৩০ জানুয়ারি ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ভালো নেই সিলেটের মানুষ। নাভিশ্বাস অবস্থা। এর মধ্যেই সিলেটের বাজারে রেকর্ড ১২৫ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। উপজেলা থেকে গ্রামেগঞ্জে তা আরো ২-৫ টাকা পর্যন্ত বেশি।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, চিনি, বিশেষ করে প্যাকেটজাত চিনির সরবরাহ চাহিদা ও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম। চিনির সরবরাহ কমায় ও দাম বাড়ায় বেড়েছে মিষ্টিজাত ও বেকারি পণ্যের দামও।
বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্যাকেটজাত চিনির সংকট রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী প্যাকেটজাত চিনি সরবরাহ করছেন না ডিলাররা। আবার যা পাওয়া যাচ্ছে, তাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বাজারে এখন এক প্যাকেটজাত কেজি চিনি ১২৫ এবং খোলা চিনি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন্দরবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, কোম্পানিগুলো চিনি দিচ্ছে না। চিনি নিতে হলে শর্ত হিসেবে কোম্পানিগুলো লবণ নিতে বলছে। অর্থাৎ চিনি নিতে হলে একই পরিমাণ লবণ নিতে হবে। এজন্য কম করে চিনি নেয়া হচ্ছে। কোম্পানি থেকে আমাদের বলা হচ্ছে বর্তমান মূল্যে চিনি বিক্রি করা লোকসান।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পাঁচ মাসের ব্যবধানে চার দফায় বাড়ানো হয়েছে চিনির দাম। ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি খোলা চিনি ৭৪ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনির দাম ৭৫ টাকা ছিল। এর একদিন পরই ২২ সেপ্টেম্বর দাম বাড়িয়ে খোলা চিনির কেজি ৮৪ এবং প্যাকেটজাত চিনি ৮৯ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। দুই সপ্তাহের মাথায় ৬ অক্টোবর কেজিতে আরো ৬ টাকা বাড়িয়ে খোলা চিনি ৯০ এবং প্যাকেটজাত চিনির কেজি ৯৫ টাকা করা হয়। এর পর ১৭ নভেম্বর থেকে চিনির দাম আরো এক দফা বাড়ায় সরকার। এ দফায় কেজিতে ১৩ টাকা বাড়িয়ে প্যাকেটজাত চিনির দাম নির্ধারণ করা হয় ১০৮ টাকা। আর খোলা চিনির কেজি ধরা হয় ১০২ টাকা।
সর্বশেষ ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স এসোসিয়েশন প্রতি কেজি চিনির দাম পাঁচ টাকা বাড়িয়ে খোলা চিনি ১০৭ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনি ১১২ টাকা করার ঘোষণা দেয়। নতুন এ দাম পহেলা ফেব্রæয়ারি থেকে কার্যকর হবে। যদিও নতুন নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে এখন ১৩ টাকা বেশি দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর কালিঘাটের ব্যবসায়ি এনামুল হক বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহকারীদের কাছ থেকে চিনি পাচ্ছি না। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম প্রতি মণে (প্রায় ৩৭ কেজি) ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বেড়েছে।
মিরাবাজারের খুচরা বিক্রেতা আলম মিয়া জানান, তারা ১২০ টাকা কেজি দরে খোলা চিনি ও ১২৫ টাকা কেজি দরে প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি করছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ডিলাররা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী প্যাকেটজাত চিনি সরবরাহ করছেন না।’ একই অভিযোগ আমরখানার মুদি দোকানী আনোয়ার হোসেনের। তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের কাছ থেকে চিনি মিলছে না। আড়তদার কাছ থেকে বেশি দাম দিয়ে প্যাকেটজাত চিনি কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে।
কাজিটুলায় চিনি কিনতে আসা কামাল মিয়া বলেন, ৭০ টাকার চিনি ১২৫ টাকা হয়ে গেছে। এটা ভাবতেও অবাক লাগে। ওদিকে অন্যান্য জিনিসের দাম তো আগেই বেড়েছে। এভাবে সবকিছুর দাম বাড়তেই থাকলে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।
এদিকে চিনির এই ঊর্ধ্বমূল্যের দিনে কাঁচা বাজারেও স্বস্তি মিলছে না। ভরপুর শীতের মৌসুম চললেও ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে সবজির দাম। প্রতিটি সবজির দাম এরই মধ্যে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা সরবরাহ ঘাটতির কথা বললেও বাস্তবে তেমনটি দেখা যায়নি। বরং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের চিত্রই দেখা গেছে। এছাড়া সবজির মতো রসুন ও শুকনো মরিচের দামও ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। সিলেট নগরীর বন্দরবাজার, আম্বরখানা, সুবিদবাজার, রিকাবীবাজার ও মিরাবাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে- সপ্তাহের ব্যবধানে এখন প্রতি কেজি আদা ১৫০-২০০ টাকায় ঠেকেছে। রসুনের দামও বেড়ে হয়েছে ১৫০-১৮০ টাকা।
বাজারে তুলনামূলক কিছুটা কম দামে দেশি জাতের আদা-রসুন থাকলেও সেগুলোর চাহিদা কম। কিছুদিন আগেও যে শুকনো মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হতো ১০০-১৫০ টাকায় তা এখন ৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এছাড়া প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, ধনিয়া পাতা ১২০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, ঝিঙ্গা ৭০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা ও পেঁপে ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকা, ফুলকপি ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।