৩ সেপ্টেম্বর ২০২২


চা-শ্রমিকরা ভূমিহীন থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : চা-শ্রমিকদের সব দাবি পূরণ করা হবে, চা-শ্রমিকরা ভূমিহীন থাকবে না বলে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শ্রমিকদের যারা কষ্ট করে, তাদের দিকে আমাদের তাকানো দরকার। আমি এটুকু বলতে পারি, কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের জন্য আমার বাবা রাজনীতি করে গেছেন। কাজেই তারা কষ্টে থাকবে, এটা হতে পারে না।

শনিবার বিকেলে সিলেটের লাক্কাতুরা গলফ ক্লাব মাঠে চা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় সভায় যুক্ত হন তিনি।

ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, বাংলাদেশের সব পেশার মানুষ কেউ ভূমিহীন থাকবে না। তেমনি চা-শ্রমিকদের কেউ ভূমিহীন থাকবে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার পর শ্রমিকদের ভোটাধিকার দেন। তার কাজগুলো শেষ করার আগেই ঘাতকের বুলেট প্রাণ কেড়ে নেয়। আমরা জাতির জনকের সেই স্বপ্নগুলো পূরণ করবো। জাতির পিতা চা-শ্রমিকদের ভোটাধিকার দিয়েছেন। এরপরও তারা ভূমিহীন থাকবে, এটা হতে পারে না। অন্যসব নাগরিকদের সঙ্গে তাদেরও ভূমির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আপনাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা হবে। এই মাটির সাথে যাতে আপনাদের অধিকার থাকে, সেই ব্যবস্থা আমি করে দেবো ইনশাল্লাহ। চা-বাগানের মালিকরা অনেক বিনীতপ্রাণ, তারা শ্রমিকদের জন্য শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। চা-শ্রমিকদের শিক্ষায় বাগানের স্কুলগুলোতে জাতীয়করণ করা হবে। চা-বাগানে হাসপাতালগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স চাওয়া হয়েছে, সেটির ব্যবস্থা করা হবে। চা-বাগানের শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন শ্রমিকদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, চা-বাগানে উঁচুনিচু টিলায় ওঠানামা করতে হয়, যেটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই মাতৃত্বকালী ছুটি ৬ মাস করা আবশ্যক মনে করি। আর গ্রাচুইটি কেনো দেওয়া হচ্ছে না, সেটা দেখবো। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আমরা অনেক কাজ করে যাচ্ছি। শ্রমিক ও তাদের শিশুরা যাতে পুষ্টিকর খাবার খেতে পারে, সে ব্যবস্থা করবো। আমার বাবা-মা সবই হারিয়েছি। আমি দেশের মানুষের পরিবর্তনের জন্যই কাজ করে যাচ্ছি।

চা শ্রমিকদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আপনারা সব সময় নৌকা মার্কায় ভোট দেন। আপনারা ভোট দেন বলেই সেবা করতে পারছি, দেশের উন্নয়ন করতে পারছি। যারা হরিজন, সুইপার, তাদেরও ব্রিটিশরা নিয়ে এসেছিল, তাদেরও থাকার জায়গা ছিল না। তাদেরও ঘর করে দিয়েছি। সবার একটি করে বাসস্থান করে দেবো।

চা-শ্রমিক সন্তানদের নৃত্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে চা-শ্রমিকদের দেওয়া উপহারের চুড়ি পরে এসে হাত উঁচিয়ে দেখান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে অ্যাম্বুলেন্স ও ডাক্তার চাইলেন চা শ্রমিকরা
মতবিনিময় সভায় নারীদের পক্ষ থেকে চা শ্রমিক শ্যামলী গোয়ালা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি ছাড়া আমাদের কেউ নেই। আপনি আমাদের পিতা-মাতা। আমরা যখন আন্দোলন শুরু করি তখন আমাদের একটাই চাওয়া ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটিবার কথা বলবো। সেই সময়ে আপনি নিজ থেকে আমাদের হয়ে কথা বলেন এবং আমাদের মজুরি বাড়িয়ে দেন। এজন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।

এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, আমরা চিকিৎসাসহ নানা ভোগান্তিতে রয়েছি। আমরা অসুস্থ হলে হাসপাতালে যাবো সেই ব্যবস্থা নেই। আমাদের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দিন। সেই সঙ্গে চা শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য বাগানে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। এছাড়া তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করার দাবি জানান।

চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা তার বক্তব্যে বলেন, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য চাকরির ক্ষেত্রে আলাদা কোটা ও উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের সুযোগ প্রদান এবং গ্র্যাচুইটি (অনিবার্য কারণে পাঁচ বছর পর চাকরি ছেড়ে দিলে এককালীন ভাতা বা বকশিশ) ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানান।

তাদের বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানসহ নাগরিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহম্মদ মোশাররফ হোসেন, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার এবং সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

শেয়ার করুন