১২ অক্টোবর ২০২২


এবার বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : চলমান লোডশেডিংয়ের মধ্যে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। আগামীকাল বিদ্যুতের বৃদ্ধির ঘোষনা দেওয়া হবে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ৫৮ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে খুচরো পর্যায়ে এখনই এর প্রভাব পড়বে না। পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির পরিমানের সঙ্গে সমন্বয় করে বিতরণ কোম্পানিগুলো খুচরো পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্র জানায়, বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ানোর জন্য এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিইআরসিতে প্রস্তাব দিয়েছিল বিপিডিবি। প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে গত ১৮ মে বিদ্যুতের প্ইাকারি দাম বৃদ্ধির বিষয়ে গণশুনানির আয়োজন করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

শুনানিতে বিপিডিবি বিদ্যুতের দাম ৬৯ শতাংশ বাড়িয়ে ইউনিটপ্রতি আট টাকা ৫৮ পয়সা করার প্রস্তাব করে। তাদের প্রস্তাব মূল্যায়ন করে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সরকার ভর্তুকি দিলে ৫ টাকা ১৭ পয়সা ও ভর্তুকি না দিলে ৮ টাকা ১৬ পয়সা বাড়িয়ে ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ দাম বাড়ানোর সুপারিশ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রনালয় বিদ্যুৎ বিভাগকে ভর্তুকি প্রদানে অনিহা প্রকাশ করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) লোকসান বাড়ায় সরকারকে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাড়াতে হচ্ছে। ফলে লোকসান কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেয় অর্থ বিভাগ। চিঠিতে বিদ্যুতের বিক্রয় মূল্য সমন্বয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের পরিমাণ যৌক্তিকভাবে হ্রাস করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্য সমন্বয় মানেই হলো বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি। অর্থ বিভাগ ভর্তুকি ছাড়ের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর শর্তই দিয়েছে। বাংলাদেশে বিদ্যুতের একক ক্রেতা বিপিডিবি। গণশুনানিতে দাম বাড়ার বিষয়ে বিপিডিবির পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাদের ইউনিটপ্রতি খরচ হচ্ছে ৯ টাকারও বেশি।

বর্তমানে বিপিডিবির সরবরাহকৃত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম গড়ে পাঁচ টাকা ১৭ পয়সা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যুতে গড় উৎপাদন খরচ ছিল ২ দশমিক ১৩ টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ১৬ টাকায়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, কয়লার মূসক বৃদ্ধির কারণে ২০২২ সালে ইউনিট প্রতি উৎপাদন বিগত বছরের তুলনায় বেড়ে গেছে।

বিইআরসি আইন অনুযায়ী গণশুনানির পর ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে মূল্যহার সমন্বয় বিষয়ে আদেশ দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ১৮ মে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য বৃদ্ধির জন্য গণশুনানি পর মে, জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে ৯, ২২, ১৯, ২০ এবং ২১ দিন সরকারি কার্যদিবস রয়েছে। সে হিসাবে ২৮ সেপ্টেম্বরে ৯০ কার্যদিবস পূরণ হয়। ফলে অক্টোবরের শুরুতেই পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয় বিইআরসি। সে অনুযায়ী আগামীকাল বিদ্যুতের দাম বাড়ার ঘোষণা দেওয়া হবে।

তবে পাইকারি মূল্যহার বাড়লেও আপাতত বাড়ছে না বিদ্যুতের খুচরা মূল্য। দাম বৃদ্ধির পর বিপিডিবির কাছ থেকে বর্ধিত দামে বিদ্যুৎ কিনবে বিতরণ কোম্পানিগুলো। খরচ বৃদ্ধির যুক্তি দেখিয়ে তারা খুচরা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দেবে। সেই প্রস্তাবের ওপর শুনানি শেষে আগামী বছরের শুরুর দিকে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে।

গত এক যুগে দেশে বিদ্যুতের দাম ১১ দফায় বাড়ানো হয়। এ সময়ে পাইকারি পর্যায়ে ১১৮ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে ৯০ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় সরকারি ভর্তুকি ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ধরে পাইকারি পর্যায়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। একই সময়ে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বিদ্যুৎ বিষয়ক সদস্য বজলুর রহমান বলেন, আমরা জনগণের জন্য সহনীয় পর্যায়ে দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছি। এখন সরকারের ভর্তুকির পরিমানের ওপর চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হবে।

সরকার এমন একটি সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে যখন মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারন মানুষ পর্যদুস্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ালে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও সেবা খাতের খরচ বাড়বে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরো উসকে দেবে।

কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেলে সবকিছুর দামই বেড়ে যাবে, কারণ বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে অন্যান্য সেবাখাত গুলো সংযুক্ত। এমনিতে সাধারন মানুষ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির ফলে নাভিশ্বাস ফেলছে, সেখানে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি যে চাপ আরো বাড়িয়ে দেবে। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। বিদ্যুতের অন্যান্য খাতে যেসব অপচয় হচ্ছে, সেসব কমিয়ে আনলে বিদ্যুতের মূল্য সহজে সমন্বয় করা যেত।

শেয়ার করুন