২ সেপ্টেম্বর ২০২২


আখের রস আপনার জন্য কী প্রয়োজন?

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : কৃত্রিম যে কোন জুসের তুলনায় আখের রসঅতি চমৎকার পুষ্টিগুণেভরপুর। বাংলাদের যত্রযত্র আখ জন্মে থাকে, দামে তুলনামূলক সস্তা এই পানীয়টির বহুল ব্যবহার এদেশের অগুনতিঅপুষ্টির শিকার মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

আখের রসে রয়েছে পলিফেনলস, এটি শক্তিশালী পলি নিউট্রিয়েন্টস যাতে এন্টিঅক্সিডেন্টের গুনাবলি। আখের রসে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এবং মিনারেলস যেমন পটাশিয়াম ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং লৌহসহ প্রয়োজনীয় এমাইনো এসিড রয়েছে। যা শরীরের চর্বি গলিয়ে দেয় এবং মাংসপেশী মজবুত করে এতে কিছু পেপি কোলিন Pipecolic)এসিড, মেথিওনিন, ট্রিপটোফ্যান, বি-অ্যালনিন এবং আরজিনিন রয়েছে। বেসিক এমাইনো এসিড রয়েছে যেমন-হিস্টিডিন, লাইসিন, আরজিনিন।

আখের রস মৃদু ক্ষারীয়, অনেক রোগজীবাণুএই ক্ষারীয় পরিবেশে বাঁচতে পারে না ফলে শরীর জীবাণুমুক্ত রাখে এবং কাচা রস শরীরে ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। আখের রসে খুব কম কোলেষ্টরল রয়েছে সঙ্গে আছে এলডিএল এবং ট্র্রাইগ্লিসারাইড।

আখ ঘাসজাতীয় পরিবারের একটি গাছ। এটি প্রায় সারাবিশ্বে পাওয়া যায়। আমাদের দেশের প্রায় সব জায়গায় প্রচুর আখ পাওয়া যায়। আখ দেখতে সাধারণ লাঠির মত হলেও এতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ রয়েছে। এখন এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

পুষ্টিগুণ
আখের রসে রয়েছে ক্যাল সিয়াম, ক্রোমিয়াম, কোবল্ট, তামা, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গনিজ, ফসফরাস, পটাশিয়াম এবং জিংক সমৃদ্ধ। এছাড়াও অ্যান্টিঅক্সডেন্ট, প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন এ ,সি,বি১, বি২, বি৫ এবং বি ৬ রয়েছে।

স্বাস্থ্য উপকারিতা
১। আখের রসের মানুষের শরীরের জন্য যথেষ্ট উপকারী পরিশ্রমের পর ঘেমে ঠান্ডালাগা রোধ করে।
২। ঠান্ডা কিংবা জ্বরের পর আখের রস ঠান্ডালাগা প্রতিরোধ করে, দুর্বলতা দূর করে।
৩। ভারী কাজ কিংবা খেলোয়ারদের খেলাধুলার পর আখের রস পান করলে শক্তি ফিরে পাওয়া যায়।
৪।পেটের নানা সমস্যা যেমন বদহজম, গ্যাস প্রভৃতির সমস্যার জন্য আখের রস অত্যান্ত উপকারী।
৫।আখের রসে উচ্চমাত্রার ক২ থাকে বিধায় এটি কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করে শরীরকে সতেজ রাখে।
৬। আখের রস নিয়মিত পান করলে শরীরের ক্ষত ভাল হয়।
৭। আখের রসে প্রচুর ভিটামিন এবং মিনারেলস আছে যা বিভিন্ন রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
৮।আখের রস খারাপ মাত্রার কোলেষ্টেরল কমায়, ইহা শরীরকে পরিস্কার করে, উন্নত করে মেটাবলিজম এবং জীবানুমুক্ত করতে সাহায্য করে।
৯। গর্ভবতী মায়েদের আখের রস খুবই উপকারী, এতে আয়রন এবং ফলিয়েট থাকে যা শিশুর মস্তিষ্কবৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
১০।আখের রসে প্রচুর মিনারেল থাকার কারণে এটি দাঁতের ক্ষত সারায়।
১১।স্বাস্থ্যজ্জ্বোল ত্বকের জন্য আখের রস খুবই উপকারী ত্বকের রুক্ষতা দুর করে, আর্দ্রতা রজায় রেখে ত্বককে লাবন্যময় করে তোলে।
১২। আখের রসে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস আছে, যা শরীরের হাড়কে মজবুত করে।
১৩। আখের রসে ফ্লেভিনয়েডস্ এবং ফেনোলিক যৌগ আছে। ফ্লেভিনয়েড এন্টিটিউমার, এষ্টিঅক্সিডেন্ট, এন্টি ভাইরাস এবং এন্টি এলার্জিক গুনাগুন রয়েছে।
১৪। জন্ডিস রোগ আখের রস অত্যন্ত উপকারী, জন্ডিসে যখন শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায় তখন ৩-৪ গ্লাস আখের রস দ্রুত আরোগ্য দেয়।
১৫। আখের রস পাকস্থলি, কিডনী, হার্ট, চোখে এবং মনকে সতেজ এবং প্রফুল্লো রাখে।
১৬। আখের রসে প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে যা খুবই কম পরিমান গ্লাসিমিক আছে যা রক্তের গ্লুকোজ মাত্রাকে উচ্চামাত্রায় উঠাতে দেয়না, টাইপ-২ ডায়বেটিস রোগীরা ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে আখের রস খেতে পারেন।
১৭। আখের রসের ফ্রুটটোজ এবং গ্লুকোজ, সুক্রাজের চেয়ে খুবধীর গতিতে রক্তের চিনির মাত্রা বাড়ায়।

আখের রস এবং টেবিল সুগারের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে আখের রস যখন টেবিল সুগারে পরিবর্তন ঘটে তখন আখের রসের গুনগত মানের পরিবর্তন ঘটে। চিনি ক্রিষ্টাল আকারের জন্য যোগ করা হয়। নানান উপাদান দীর্ঘক্ষন উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বালদেবার ফলে কাচা রসের এন্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলী নষ্ট হয়ে যায় ফলে চিনিতে মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় না উল্টো অতিরিক্ত চিনি মানব শরীররের জন্য ক্ষতিকর। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেণ চিনি শরীর থেকে Ca+ বের করে দেয়, ফলে মানুষ Ca+ ঘাটতিতে ভোগে।চিনিতে মানুষের শরীরের জন্য সত্যিকারের কোন খাদ্যমূল্য থাকে না।

শেয়ার করুন