১৪ জানুয়ারি ২০১৮
বিশেষ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতক ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ভূমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ দুই উপজেলাবাসীদের।
যার ফলে সরকারি ও আইনি সুবিধা পেতে প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়তে হচ্ছে এ অঞ্চলের সাধারণ নাগরিকদের। এছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনিক কাজেও সৃষ্টি হচ্ছে বাধার। সীমানা জটিলতা নিরসনে সম্প্রতি সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বৈশাকান্দি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির।
আবেদনে বলা হয়, ছাতক উপজেলার রাজেন্দ্রপুর ও বাহাদুরপুর মৌজার বেশকিছু জমি, হাটবাজার, খাল, টিলা ও নদী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাজেন্দ্রপুর ও বাহাদুরপুর মৌজার যেসব অংশ ছাতক উপজেলার অন্তর্ভুক্ত, সে স্থানের কোনো সীমানা চিহ্নিত করা হয়নি। এতে ছাতক উপজেলার জনসাধারণ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আর এদিকে সীমানা জটিলতার মধ্যেও ছাতক উপজেলার শারফিন বাজার ইজারা দিচ্ছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ।
সীমানা জটিলতা নিরসনে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর একটি স্মারক পত্র নং ১৬০৩(৫) তাং ২২.১২.১৬ ইং মূলে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসক সিলেট ও সুনামগঞ্জকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এব্যাপারে ছাতক উপজেলা সহকারী কমিশনার সোনিয়া সুলতানা বলেন, গত ১৯ এপ্রিল ছাতকের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবিনা ইয়াসমিন প্রতিবেদনসহ দুই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নিয়োজিত সার্ভেয়ার দিয়ে আন্তঃজেলা সীমানা নির্ধারণ করার সুপারিশ করেন। কিন্তু এখনোও কোনও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
এদিকে সুনামগঞ্জের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস আন্তঃজেলা সীমানা নির্ধারণের দাবিতে দাখিলকৃত আবেদনে বর্ণিত ছাতক উপজেলার রাজেন্দ্রপুর ও বাহাদুরপুর মৌজার সীমানা বিষয়ে তদন্তপূর্বক বিস্তারিত প্রতিবেদন ৭কার্য দিবসের মধ্যে প্রেরণের কথা থাকলেও প্রতিবেদনটি না পাওয়ায় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে দাখিল করা যাচ্ছেনা বলে তাগিদ প্রদান করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে এক পত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন।
(আজকের সিলেট/১৪ জানুয়ারি/ডি/এসটি/ঘ.)