২৩ নভেম্বর ২০২২
শাহ্ মাশুক নাঈম, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে : রাস্তার পাশে জড়াজীর্ণ একটি ঝুপড়িঘরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কষ্ঠের জীবন কাটাচ্ছেন আব্দুস ছাত্তার (২৭)। ভাঙ্গা টিনের ছাউনি দিয়ে এক-চালা ছোট ঘরে বাসবাস করছেন অনেক দিন ধরে। বৃষ্টি এলে ঘরের এক কোণে কোনো মতে নির্ঘুম রাত কাটে। দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে ৫ সদস্যের এ পরিবার অতি কষ্টের সাথে সংগ্রাম করে আসছে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের হাছনবাহার গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে আব্দুস ছাত্তার।
আব্দুস ছাত্তার বলেন, আমি দিমুজুর দিনরাত পরিশ্রম করি তবুও ভাগ্যের পরিবর্তন নাই। গত বন্যার সময় স্ত্রী পুত্র সবাইকে নিয়ে থাকতে হয়েছে অন্যের বাড়িতে। একমাত্র আশ্রয় ঝুপড়িটি জরাজীর্ণ হওয়ায় একটু ঝড়-বৃষ্টিতেই ভিজে যায় বিছানাপত্র। অনেক সময় বৃষ্টি আসলে কাথা বালিশ মুড়িয়ে ঘরের এক কোণায় বৃষ্টি থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। কখনো-কখনো বেশি বৃষ্টি হলে নিতে হয় অন্যের বাড়িতে আশ্রয়।
যাই ধান চাল ঘরে চিল সব বাসিয়ে নিয়ে গেছে বন্যায়। এখন আমার জীবনই আমার একমাত্র পুজি! এত কঠিন সময় কাটাচ্ছি আমাদের দেখার মতো কেউ নাই। অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে অতিকষ্টে দিন পার করছি। থাকার একমাত্র ঘরটি জরাজীণ হওয়ায় বৃষ্টি আসলে এ ঝুপড়িতে থাকতে খুবই কষ্ট হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা বেড়ার টিনের ছাপড়ার ছোট্ট একটি ঘর। ঘরের চালে কোথাও-কোথাও ছিদ্র। বর্ষার বৃষ্টি পড়ার উপক্রম লক্ষ্য করা যায়। ঘরের উত্তর পাশে অ-স্বাস্থ্যকর টয়লেট। একটি ঘরে থাকা খাওয়া আবার রান্নার কাজকর্ম করেন ঘরের কোনায় ছোট একটি চুলা বানিয়ে। নাই ঘরের বারান্দা! বাশেঁর চাটাই দিয়ে বানানো ঘরের দরজা। নেই ইলেকট্রিক কোন ব্যবস্থা । কখনো কেরোশিনের বাতি, কখনো মোমের বাতি জ্বালিয়ে কখনো অন্ধকারে রাতে খানা খেতে হয়।
প্রতিবেশী হোসেন আলী জানান, আব্দুস ছাত্তার বহুদিন ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী হতদরিদ্রের ঘর উপহার দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন করছি যেন একটি সরকারী ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।
সুরমা ইউনিয়নের ৭ ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল হামিদ বলেন গত বন্যার সময় আব্দুস ছাত্তারকে সামর্থ্য অনুযায়ী অনুদান দিয়েছি। এখন তার একটি ঘর প্রয়োজন! আমি তার ঘরের জন্য একটা আবেদন দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ তার ঘরের ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, সুরমা ইউনিয়নে যারা প্রকৃতি অসহায় রয়েছে তাদেরকে যাচাই-বাছাই করে ঘর দেওয়া হবে। কোন অসহায় বা দুঃস্থ ব্যক্তি বাদ যাবে না।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা প্রিয়াঙ্কা বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে ‘জায়গা আছে ঘর নাই’-এ ধরণের কোনো প্রকল্প আসলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।