২২ জানুয়ারি ২০১৮
শাবি প্রতিনিধি

নানা উৎসব আর বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদ্যা ও সঙ্গীতের দেবী সরস্বতীর আরাধনায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদযাপিত হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব সরস্বতী পূজা।
হিন্দু ধর্মাব্যলম্বীদের উৎসব হলেও ধমর্-বর্ণ নির্বিশেষে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে নেমেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বাইরে থেকে ছুটে আসা মানুষের ঢল।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের শুরু হলেও শিক্ষার্থী বলছেন, এ উৎসব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিশ্বাস নিয়ে তারা স্বতস্ফ’র্তভাবেই অংশগ্রহণ করেছেন উৎসবে।
প্রতিদিনের পোশাকের পরিবর্তন করে মেয়েরা পরেছেন বাহারি রঙের শাড়ী; ছেলেরা পরেছেন পাঞ্জাবী। বাড়তি সৌন্দর্যের জন্য মেয়েদের কেউ কেউ শাড়ীর সাথে মিল রেখে মাথায় গোঁজেছেন নানান রঙের ফুল।
প্রকৃতির লাবণ্যের সাথে পূজাকে ঘিরে সাজানো ক্যাম্পাসের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়ে শহর থেকে ছুটে এসেছেন নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।

বিভিন্ন বিভাগসহ নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে ৩০টির বেশি মন্ডুপে প্রতিমা স্থাপন করে পঞ্চম তিথির শুভালগ্নে বাণী অর্চনার সাথে আনন্দে উল্লাসে মেতে উঠে শিক্ষার্থীরা।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বাইরে সবাই মিলে একসাথে প্রসাদ খাওয়া, গানের সাথে নাচ আর রঙ খেলায় মেতে উঠার আনন্দ সরস্বতী পূজার অন্যতম আকর্ষণ ছিল।
কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক শাশ্বত দাস মান্না বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সকল কাজেই সকল ধর্মের শিক্ষার্থীরাই যুক্ত ছিলেন।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতি কর্মী আল ফয়সাল অনিক বলেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-ভাবনার প্রসার ঘটছে। সরস্বতী পূজার উৎসবে এর প্রতিচ্ছবি আমরা দেখতে পাই। পূজায় সকল আয়োজনের মাধ্যে এই দৃশ্যটা সবচেয়ে ভালো লাগার।
বাবা-মায়ের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরতে এসেছে শহরের উদয়ন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আকাশ দেব নাথ।
সে বলে, আমি প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখ, সরস্বতী পূজা কিংবা অন্য কোন অনুষ্ঠানে বাবা-মায়ের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। শহরের চেয়ে এখানকার আয়োজন বেশ সুন্দর হয়।
ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সাথে বাইরে মানুষের সমাগমে জনস্রোত নামা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শাকিল ভুইয়া বলেন, সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে যে সম্প্রতি রয়েছে, তার প্রতিচ্ছবি দেখা যায় বিভিন্ন পূজাসহ বাঙ্গালির বিভিন্ন উৎসবে। প্রতিবছরই ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে অনেক লোক আসেন অনুষ্ঠান পরিদর্শন করতে।
“ আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় সজাগ থাকি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। এর পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকে বলা হয়েছে তাদের নজরদারী বাড়াতে। ”
(আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এইচআই/২২ জানুয়ারি/ঘ.)