১৯ জানুয়ারি ২০২৩


পাসপোর্ট অফিসে ঝটিকা অভিযান, দুই দালালকে দণ্ড

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : কর্তা বদল হলেও, বদল হয়নি কর্ম। দালালদের দৌড়াত্ব চলছে সমান তালে। লাগামহীন ঘুষ ও দূর্ণীতির অভিযোগ নিয়ে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক একেএম মাজহারুল ইসলাম সিলেট ছাড়লেও তার চেয়ারে বসা উপ পরিচালক নতুন করে অফিস প্রদানের দায়িত্ব নিলেও পরিবর্তন হয়নি সেবার মানের। পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের লাইন শুরু হওয়ার আগেই শুরু হয়ে যায় দালালদের লাইন, এমন অভিযোগ ভূক্তভূগিদের। আর এই সব অপকর্মজজ্ঞ চলে কর্তাব্যাক্তিদের ছত্র ছায়ায়। এমন অভিযোগের সূত্রধরেই সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসময় দুই দালালকে আটক করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড প্রাপ্ত দুইজন হলেন এয়ারপোর্ট থানার খাসদবির এলাকার মোঃ আব্দুল কুদ্দুস ছেলে মোঃ হীরা মিয়া (৩৪) এবং কোম্পানিগঞ্জ, চাটিবহর, নোয়াগাও এলাকার মদরিছ আলীর ছেলে নাজিম উদ্দিন (২৩)। দুইজনকে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৬ ধারা এবং ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় মোট ৭০০ টাকা অর্থদন্ড করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় দুই দালালকে জরিমানা করা হয়েছে।

সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সেবা নিতে আসা মানুষকে। দালালদের খপ্পরে পরে নানা হয়রানির শিকার হন তারা এমন অভিযোগও পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে সকাল থেকে জেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনা আক্তারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

শাহিনা আক্তার জানা, সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত সিলেট পাসপোর্ট অফিসে অভিযান পরিচালনা করেছি আমরা। এসময় দুই দালালকে জরিমানা করেছি। বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাসপোর্ট অফিসে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুই দালালকে জরিমানা করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছে আর কোনোদিন এরকম কাজ করবে না। আমাদের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়েছে ঘুষ নেয়ার ধরনও। এখন আর ফাইলে হাতে লিখে কোন মার্কা বা বিশেষ কোন চিহৃ দেয়া হয়না। এই মার্কা বা চিহৃ দেয়া হয় আবেদনকারীর ই-মেইল এড্রেসের স্থানে। কর্তাব্যাক্তিরা নির্দিষ্ট দালালদেরকে নির্দিষ্ট ইমেইল দিয়ে দেন। আর এই ইমেইল থাকলেই কেবল ভোগান্তি ছাড়া পাসপোর্ট জমা দেয়া যায়।

এছাড়াও কাক ডাকা ভোর থেকে পাসপোর্টের আবেদনকারীরা লাইনে দাঁড়ালেও ১০৮ নাম্বার কাউন্টার খোলার আগেই উৎকোচ গ্রহনের মাধ্যমে আবেদনকারীদের বাইপাস করে তথ্য যাচাইপূর্ব নিয়ে যাওয়া হয় ছবি তোলার কক্ষে। এমনকি কর্তব্যরত কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও অফিসের কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীর মাধ্যমে লাইনে থাকা ব্যাক্তিরাও লাইন ডিঙ্গিয়ে দ্রুত আবেদন জমা দিয়ে যান। মাঝে মধ্যে এসব বিষয় নিয়ে বাকবিতাণ্ডা সৃষ্টি হলে উপ উপ পরিচালকও ঘটনাস্থল পরিদর্শ করে থাকেন নিরব ভূমিকায়।

সচেতম মহল মনে করেন, এসব ঘুষ দূর্ণীতি বন্ধ না হলে পাসপোর্ট অফিসে আবেদনকারীদের ভোগান্তি কোন দিনও বন্ধ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত রাখার দাবীও জানান তারা।

সরেজমিন পাসপোর্ট অফিস ঘুমে এসব অভিযোগো সত্যতাও পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন