা শহরবানু বলেন, একটা সময় গেছে ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে অন্যের বাড়িতে থাকতে হইছে। অনেকগুলো রাত জেগে জেগে পার করতে হইছে। আজকে আল্লাহর রহমতে ও প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে একটি থাকার ঘর পাইছি। এখন খুব ভালো আছি এমন একটি ঘর পেয়ে। তবে এখানেও ১১টি মতো ঘর তালাবদ্ধ থাকে।
এসব ঘর তালাবদ্ধ থাকার বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘর সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের খুঁজে বের করে দেওয়া হয়নি। এছাড়া যাদেরকে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাদের অধিকাংশই উপজেলার অন্য ইউনিয়ন থেকে এখানে এসেছিলেন। আবার কেউ কেউ এখানে এসে দীর্ঘদিন কোনো কাজ না পেয়ে বেকার অবস্থায় দিনযাপন করছিল। এসব কারণে বরাদ্দকৃত ঘরগুলো এখন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে।
মুজিবপল্লীর প্রতিবেশী মানিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা দানা মিয়া বলেন, আমার প্রায়শই মুজিবপল্লীতে আসা হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে ভূমিহীন ও গৃহহীনরা এখানে আশ্রয় পেয়েছে। কিন্তু কষ্ট লাগে যখন দেখি অধিকাংশ ঘরে এখন পর্যন্ত তালাই খোলা হয়নি। অনেকের জায়গা, জমি, ও ঘর-বাড়ি থাকা সত্যেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঘর বরাদ্দ নিয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা বলেন, বরাদ্দপ্রাপ্তরা ঘরে থাকছে না এ বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে একজন ভূমি ও গৃহহীনকে তালাবদ্ধ একটি ঘরে থাকতে দিয়েছি।