৩০ অক্টোবর ২০২২
ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথের ভোটের মাঠে নানা সমীকরণ। ওসমানীনগরে নৌকার প্রার্থী শামীমের হিসাব সহজ হলেও বিশ্বনাথে ফারুক পড়েছেন বেকায়দায়। ভোটের কাছাকাছি সময়ে এসে এগিয়ে যাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। শেষ মূহূর্তে চলছে টাকার খেলাও। ভোটের মাঠে না থেকেও আছে বিএনপি। দু’টিতেই বিএনপি’র প্রার্থীরা লড়াইয়ে রয়েছেন। তারা লড়াই জমিয়েও তোলেছেন। তারা দলের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে ভোটের মাঠে নামায় নতুন করে বহিষ্কারের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে না।
ওসমানীনগর উপজেলায় এবার দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উপজেলায় এবার নৌকার প্রার্থী সিলেট জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমদ। সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি নৌকার প্রার্থী হন।
তার পক্ষে ওসমানীনগর আওয়ামী লীগের নেতারা ঐক্যবদ্ধ। বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় শুরু থেকেই শামীম আহমদের অবস্থান ভালো। তার ভোট প্রচারণায় এসে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। ফলে এ উপজেলায় ঐক্যবদ্ধভাবেই মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সবাই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি কামরুল ইসলাম। বিএনপি’র ভোট ব্যাংকই কামরুলের ভরসা।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন- কামরুলের পক্ষে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে মাঠে নেই। এলাকাভিত্তিক অনেকেই রয়েছেন। স্থানীয় নির্বাচনের কারণে তারা কামরুলের পক্ষ নিয়েছেন। এবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগেই কামরুল ইসলাম দলের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। একই সঙ্গে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি বিশ্বনাথ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন। তিনিও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে তাদের বহিষ্কারের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সিলেট বিএনপি’র নেতারা। জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন- দু’জনই পদত্যাগ করে ভোটের মাঠে নেমেছেন। আমরা সার্বিক বিষয় অবগত করে ইতিমধ্যে কেন্দ্রের কাছে বিষয়টি পাঠিয়েছি। কেন্দ্র পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে। এ দিকে- ওসমানীনগরে উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী শামীম আহমদের অবস্থান দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে।
সামাজিকভাবে তার পক্ষে এলাকার মানুষ ভোট প্রচারণায় নেমেছেন। আর শামীম আহমদও উন্নয়নের কথা তুলে ভোট চাইছেন। বিশ্বনাথ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফারুক আহমদ। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। বিশ্বনাথ পৌর শহরে ভোটের হিসেবে বিএনপি’র অবস্থান শক্তিশালী। এরপরও সজ্জন মানুষ হিসেবে ফারুক আহমদের অবস্থা শুরুতে ভালো ছিল। কিন্তু দুইবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান ভোটের মাঠে থাকায় পরিস্থিতি পাল্টে যায়। মুহিবুর রহমানে ভাগাভাগি হয়েছে নৌকার ভোট। আর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জালাল আহমদ চেয়ারম্যানের পক্ষে বিশেষ করে বিএনপি’র কর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। পথসভা ও নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি নজর কাড়ছেন।
বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হওয়ার কারণে জালাল আহমদের ভোট ব্যাংক রয়েছে পৌর শহরে। ফলে দিনে দিনে অবস্থান ভালো হচ্ছে জালাল আহমদের।