১৭ জানুয়ারি ২০২৩


উন্নত জাতের সরিষা চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা!

শেয়ার করুন

শাহ্ মাশুক নাঈম, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: স্বল্প সময়ে সরিষা চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। আমন ধান সংগ্রহের পর জমি অনাবাদি না রেখে সরিষা চাষ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন অনেক কৃষকেরা। একই জমিতে বছরে তিনবার ফসল উৎপাদন হচ্ছে। কম খরচ উন্নত জাতের ক্যানোলা ৮৪ সরিষা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। ফলে প্রতি বছরই বাড়ছে সরিষা চাষ। প্রচলিত দেশী সরিষার চেয়ে ক্যানোলা-৮৪ ফলন বেশি হওয়ায় চাষিরা আগ্রহী হচ্ছে বলে কৃষকেরা জানিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বগুলা ইউনিয়নের নোয়াডর গ্রামে প্রায় ৩ একর জমি জুড়ে ক্যানোলা-৮৪ শরিষার হলুদে ফুল ফুটেছে জমিন জুড়ে।খুজ নিয়ে জানা যায় সরিষা ক্ষেতের মালিক নোয়াডর গ্রামের মৃত্য নূরুল হকের ছেলে ডাঃ হাফিজুর রহমান।

তিনি পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। গ্রাম ডাক্তার হয়েও তিনি ৩ একর জমিতে ক্যানোলা সরিষার চাষ করেছেন। তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিজের প্রয়োজন মেটাতে প্রতি বছর সরিষার চাষ করি। এবারও করেছি’ অন্য বছরের তুলনায় এবার সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে প্রতি বছর ২০-২২ মন সরিষা বিক্রি করি।

জানতে চাইলাম ডাক্তারী পেশা রেখে সরিষা চাষে মনোযোগী কেন? তিনি বলেন, কৃষির প্রতি আমার ছোট বেলার নেশা। চিন্তা করলাম আমনের পরে জমি অনাবাদিক থাকতো তাই সরিষা চাষ করলাম। সরিষা আবাদে যেমন সেচের প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া কম সময়ে সরিষা আবাদ করা যায়। সরিষার তেলের মাঝে রয়েছে অনেক ওষুধি গুণ। সরিষার খৈল পশুখাদ্য ও জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধিও কাজে ব্যবহার হয়। সরিষার গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া জমিতে সরিষার আবাদ করলে ওই জমিতে সরিষার পাতা পড়ে জমির খাদ্য চাহিদা অনেকাংশে মিটিয়ে থাকে।

কৃষি কাজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরো বলেন, মাঝে মধ্যে প্রাকৃতিক কারণে ফসল নষ্ট হলেও তিনি কখনই হাল ছাড়েননি। নতুন উদ্যামে নতুন করে ফসল আবাদ করতে পারি। ভালো মাটি ও আবহাওয়া কৃষির জন্য বেশ উপযোগী বলে মনে করেন এই সফল কৃষক।আগে শুধু ধান চাষাবাদ করলেও তিনি এখন সব ফসল ফলান। বর্তমান সময়ের কৃষি প্রযুক্তি তার কাছে খুবই সহজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গ্রামের আরও সরিষা চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,এবার প্রতি বিঘা জমি থেকে ৬-৭ মণ সরিষা উৎপাদনের আশা করছেন। এবং সরিষা চাষের অনুকূল পরিবেশের কারণে এবার চলতি রবি মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ মহসিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ইনকিবকে বলেন, এ বছর আমরা কৃষকদেরকে ক্যানোলা সরিষার বীজ দিয়েছি ক্যানোলা ফলন ভাল। ক্যানোলা স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য উপকারী হিসেবে বিবেচিত এবং ব্যাপকভাবে মানুষ দ্বারা ব্যবহৃত হয়। তেল ফসলের মধ্যে সরিষা অন্যতম। এক সময় অধিকাংশ মানুষ সরিষার তেল দিয়েই বিভিন্ন খাবার রান্না করে খেত। সে সময় মানুষের শরীরে রোগও কম হতো। কালের বিবর্তনে সরিষার আবাদ হ্রাস পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে বাজার সয়লাভ করে দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে অর্থের অপচয় করছেন। এতে সরিষার দাম কমে যায়

শেয়ার করুন