৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২


জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে বাংলাদেশের উন্নতি

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স ২০২২ অনুযায়ী, এবছর বাংলাদেশ ৮ ধাপ এগিয়ে ১৯৩টি দেশের মধ্যে ১১১তম স্থান অর্জন করেছে, যা বিগত ২০২০ সালের রিপোর্টে ছিল ১১৯তম। অন্যদিকে, ই-পার্টিসিপেশন সূচকে বাংলাদেশ ২০ ধাপ এগিয়েছে। সারাবিশ্বে কোভিড- ১৯ অতিমারির কারণে গত দুই বছরের বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী ই-পার্টিসিপেশনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে।

জাতিসংঘের ১২তম জরিপটি ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘ ই-গভর্নমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স বা ইজিডিআই-এ বাংলাদেশ ০.৫৬৩০ স্কোর নিয়ে ১৯৩টি দেশের মধ্যে ১১১তম স্থান এবং ০.৫২২৭ স্কোর নিয়ে ই-পার্টিসিপেশন বা ইপিআইতে ৭৫তম স্থান অর্জন করেছে। এটি ২০২০ সালের জরিপ অনুসারে ০.৫১৮৯ স্কোর নিয়ে ১১৯তম স্থান এবং ০.৫৭১৪ স্কোর নিয়ে ৯৫তম স্থানে ছিল।

জরিপটি অনলাইনে সেবা দেয়া, আইন ও পলিসি কাঠামো, ই-পার্টিসিপেশনের অবস্থার পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো এবং হিউম্যান ক্যাপিটালকে মূল্যায়ন করে। এটি সব সদস্য রাষ্ট্রের ই-গভর্নমেন্ট উন্নয়ন মূল্যায়নে বিভিন্ন প্রকাশনা এবং বিভিন্ন অনলাইন সেবা দেয়ার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে থাকে। এই জরিপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সূচকগুলো হলো ই-সেবা, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো এবং বিশ্বব্যাপী হিউম্যান ক্যাপিটাল।

এই বছরের সূচকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ইজিডিআই মান নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে।

অনলাইন সার্ভিস ইনডেক্সে (ওএসআই) বাংলাদেশ ০.৬৫২১ স্কোর করেছে, টেলিকমিউনিকেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনডেক্সে (টিআইআই) ০.৪৪৬৯ এবং হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্সে (এইচসিআই) ০.৫৯।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ই-পার্টিসিপেশন টুলের মাধ্যমে সারাদেশ, পৌরসভা ও গ্রামীণ স্থানীয় সরকার পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্নয়নে কাজ করা হয়।

জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শীর্ষ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মধ্যে সর্বোচ্চ ইজিডিআই মান অর্জন করেছে এবং পরপর দুটি জরিপে বাংলাদেশ উচ্চ ইজিডিআই গ্রুপে রয়েছে। বাংলাদেশে সরকারি সেবা দিতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন ই-গভর্নমেন্ট উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শাখাবিহীন ব্যাংকিং প্রসারের মাধ্যমে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অসাধারণ উন্নতি দেখিয়েছে। যা এজেন্ট ব্যাংকিং এবং মোবাইল আর্থিক পরিষেবার (এমএফএস) মাধ্যমে সারাদেশের ১০০ মিলিয়নের বেশি গ্রামীণ নাগরিকদের দোরগোড়ায় সব সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের এটুআই, ইউএনডিপি, গেটস ফাউন্ডেশন এবং কনসালটেটিভ গ্রুপের সহযোগিতায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী হয়েছে। এর ফলে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, নিঃস্ব নারীদের জন্য ভাতা, আর্থিকভাবে অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতাসহ সব ভাতা দেয়া ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

জাতীয় তথ্য বাতায়নে পৌরসভা এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ের ই-পার্টিসিপেশনের টুলের মাধ্যমে যোগাযোগ ও সহযোগিতার সুবিধা দেয়া হয়। ডিজঅ্যাবিলিটি ইনোভেশন ল্যাব প্রতিবন্ধীবান্ধব পণ্য ও ই-সেবা তৈরি, পরীক্ষা এবং বাণিজ্যিকীকরণে সহায়তা করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

২০০৯ সালে বাংলাদেশে জাতীয় ডিজিটাল বাংলাদেশ কৌশল গ্রহণ করা হয়। যার লক্ষ্য সুশাসন, আইন প্রয়োগ, কর্মসংস্থান এবং প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক একটি ডিজিটাল দেশ হিসেবে উন্নত দেশে রূপান্তর করা।

সারাবিশ্বে দেশগুলোর ডিজিটাল গভর্নমেন্ট তৈরি করে তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সহজ করতে জাতিসংঘ একটি জরিপ চালায়। জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট সার্ভে ২০২২ ইউনাইটেড নেশনস ই-গভর্নমেন্ট সার্ভে ইউনাইটেড নেশনস ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স (ইউএনডিইএসএ) প্রকাশিত হয়েছে। ২০০১ সাল থেকে শুরু হওয়া জাতিসংঘের ই- গভর্নমেন্ট সার্ভে রিপোর্ট প্রতি দু’বছর পর পর ইউনাইটেড নেশনস ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স (ইউএনডিইএসএ) করে থাকে।

শেয়ার করুন