২৪ নভেম্বর ২০২২
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : ছাতকের সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের ছনবাড়ী-ইসলামবাজার সড়কটি দীর্ঘ ৪০ বছরেও উন্নয়নের ছৌঁয়া পায়নি। আশির দশকে মাটি ভরাট করে নির্মিত সড়কটির উন্নয়নে এখনো পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেই। ফলে কাঁচা সড়কটি দিয়ে যাতায়াতকারী ২৫ থেকে ৩০টি গ্রামের মানুষকে চমর দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসী সড়কটির উন্নয়নে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
জানা যায়, সীমান্তবর্তী মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য আশির দশকের শেষের দিকে মাটি ভরাটের মাধ্যমে এ সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ এসময়ে মাঝে-মধ্যে টুকটাক কাজ হলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোন কাজ করা হয়নি এ সড়কে। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ কাঁচা সড়কটি পাকাকরণেও নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। ফলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের ২৫-৩০টি গ্রামের প্রায় ১৮হাজার মানুষের সহজ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো মান্দাতা আমলের মতোই রয়েছে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
সীমান্তবর্তী মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যোগাযোগের ক্ষেত্রে অবহেলিত ইসলামপুর ইউনিয়নের মানুষকে পিছনে রাখা হয়েছে। এই জনপদের মানুষ সরকারের উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হতে পারেনি বলে তাদের মন্তব্য।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১০কিলোমিটার কাঁচা এ সড়কটি আগা-গোড়া পর্যন্ত অনেকটাই সোজা। গাড়ি না চললেও মোটরসাইকেল যোগে অথবা পায়ে হেঁটে সীমান্ত অঞ্চলের মানুষ এ সড়ক দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সহজেই যাতায়াত করে আসছিল। সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় কালভার্টের এপ্রোচসহ সড়কটির বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সড়ক দিয়ে লোকজনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের উপজেলা সদরে পৌঁছুতে প্রায় দু’ঘন্টা সময় লেগে যায়। ছনবাড়ি-ইসলামবাজার সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণ করা হলে সর্বোচ্চ ৩০মিনিটের মধ্যেই উপজেলা সদরে পৌঁছাতে পারতেন বলে জানান তারা।
সড়কটি সংস্কার ও পাকা করা হলে ছনবাড়ি, ছনবাড়ী বাজার, রাশনগর, ধনিটিলা, রতনপুর, নিজগাঁও, বাগানবাড়ি, নতুনবস্তি, গাংপার-নোয়াকুট, বনগাঁও, বৈশাকান্দি, পুরান-নোয়াকুট, দারোগাখালি, পুরান-দারোগাখালি, কাজীরগাঁও, লুবিয়া, রহমতপুর, বাহাদুরপুর, ছৈদাবাদ, আলমপুর, রাবারড্যাম বাজার, শারফিন বাজার, নয়া বাজার, ইছামতি বাজার, হাদা-চানপুর, পান্ডব, ইসলামবাজারসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ সহজেই উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করতে পারনো বলে উল্লেখ করেন তারা।
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা হাজী আব্দুর রউফ জানান, সড়কটি নির্মাণের পর থেকে বড় ধরনের কাজ হয়নি।
সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দা মঈন উদ্দিন, ফজর আলী, আব্দুল মান্নান, মাসুক আলী, রফিক আলী জানান, অন্তত ১৫-২০টি গ্রামের মানুষের জন্য এ সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ইসলামপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি, ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান কামরুল ও আদিবাসী যুবনেতা মিলন সিংহ শুধু যাতায়াত নয়, ব্যবসা ও সরকারের রাজস্ব আদায়ে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, চুনাপাথর আমদানীর ক্ষেত্রে উপজেলার একমাত্র শুল্ক স্টেশন ইছামতি ইসলামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। প্রতিদিন এ শুল্ক স্টেশন দিয়ে লক্ষ-লক্ষ টন চুনাপাথর আমদানী করে ইছামতি এলাকায় ডাম্পিং করে রাখেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া মরা চেলা নদীর বালু মহালও রয়েছে এ ইউনিয়নে। বালু ও চুনাপাথর থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব জমা হচ্ছে সরকারি কোষাগারে। এ ইউনিয়নে দেশের বৃহত্তম ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, এলসির মাধ্যমে চুনাপাথর আমদানীর একমাত্র স্পট ইছামতি। এ সড়কটি পাকাকরণ করা হলে জনদুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি ব্যবসার ক্ষেত্রে পরিবহন খরচ অনেকটাই কমে যাবে। সীমান্তের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদেরও সাদর আমন্ত্রণ জানাবে এ সড়ক।
রাবারড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি ও সমাজসেবী আব্দুল জব্বার খোকন জানান, এক সময় সীমান্ত অঞ্চলের মানুষ যাতায়াতে এ সড়কটি ব্যবহার করতেন। সাম্প্রতিক বন্যায় সড়কটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণ এখন সময়ের দাবি।