২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২


সুনামগঞ্জে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব দাঁড়াতে পারছেনা পর্যটন শিল্প

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা বিরাজ টাংগুয়ার হাওরসহ সুনামগঞ্জের বিভিন্ন পর্যটন স্পট গুলোতে। কিন্তু গত দুই যুগেরও ব্যবধানে সে অনুযায়ী বাড়েনি সরকারী বা বেসরকারীভাবে কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা। সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছেনা পর্যটন শিল্প। সড়ক পথের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা,আবাসিক হোটেল,রেস্তুোরা,দিক নির্দেশক সাইনবোড ও নিরাপত্তার জন্য টুরিস্ট পুলিশসহ সময় উপযোগী কোনো সুযোগ সুবিধাই নেই সেখানে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে এই জেলা হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন জেলা। এই বিষয়ে পর্যটন মন্ত্রনালয়সহ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ। এদিকে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় পর্যটকগনের নিরাপত্তা দিতে হিমসিম খাছেন তাহিরপুর থানা পুলিশ।

অন্যদিকে, এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে দাবী জানিয়ে আসছেন উদ্যোক্তারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায,ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য জেলাজুড়ে রয়েছে দর্শনীয় স্থান। আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। মরমি সাধক হাসন রাজা, বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্ত, বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমসহ অসংখ্য বাউল-কবিদের জন্ম এই জেলায়।

হাওর, নদী ও সবুজের অপরূপ মেলবন্ধন হাওরকন্যা সুনামগঞ্জ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে গড়ে উঠছে নতুন নতুন পর্যটন স্পট।

দিনে দিনে প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের আকর্ষণের তালিকায় ঠাঁই পাচ্ছে জেলার মাদার ফিসারিজ খ্যাত টাংগুয়ার হাওর,। এশিয়ার বৃহত্তর শিমুল বাগান,শহীদ সিরাজলেক,হাওলী জমিদার বাড়ি,মেঘালয় সীমান্ত ঘেষাঁ পাহাড়ী বিভিন্ন ছড়া,বারেকটিলা, যাদুকাটা নদী,হাওর বিলাশ,পাহাড় বিলাশ, বাশঁতলা, নারায়নতলা শহীদ মিনার, ঝুমগাওসহ নতুন নতুন পর্যটন স্পট।

বছরের বেশির ভাগ সময় হাওর থাকে জলমগ্ন। তবে গড়ে উঠেনি উন্নত সড়ক পথ। যাতায়াত ব্যবস্থা,হোটেল-মোটেল বা রিসোর্টেরও অভাব।

এরপরও এসব পর্যটন স্পট ও দর্শনীয় স্থানকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ও দেশের বাহির থেকেও আসছে নানান বয়সী দর্শনার্থী ও পর্যটকগন।

আর এই পর্যটকদের টাংগুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পষ্টে নিয়ে যাওয়ায় জন্য এক মাত্র ব্যবস্থা ইঞ্জিন চালিত নৌকা। আর থাকা খাওয়া সব কিছুই এই নৌকায়।

ফলে বেড়াতে আসা বেশীর ভাগ মহিলা ও শিশুদের বেশী দূর্ভোগ পোহাতে হয়। আর পর্যটকের আগমনের সুযোগে স্থানীয় নৌকা চালকদের আয়ের উৎস হলেও হাউজ বোড নামক আধুনিক সুযোগ সুবিধা সংবলিত নৌযানের রমরমা ব্যবসা চলছে।

ফলে মার খাচ্ছে স্থানীয় ভাবে তৈরী পর্যটকের নৌকা গুলো। বিকল্প সরকারী বা বেসরকারি ভাবে রিসোর্ট বা মানসম্পন্ন হোটেল পাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় নামীদামী হোটেল মত সুযোগ সুবিধা দিয়ে বেশী ভাড়া নিচ্ছে হাউজ বোড।

তবে এখানে কতটা নিয়মনীতি মানা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে,এছাড়াও রাতে কোন ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই রাত যাপন করছে। এতে করে বড় ধরনের দূঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন হাওর পাড়ের সচেতন মহল।

রাজধানী ঢাকা থেকে টাংগুয়ার হাওরে বেড়াতে আসা পর্যটক সাকিল আহমদ জানান,পানির উপর ছোট ছোট গ্রামগুলো ভাসে দ্বীপের মত, শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল ফসলের মাঠ। টাংগুয়ার হাওরনসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পর্টে যে পরিমান পর্যটক ও দর্শনার্থী আসে তাদের নিরাপত্তা, নিরাপদ অবস্থান,স্যানিটেশনের প্রর্যাপ্ত ব্যবস্থা, দিক নির্দেশনা সাইনবোর্ড দেয়া খুবেই প্রয়োজন।

এছাড়াও নিরাপত্তার জন্য টুরিষ্ট পুলিশ না হলে অনেক পর্যটক ও দর্শনার্থী মুখ ফিরিয়ে নিবেন এই সব পর্যটন স্পট গুলো থেকে।

সাজিদ মিয়াসহ টাংগুয়ার হাওরের পাড়ের বাসীন্দারা জানান,প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকদ টাংগুয়ার হাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পট গুলোতে আসার নিরাপত্তার বিষয়ে আমরাও থাকি দুশ্চিন্তায়।

টুরিষ্ট পুলিশের ব্যবস্থা করা হলে নিরাপদে থাকত আগত পর্যটকগন। এছাড়াও সরকারী বা বেসরকারী ভাবে উন্নত মানের থাকার খাবার হোটেল তৈরী করা হলে আর পর্যটকদের নৌকায় রাতে থাকতে হবে না।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেয়দ ইফতেখার আহমেদ জানান, ট্যুরিস্ট পুলিশের কোন ক্যাম্প নেই। জনবল কম থাকার পরও পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় প্রতিদিন আগত পর্যটকগনকে সাধ্যমত আমরা নিরাপত্তা দিয়ে থাকি।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু চৌধুরী বাবুল বলেন, এ উপজেলার পর্যটন স্পর্ট গুলোতে আগত দেশ-বিদেশী হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য টুরিষ্ট পুলিশ ও দিক নির্দেশক সাইনবোর্ড স্থাপনের ব্যবস্থা করা খুবই প্রয়োজন। এখন ট্যুরিস্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষ যদি কোন ক্যাম্প করে দায়িত্ব পালন করে তাহলে সুবিধা হয়।

শেয়ার করুন