১০ অক্টোবর ২০২২
আশফাক জুনেদ, বড়লেখা: মৌলভীবাজারের বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের রান্না করে খাওয়ার জন্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি রান্নাঘর তৈরি করা হয় ২০২০ সালে। প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় সেই রান্নাঘর। কিন্তু পর্যটকদের সুবিধায় নির্মিত রান্নাঘরটি কোন কাজেই আসছেনা। প্রকল্পে রান্নাঘরের সাথে একটি চুলা দেওয়ার কথা থাকলেও নির্মাণের দেড় বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও চুলার ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে রান্নাঘর থাকা স্বত্বেও বাহিরে থেকে আসা পর্যটকরা অন্যত্র খোলা জায়গায় রান্না করতে হচ্ছে। এনিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা।
সোমবার সরেজমিনে মাধবকুণ্ডের সেই রান্নাঘর পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, রান্নাঘরের দরজায় তালা মারা। পেছনের জানালা খোলা। ভিতরে কোন আসবাপত্র নেই। ঘরের কোনায় চুলা রাখার জন্য উঁচু করে ঢালাই করা হয়েছে। তবে সেখানে কোন চুলা নেই। রাখা হয়নি কোন পানির ব্যবস্থা। পর্যটকেরা কিভাবে রান্নাঘর ব্যবহার করবেন দেওয়া হয়নি এমন নির্দেশিকাও।
এসময় রান্নাঘরের অদূরে দেখা যায় একদল পর্যটক রান্না করছেন। কথা হয় তাদের সঙ্গে।
আবিদ হোসাইন নামের একজন জানান, তারা ঢাকা থেকে এসেছেন। এসে দেখতে পাচ্ছেন এখানে রান্নাঘর আছে। তবে রান্নাঘর বন্ধ থাকায় তারা সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না। স্থানীয়দের সাথে আলাপ করেও রান্নাঘর ব্যবহার সম্পর্কিত কোন তথ্য না পেয়ে একটি রেষ্টুরেন্টের বারান্দায় রান্না করছেন।
রহমান পেয়ার নামের আরেকজন পর্যটক বলেন, ‘রান্নাঘর থাকা স্বত্বেও আমাদের বাহিরে রান্না করতে হচ্ছে। এটা দুঃখজনক। সরকার এতো সুন্দর একটা উদ্যোগ নিয়েছে অথচ এর যথাযথ ব্যবহার করার সুযোগ হচ্ছে না। এর দায় কার।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাধবকুণ্ডে বেড়াতে আসা দূরের পর্যটকদের সুবিধার্থে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি চুলাসহ রান্না ঘর তৈরি করা হয়। জেলা পরিষদের পুরাতন ডাক বাংলোর পিছনের খালি জায়গায় ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই রান্নাঘরটি নির্মাণ করে দেওয়া হয়। পর্যটকেরা যাতে খোলা জায়গায় রান্না করতে না হয় কিংবা এর জন্য পরিবেশ দূষণ না হয় সে জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করে জেলা পরিষদ। কিন্তু রান্নাঘরটি নির্মাণের পরও এর যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যটন সংলিষ্টরা।
তাদের অভিযোগ, দুই বছর আগে রান্নাঘরটি তৈরি করা হয়। কিন্তু রান্নাঘর তৈরির পর পর্যটকেরা এটি কিভাবে ব্যবহার করবেন এটা নিয়ে বিস্তারিত কিছুই জানানো হয়নি। এমনকি রান্না করার জন্য চুলারও ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
এ বিষয়ে মাধবকুণ্ড পর্যটক সহায়ক ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, ‘দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকেরা মাধবকুণ্ড বেড়াতে আসেন। এখানে এসে অনেকেই নিজেরা রান্না করে খেতে চান। তাদের সুবিধার জন্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি রান্না ঘর তৈরি করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় নির্মাণের দুই বছরেও রান্নাঘরটি চালু হয়নি। ফলে আগত পর্যটকেরা বাহিরে খোলা জায়গায় কিংবা বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টের সাথে চুক্তি করে টাকা দিয়ে তাদের বারান্দায় রান্না করতে দেখা যায়। এটা দুঃখজনক।’ তিনি রান্নাঘরটি চালুর দাবি জানান।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোদেজা খাতুন বলেন, ‘রান্নাঘরটি চালু করতে হলে পানির ব্যবস্থা করতে হবে। রান্না ঘরের পাশে একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া রান্নাঘর পরিচালনা করার জন্য ইজারাদার খোঁজা হচ্ছে। সবকিছু ঠিকটাক করেই রান্নাঘরটি চালু করা হবে।’