২৭ অক্টোবর ২০২২


স্বজনহারা দুই কন্যার রাজকীয় বিয়ে

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : সানাইয়ের সুরে বিয়ের রঙিন সাজে সাজেন দুই কন্যা। যাবেন নতুন ঠিকানায়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটিতে পাশে থাকার কথা মা-বাবা, পরিবার-পরিজনের, কিন্তু না! তাদের পাশে ছিলেন আত্মার সম্পর্কের এক বিশাল পরিবার। বলা হচ্ছে, মৌলভীবাজার সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালিত এতিম ও প্রতিবন্ধী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দুই কন্যার বিয়ের কথা। যাদের বেড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠান ঘিরেই।

বৃহস্পতিবার এই দুই দম্পতির জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন করে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন। দুই কন্যা শাকিলা ইসলাম ও নয়নতারা। ওদের মধ্যে শাকিলা ইসলামের বিয়ে হয় আল আমিনের সঙ্গে এবং নয়নতারার বিয়ে হয় মো. সাব্বিরের সঙ্গে।

আলাপকালে কন্যা শাকিলা ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমার মা-বাবা থাকলে আজ যা করতেন, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর আমাদের জন্য তা-ই করেছেন।’

আরেক কন্যা নয়নতারা জানান, আমাদের বিয়ের আয়োজনে কোনো কমতি রাখেননি স্যারেরা। এভাবে আমাদের বিয়ে হবে, তা কখনো ভাবতে পারিনি।

এর আগে দুই কন্যা বধূ সেজে গাড়িতে করে আসেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। এরপর একে একে আসেন বর, সঙ্গে ছিলেন বরযাত্রীও। ছিল গেটে সালামির জন্য বর আর কনে পক্ষের তর্কাতর্কি।

দুই কন্যা ও তাদের বরদের জন্য সাজানো হয় রাজকীয় বিয়ের মঞ্চ। এই বিয়ে অনুষ্ঠানে কমতি ছিলোনা কিছুই, নানান ফুল আর আলোতে সাজানো হয় চারপাশ। আমন্ত্রিতদের জন্য আয়োজন করা হয় পোলাও, মাছ, চিকেন রোস্টসহ পাঁচ পদের খাবার। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিরাও সবাই সাথে করে নিয়ে আসেন দামী উপহার।

জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার একেএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘এরা আমার মেয়ের মত। তাদের বিয়েতে যাতে কোনো ধরনের কমতি না হয়, এজন্য সব আয়োজন করা হয়। দুই মেয়ের অনুষ্ঠানে তিন শতাধিক অতিথির জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। জেলা সর্বস্তরের মানুষ এ বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আমার দুই কন্যার জন্য দোয়া করেছেন।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের দুই কন্যার প্রশিক্ষক মো. শামীমুর রহমান বলেন, ‘দুই তরুণী সিলেট সমাজসেবা পরিচালিত শিশু পরিবার থেকে দুইবছর হল এখানে এসেছে। নয়নতারা ট্রেইলারিং ও শাকিলা ড্রাইভিং শিখেছে। পাশাপাশি বর আলআমিন টিউবওয়েল মিস্ত্রি এবং সাব্বির সিএনজিচালিত আটোরিকশার চালক।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, ‘একজন পিতা তার কন্যাদের যেভাবে বিয়ে দেন, তেমনি এ কন্যাদের পিতা হিসেবে একজন কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার মতো আমি তাদের বিয়ে দিচ্ছি। সকল নিয়ম, সকল আনুষ্ঠানিকতায় এ বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল।এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুই নবদম্পতিকে এক লক্ষ করে মোট দুই লক্ষ টাকা উপহার দেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার উক্ত প্রতিষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে হয় গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। এসময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, জেলার পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান বাঁধনসহ জেলার সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন