২৪ জানুয়ারি ২০২৩
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : ‘মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলাম। এখন যদি কেউ গরম কাপড় দিতেন, তবে এই ঠান্ডায় বাঁচতে পারতাম।’—কথাগুলো বললেন বাচ্চু মিয়া। সত্তরোর্ধ্ব বয়স তার। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা তিনি।
মৌলভীবাজার সদরের চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাতারকাপনে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীন মানুষদের জন্য আশ্রয়ণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। মনুনদের তীরে গড়ে ওঠা এই আশ্রয়ণ কেন্দ্রে থাকেন ৪৩টি পরিবার। এখনও সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থার কাছ থেকে গরম কাপড় পাননি বলে অভিযোগ করেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।
সরেজমিনে মনুপাড়ের আশ্রয়ণ কেন্দ্র গিয়ে দেখা যায়, বাচ্চু মিয়াসহ সেখানকার বসবাসকারীরা ঘরের ব্যবহার্য ছেঁড়া, পুরোনো গরম কাপড় রোদে শুকিয়ে নিচ্ছেন। সকালে রোদের দেখা না পেলেও দুপুরের দিকে তাপহীন সূর্যের আলো ফুটে উঠে। এতেই শীতার্ত মানুষজন ভেজা কাপড় শুকানো চেষ্টা করেন।
আলাপকালের বাচ্চু মিয়া বলেন, সরকার থেকে পাওয়া দেড় বছর ধরে এই আশ্রয়ণ কেন্দ্রে আছি। এবার প্রচুর শীত। তার ওপর নদীর ঠান্ডা বাতাস। বাইরে যেমন ঠান্ডা, ঘরের ভেতরেও ঠান্ডা লাগে।
সরকারি-বেসরকারিভাবে কোনো শীতবস্ত্র পাননি জানিয়ে আরেক বাসিন্দা বনো মালাকার ঢাকা মেইলকে বলেন, আমরা গরীব মানুষ, কাজকর্ম নেই। এই শীত থেকে রক্ষা পেতে গরম কাপড় চাই। কেউ তো এবার গরম কাপড় নিয়ে আসলেন না।
এখানকার বাসিন্দা দিনমজুর ইমন মিয়া বলেন, প্রচন্ড শীত, তাই কাজে যাওয়া যাচ্ছে না। শীতে কাজও করতে পারছি না। আমাদের তেমন গরম কাপড়ও নেই। শীতে কষ্ট হচ্ছে। সরকারের কাছে দাবি জানাই, আমাদের গরম কাপড় দিয়ে সাহায্য করলে আমাদের ভালো হয়।
ঘরে গরম কাপড় যা আছে তা দিয়ে এবারের শীত নিবারণ অনেক কষ্টের জানিয়ে আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দা অভিরাম রবিদাস বলেন, গত কয়েক দিন ধরে সকালে সূর্যের দেখা মিলছে না। দুপুরের সময় অল্প সময়ের জন্য রোদ উঠে, তখন ঘরের পুরাতন স্যাঁতসেঁতে গরম কাপড় রোদে দিয়ে শুকানোর চেষ্টা করি।
জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে জেলার ৬৭ ইউনিয়ন ও পাঁচ পৌরসভায় ৩৫ হাজার ২৮০টি কম্বল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জেলার ৭টি উপজেলার প্রতিটা উপজেলায় নগদ দুই লক্ষ টাকা করে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আরও কম্বলের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। সেগুলো পেলে বিতরণ করা হবে বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, তীব্র শীতে শীতার্ত মানুষের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে জেলা প্রশাসনের কম্বল বিতরণ অব্যাহত থাকবে।