৮ মার্চ ২০১৮


নলুয়া হাওরের বাঁধে এখনও মাটি পড়েনি

শেয়ার করুন

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওরের ফসলরক্ষা কয়েকটি বেড়িবাঁধে এখনো কাজ শুরু হয়নি। ফলে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। হাওর পরির্দশন করতে গিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা কৃষকদের তোপের মুখে পড়েন।

সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম হাওর জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়ার হাওর পরির্দশনকালে এমন দৃশ্য দেখা যায় হামহামি খালের নিটকস্থ ভূরাখালী সড়কে।

সরজমিনে হাওর পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ভূরাখালী সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল যোগে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাণ্টু দাসকে নিয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিও জগন্নাথপুর উপজেলার সুইস গেট সংস্কারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা

তোফাজ্জুল হোসেন নলুয়ার হাওর পরির্দশনকালে স্থানীয় কৃষকরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও (জগন্নাথপুরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের দায়িত্বরত কর্মকর্তা) মনে করে মোটরসাইকেল আটকীয়ে, কৃষকরা তার কাজে জানতে যান কেন? এখনও নলুয়ার হাওরের বাঁধে একধলা মাটি পড়েনি। এবার যদি ফসল পানিতে তলিয়ে যায় তাহলে এর ক্ষতিপূুরন কে দেবে। আমরা এতো কষ্ঠ করে চাষাবাদ করছি। আপনাদের কারনে সেই ফসল নষ্ট হতে পারেনা।

এ সময় ওই কর্মকর্তা কৃষকদের বলেন, আমি হাওরের সুইস গেট (রেগুলেটার) সংস্কারের দায়িত্বে রয়েছি। বেড়িবাঁধের দায়িত্ব আমার নয়। এক সপ্তাহের মধ্য সুইস গেটগুলো মেরামত করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। তাই হাওরে এসেছি। এ কথা শুনার পর কৃষকরা শান্ত হন।

কৃষক আকিকুর রহমান জানান, গত বছরের পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নিন্মমানের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ফসলডুবির ঘটনা ঘটে। এবার ১০ হাল (১২০ কেদারা) জমিতে বোরো আবাদ করেছি এবার। এখনো হাওরের বেড়িবাঁধে মাটি পড়েনি। যে কারনে শঙ্খায় ভোগছি। দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে হাওরের ফসলরক্ষার দাবী জানিয়েছেন তিনি।

নলুয়ার হাওর ঘুরে দেখা যায়, বৈশাখী, শাল্লিকা, ডুমাখালি, দাসনাগাঁও কুরেরপাড়, হালেয়া পতিত, ভূরাখালি রাখালগাছনহ বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধে কাজ শুরু হয়নি।

দাসনাগাঁও বেড়িবাঁধের পিআইসির ( প্রকল্প বাস্তবায়ক কমিটি) সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য নান্টু দাস জানান, বেড়িবাঁধের ওর্য়াক অর্ডার ( কাজের লিখিত অনুমতি) পায়নি। কৃষকদের কথা চিন্তা করে নিজের উদ্যোগে প্রায় এক লাখ টাকা খরছ করে বাঁধের কাজে। সরকারী কোন বরাদ্দ এখনো পাননি বলে তিনি জানান।

হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাচাঁও আন্দোলন কমিটির জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম জানান, এখনো হাওরের বেড়িবাঁধগুলোর কাজ শুরু হয়নি। এমতাবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে আশংকা দেখা দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার জন্য তিনি আহবান জানিয়েছেন।

জগন্নাথপুরের বেড়িবাঁধের কাজের দায়িত্বরত সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও ফয়জুল্লাহ জানান, যথাসময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ হবে। সেলক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, এবার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবছর ৮১টি সিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ক কমিটি) গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, যে সব বাঁধের ওর্য়াক অর্ডার হয়নি দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই সব বাঁধের অর্ডার প্রদানের জন্য সংশিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানান, উপজেলার নলুয়া, মইয়া, পিংলাসহ ছোট বড় ১৫টি হাওরের প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর বোরো ফসলের চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে।

(আজকের সিলেট/৮ মার্চ/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন