২৮ জানুয়ারি ২০১৮
অতিথি প্রতিবেদক : একের পর এক অপকর্মের অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হয়। বিলুপ্তের নেপথ্যে হত্যা, কোন্দল আর একেরপর এক সংঘর্ষ আর গোলাগুলি ঘটনা। অন্যদিকে মহানগর কমিটি থাকলেও আড়াই বছর ধরে চলছে চারজনের ওপর ভর করে। দুই বছর মেয়াদের এ কমিটি আড়াই বছরেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ। চার নেতাই মহানগর ছাত্রলীগের এখনো হর্তাকর্তা। জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়া নেতাকর্মীরা যেমন ক্ষুব্ধ তেমনি হতাশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন এ ছাত্র সংগঠনে কমিটি না থাকার কারণে বার বার অভ্যন্তরিণ দ্বন্দ্ব মাথা ছাড়া দিয়ে ওঠছে।
গত বছরের ১৮ অক্টোবর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রলীগের সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৃজন ঘোষ সজীব, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক চিন্ময় রায় ও উপসাহিত্য সম্পাদক রহমত উল্লাহ খান শাকুর সিলেটে বুথ খুলে জেলার পদপ্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত সংগ্রহ করেন। তবে এ পর্যন্ত কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। তিন শতাধিক কর্মী কেন্দ্রে বায়োডাটা জমা দিলেও নতুন কমিটির কোনো হদিস নেই। কমিটি না থাকায় নেতাকর্মীরা এখন বিভিন্ন বলয়ে পরিচিত হচ্ছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতারা ছাত্রলীগের কর্মীদের নিজ বলয়ভুক্ত করে ক্যাডার হিসেবে ব্যবহার করছেন। প্রভাবশালী নেতাদের টানা-হেঁচড়ায় এখন খন্ড-বিখন্ড সিলেট ছাত্রলীগ।
পদ-পদবি হীন ছাত্রলীগ নেতাদের এখন বড় পরিচয় হর্তাকর্তাদের গ্রুপ। কেউ করছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের গ্রুপ, কেউ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, কেউ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকের নাসির উদ্দিনের, কেউ বা আবার আজাদ-রনজিৎ অথবা বিধান শাহার গ্রুপ। গ্রুপিং রাজনীতিতে রয়েছেন পিযূষের হাত ধরে।
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সিনিয়র নেতারা এই গ্রুপিং বিভক্তির পথ তৈরি করেছেন। তবে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতারা এমন অভিযোগের দায় নিতে নারাজ।
এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সদ্যসাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি। আর সদ্যসাবেক সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরীর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অবশ্য জেলা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, সংগঠনের অনেককে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে দলের অভ্যন্তরে থাকা গডফাদাররা কর্মীদেন মামলায় ফাঁসিয়েছেন। তিন শতাধিক কর্মী জেলার বিভিন্ন পদের বিপরীতে কেন্দ্রে জীবন বৃত্তন্ত জমা দিয়েছেন। কিন্তু কমিটি এখনও ঘোষণা হয়নি।
অপরদিকে সূত্র জানায়, মহানগর নেতারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন। নতুন বছরের শুরুতেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি আসার কথা ছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তা হচ্ছে না। মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বার বার কমিটি আসবে বলে কর্মীদের আশ্বস্ত করলেও তা আলোর মুখ দেখছে না। ২০১৫ সালের ২০ জুলাই চার সদস্যবিশিষ্ট মহানগর কমিটি ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল। ওই কমিটিতে আবদুল বাসিত রুম্মানকে সভাপতি, আবদুল আলীম তুষারকে সাধারণ সম্পাদক এবং সজল দাস অনিক ও সৈকত চন্দ্র রিমিকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছিল। ওই কমিটি এখনও পূর্ণতা পায়নি। দুই বছর মেয়াদের কমিটির মেয়াদ আড়াই বছর চলে গেলেও এখন পর্যন্ত চারজনে মহানগর ছাত্রলীগ।
মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তোষার বলেন, শিগগিরই মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হবে।
এদিকে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছাত্রলীগের কর্মী মিয়াদ আহমদ খুনের পর পদত্যাগ করেছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ইশতিয়াক চৌধুরী। তার পদত্যাগের পর জেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্র।
(আজকের সিলেট/২৮ জানুয়ারি/ডি/কেআর/ঘ.)