২৫ নভেম্বর ২০২২


কুমারগাঁও-এয়ারপোর্ট চার লেন সড়কের কাজের উদ্বোধন শনিবার

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : বহু প্রতীক্ষিত সিলেটের কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ কাজ শুরু হচ্ছে শিঘ্রই। আগামী ২৬ নভেম্বর-২২ শনিবার জাতীয় মহসড়ক মানে ৪ লেনে উন্নীতকরণ কাজের উদ্বোধন করবেন সিলেট-১ আসনের সাংসদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। বিকাল ৪ টায় তিনি সিলেট শহরতলির তেমুখি পয়েন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করবেন।

সড়কটি ৪ লেনে উন্নীত হলে পাথরবোঝাই ট্রাকগুলো আম্বরখানার দীর্ঘ যানজট এড়িয়ে কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট হয়ে জাতীয় মহাসড়কে পৌঁছাবে। এতে সিলেট শহরের যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে।

প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়কটি নির্মাণ করা হয় ২০১২-১৪ অর্থবছরে। পরবর্তীতে পাথরবাহী ট্রাক চলাচল, বিমানবন্দর অভিমুখীদের সুবিধা এবং পর্যটকবাহী যান চলাচলের জন্য সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার দাবি ওঠে। এর প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। পরের বছর চার লেন সড়কের সাথে দুটি সার্ভিস লেন যুক্ত করে তৈরি করা হয় সংশোধিত প্রস্তাবনা। ২০১৯ সালের দিকে শুধুমাত্র চার লেনের প্রস্তাবনা জমা পড়ে মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু কাজের কাজ আর কিছুই হচ্ছিল না। আওয়ামী লীগ চলতি মেয়াদে সরকার গঠনের পর সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে গতি আনেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২৭ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। সড়কটি ৪-লেনে উন্নীত হলে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের সঙ্গে সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার যাতায়াত সহজ হবে এবং সিলেটের যানজট কমে যাবে। একইসাথে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের সাথে সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার যানজট মুক্ত নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে। এছাড়া সিলেটের ভোলাগঞ্জ হতে চলাচলকারী ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের জন্য বিকল্প সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে সিলেট শহরে যানজট নিরসন হবে।

সড়কটি সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ছয় কিলোমিটার কুমারগাঁওয়ে শুরু হয়েছে এবং বাদাঘাট দিয়ে হয়ে এয়ারপোর্টের নিকটে ওসমানী বিমানবন্দর সড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। বাদাঘাট লিংক রোডসহ সড়কটির মোট দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ৭৮০ কিলোমিটার এবং বিদ্যমান প্রস্থ পাঁচ দশমিক ৫০ মিটার। সড়কটির শেষ প্রান্ত থেকে ৮শ’ মিটার দূরে সিলেট সড়ক শুরু হয়েছে, যা বড় বড় পাথর কোয়ারির সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। ভোলাগঞ্জ হতে পাথর বহনকারী ট্রাকগুলো সিলেট শহরের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে, তবে নগরীর কেন্দ্রস্থল আম্বরখানা ইন্টারসেকশনে দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়ে সময় ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সড়কটি নির্মাণ হলে নগরের এ যানজট ও ঘন ঘন দুর্ঘটনা কমে আসবে বলেন মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শহরতলির তেমুখি পয়েন্টে ৪ লেনে উন্নীতকরণ কাজের উদ্বোধনী ফলক বসানোর কাজ করছেন শ্রমিকরা। আশপাশে মাটি ভরাট করে চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। এছাড়া শহরতলির মইয়ারচর-সোনাতলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় সাইট অফিস ও সড়কের নির্মাণ কাজে নিয়োজিতদের আবাসন ব্যবস্থার কাজ চলছে।

সিলেট-১ আসনের সাংসদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শফিউল আলম জুয়েল জানান, করোনাকালিন সময়সহ নানা কারণে সড়কের কাজ শুরু হতে বিলম্ব হয়েছে। অবশেষে সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৬ নভেম্বর ৪ লেনে উন্নীতকরণ কাজের উদ্বোধন করবেন মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। ২০২৪ সালে এ সড়কের কাজ শেষ হবে।

সড়কটি সিলেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে তিনি বলেন, সড়কটি নির্মাণ কাজ শেষ হলে ভোলাগঞ্জ হতে চলাচলকারী ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের জন্য বিকল্প সড়ক হবে এটি। তাছাড়নির্মাণের মাধ্যমে সিলেট শহরে যানজট নিরসন হবে।

শেয়ার করুন