২ নভেম্বর ২০২২


বিশ্বনাথে ইভিএম বিড়ম্বনায় নারী ভোটাররা

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রথমবার নির্বাচন হচ্ছে সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভায়। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট নিয়ে উৎফুল্ল ভোটার ও প্রার্থীরা। তবে পুরুষরা ইভিএম মেশিনে মানিয়ে নিতে পারলেও নারী ভোটাররা রয়েছেন ভোট বিরম্বনায়। যে কারণে ভোট কাস্টিং কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিন বিশ্বনাথ পৌরসভার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, প্রথম পৌর নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিয়ে ইতিহাসের অংশ হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। প্রায় প্রত্যেকটি কেন্দ্রে পুরুষ ভোটাররা ইভিএম মেশিনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারছেন। কিন্তু নারী ভোটাররা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর প্রিজাইডিং অফিসাররা।

সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্বনাথ ডিগ্রি কলেজে সরেজমিন দেখা যায়, পাঁচটি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। এখানে ১৮৪৪ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৯২০ ও নারী ৯২৪ ভোট রয়েছে।

সকাল ৮টা থেকে অন্তত দুই শতাধিক নারী ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ভোটের গতি খুবই মন্থর দেখা যায়।

সকাল ১১টা পর্যন্ত নারী ভোটারদের অনেকে জানিয়েছেন, তারা সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন কিন্তু ভোট দিতে পারছেন না। অনেকে প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে থেকে বিরক্তিভাব নিয়ে ফিরে গেছেন বলেও জানা গেছে।

ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, সকাল ১১টা পর্যন্ত পাঁচটি বুথে ১৬৯টি ভোট কাস্ট হয়েছে। এরমধ্যে নারীদের একটি বুথে ৩ ঘণ্টায় মাত্র ১৮ ভোট পড়েছে।

তিনি বলেন, নারীরা ইভিএম বুঝেন কম। যে কারণে ভোট দিতে গিয়ে অন্তত ১৫/২০ মিনিট দেরি করছেন।

তাছাড়া বয়স্ক ভোটারদের আগে ভোট দানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অথচ তারা ভোট দিতে বেশি সময় ব্যয় করছেন।

ওই কেন্দ্র পরিদর্শনকালে মেয়র প্রার্থী সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মুহিবুর রহমান বলেন, আমি ৯টি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। প্রশাসন খুব শক্ত ভূমিকায় রয়েছে। যে কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

তবে ভোটারদের উপস্থিতি থাকলেও অনেকে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করছেন। বিশেষ করে বয়স্ক নারী ভোটাররা ভোট দিতে সময়ক্ষেপণ করা দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় প্রায় সব কেন্দ্রেই। তাছাড়া ২ কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে ত্রুটি দেখা দিলে উপরে সংশোধন করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করেছেন। বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন।

সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্বনাথের রামসুন্দর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রখর রোদে নারী ভোটাররা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ভোটেররগতি ছিল খুবই মন্থর।

ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বুরহান উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রে ২১৩৪ ভোট রয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ ১১১৬ ও নারী ১০১৮ ভোট রয়েছে। সকাল সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে ২৫৮টি ভোট কাস্ট হয়েছে। কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি পরিলক্ষিত হয়। তবে নারীরা ভোট দিতে দেরি করছেন। কারণ তাদের কাছে ইভিএম নতুন, যে কারণে বুঝতে গিয়ে দেরি হয়।

বেলা ১২টার দিকে বিশ্বনাথ জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রার্থীদের প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্রের বাইরে লোকজন বিক্ষোভ করেন। তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লোকজনকে কেন্দ্রের সামনে থেকে সরিয়ে দেয়। এসময় ৩ জনকে আটক করা হয়।

মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ এবং বিশ্বনাথ দারুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা কেন্দ্রেও ভোটারদের উপস্থিতি থাকলেও ভোট কম পড়ছিল।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইভিএম পদ্ধতিতে নারী ভোটাররা ভোট দিতে সময় বেশি নিচ্ছেন।

এছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রে ঘুরে দেখা যায়, পুরুষের তুলনায় নারীর ভোটারদের ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন পরিলক্ষিত হয়।

এই পৌরসভা মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

শেয়ার করুন