১ অক্টোবর ২০২২
ক্রীড়া ডেস্ক : সিলেটবাসী নিজেদের ভাগ্যবান মনে করতেই পারেন। ঢাকার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পেয়েছে চিটাগাং, খুলনাও। সবশেষ যোগ হওয়া সিলেট ছাড়িয়ে গেছে অন্যদের। চায়ের শহর এখন ক্রিকেটীয় শহর। দেশের প্রথম স্পোর্টস অ্যারেনা সিলেট। মিনিট ব্যবধানের রাস্তায় সিলেট পেয়ে যাচ্ছে দু’টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশেই গড়া উঠা আউটার স্টেডিয়ামও আজ যাত্রা শুরু করছে বিশ্ব ক্রিকেটে। হয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ভেন্যু। নারীদের এশিয়া কাপ দিয়েই সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম দুই আজ বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে উঠবে। স্টার স্পোর্টস সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ডের উদ্বোধনী ম্যাচটি। সারা বিশ্বের ক্রিকেট প্রেমীরা দেখবেন প্রকৃতির কোলে গড়ে উঠা পাশাপাশি দু’টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
২০১৪ আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ দিয়েই শুরু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সিলেটের পথচলা। লাক্কাতুরা চা বাগানের কোল ঘেষে আন্তর্জাতিক মাঠ হলো, এবারতো অনুশীলনের মাঠ লাগবে। বিসিবি পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের পরিকল্পনায় উঠে এলো স্টেডিয়ামের ইনডোরের পাশের খালি জায়গায় অনুশীলনের মাঠ করার চিন্তা। নানা কাঠখড় পেরিয়ে শুরু হলো কাজ।
ক্ষুরধার এই ক্রীড়া সংগঠকের মাথায় পরবর্তীতে এলো ভিন্ন চিন্তা। অনুশীলনের মাঠ ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে, তার চিন্তা-পরিকল্পনাও বাড়ছে। আউটার নামের অনুশীলনের মাঠ এবার রূপ পেতে লাগলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।যা আজ থেকেই ক্রিকেট বিশ্ব চিনবে সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়াম গ্রাউন্ড দুই বলে। যেখানে পাওয়া যাবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠগুলোর মতো আবহ। সবুজ গালিচায়, গাছ-গাছালির ছায়ায় বসে ঘাসে গা এলিয়ে উপভোগ করা যাবে বাইশ গজের মুগ্ধতা। সঙ্গে যদি থাকে চা বা কফি, তবে সেতো আয়েসী এক বিশ্রামের সুযোগ।
সেটাই হতে যাচ্ছে। দেশের প্রথম গ্রীণ গ্যালারির স্টেডিয়াম সিলেট ক্রিকেট গ্রাউন্ড-২। যেখানের গ্যালারিতে নেই মানব হাতের যান্ত্রিনকতা, নেই কোনো চেয়ার। প্রকৃতির পরম ভালোবাসায় ক্রিকেট প্রেমীরা উপভোগ করবেন ম্যাচ। মাটিতে বসে-শুয়ে, আরাম-আয়েসে সবুজের সমারোহে গা এলিয়ে দেখবেন তারকা ক্রিকেটারদের ব্যাট-বলের লড়াই। তিন একর জায়গায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়াম গ্রাউন্ড দুইয়ে গ্যালারিতে চেয়ার ছাড়া থাকছে আন্তর্জাতিক মানের সব সুবিধাই। সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, আইসিসির কাছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আবেদনও করেছে। তবে এখনো মিলেনি সেই স্বীকৃতি।
আইসিসির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না মিললেও আন্তর্জাতিক ভেন্যুর স্বীকৃতি কালই মিলে যাচ্ছে। নারীদের এশিয়া কাপ ক্রিকেট দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নাম লেখাচ্ছে সিলেটের দ্বিতীয় এই ভেন্যু। টি-২০ ফরম্যাটের এশিয়া কাপের ম্যাচগুলো আন্তর্জাতিক টি-২০’র অংশ। নারীদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়েই তাই আইসিসির স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকা সিলেট গ্রাউন্ড দুই যেনো নিজে পেয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। প্রেসবক্সসহ অন্যান্য কিছু আনুসাঙ্গিক কাজের জন্য হয়তো আইসিসির স্বীকৃতি মিলতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে কাগজে-কলমে না হলেও শনিবার এশিয়া কাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের ম্যাচ দিয়েই বিশ্ব ক্রিকেটে নাম লেখাচ্ছে দেশের প্রথম সবুজ গ্যলারির এই স্টেডিয়াম।
সিলেটের সংগঠকেরা জানিয়েছেন, আইসিসির কাছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আবেদন করা হয়েছে। শীঘ্রই হয়তো মিলে যাবে সেই স্বীকৃতি। তবে এশিয়া কাপের ম্যাচ স্বীকৃতি যেনো আগেই দিয়ে দিচ্ছে। দেশের প্রথম কোনো শহর সিলেট, যেখানে পাশাপাশি দু’টি মাঠেই হচ্ছে আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ৩০ সেকেন্ডের মতো সময় নিয়ে এক মাঠ থেকে চোখ ফেরালে আরেক মাঠেই দেখা যাবে ক্রিকেটের লড়াই। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া বক্স থেকে মনোরম ছাদ মাড়িয়ে গ্রাউন্ড ২-এ যেতে সময় লাগবে মাত্র মিনিট খানেক।
সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মিডিয়া কর্মকর্তা ফরহাদ কোরেশী বলেন, ‘আমরা গ্রাউন্ড দুইয়ের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আইসিসির কাছে আবেদন করেছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই অনুমোদন দেবে আইসিসি।’
তবে আইসিসি দিক বা না দিক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুর মর্যাদা আজই পেয়ে যাচ্ছে গ্রাউন্ড দুই। এশিয়া কাপের ম্যাচগুলো আন্তর্জাতিক টি-২০’র অংশ। এশিয়া কাপ আয়োজন করে আইসিসিকে চাপে ফেলবে গ্রাউন্ড দুই। আর সেই চাপেই হয়তো শীঘ্রই মিলে যাবে আইসিসিরও অনুমোদন।