২৯ আগস্ট ২০২২


২শ ৮৫ কিলোমিটার সাঁতার শুরু করলেন ৭০ বছর বয়সী ক্ষিতীন্দ্র!

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : সত্তর বছর বয়সে এখনও তরুণ বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য। এই বয়সের অগতিন মানুষগুলোর জীবন চলছে লাঠিতে ভর করে। অথচ ৭০ বছর বয়সেও দমে নেই একুশে পদকপ্রাপ্ত ক্ষিতীন্দ্র।

ক’দিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘তার এবারের লক্ষ্য ২শ ৮৫ কিলোমিটার সাঁতার কাটার। যদি এই যাত্রায় তিনি সফল হন, তাহলে বয়স্ক সাঁতারু হিসেবে এটা একটা বিশ্বরেকর্ড হবে।

সোমবার সকালে সিলেটের কিনব্রিজ সংলগ্ন চাঁদনীঘাট থেকে সুরমা নদীতে সাঁতার শুরু করবেন ৭০ বছর বয়সী ক্ষিতীন্দ্র। সাঁতার কেটে তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরব ফেরিঘাটে পৌঁছাবেন। এতে প্রায় ৭০ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে তার ধারণা। এইটুকু পথ সাঁতার কাটাতে পেরোলে বিশ্ব রেকর্ড হবে বলেও জানালে ওই সাঁতারু।

সিলেট জেলা নৌ-পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির আহমদ বলেন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নৌ-পুলিশসহ সিভিল সার্জনের একাধিক টিম তাঁর সঙ্গে আছে। পানিতে অবস্থানকালীন তার যাতে শারীরিক বা স্বাস্থ্যগত কোনো সমস্যা না হয় কিংবা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে ব্যাপারে সবাই সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করবে।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য বলেন, ২০১২ সালের মে মাসে অবসর গ্রহণ করলেও এখনও কনসালট্যান্ট হিসেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অধিনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কাজ করছেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকে সাঁতার তার নেশা। তাই অবিরাম শৌখিন সাঁতারু তিনি।

তিনি বলেন, ১৯৭০ সাল থেকেই আমি দূরপাল্লার বা অবিরাম সাঁতারের সঙ্গে জড়িত। সেবার নিজের থানা নেত্রকোনার মদনে টানা ১৫ ঘণ্টা সাঁতার কেটেছিলাম। তারপর একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি দেশকে স্বাধীন করতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। ১৯৭৩ সালে সিলেটের এমসি কলেজের পুকুরে টানা ৮২ ঘন্টা সাঁতার কেটেছিলাম। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটানা ৯৩ ঘন্টা ১১ মিনিট এবং ১৯৭৬ সালে ১০৮ ঘন্টা ৫ মিনিট অবিরাম সাঁতার কেটে জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি করেন। রেকর্ড করায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে রূপার নৌকা দিয়ে সম্মানিত করেন। ২০১৮ সালে ১৮৫ কিলোমিটার দূরপাল্লার সাঁতার কাটা ছিল আরেকটি স্থানীয় রেকর্ড। এবার ২৮৫ কিলোমিটার সাঁতারে সফল হলে বয়স্ক সাঁতারু হিসেবে বিশ্বরেকর্ড হবে। যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়।

ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য ১৯৫২ সালের ২৩ মে নেত্রকোণার মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিলেটের এমসি কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

শেয়ার করুন