২৯ আগস্ট ২০২২
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : ‘সম্পদ, সম্ভাবনা আর অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় ‘রামসার সাইট’ এ টাঙ্গুয়ার হাওর। হাওরের একপাশে রয়েছে পাহাড় আর অন্যদিকে হাওরের বুকে দাড়িয়ে রয়েছে সবুজের সমারোহ হিজল-করছ গাছ। হিজল-করছ গাছ গুলোর ডালপালা ছড়িয়ে রয়েছে টাঙ্গুয়া হাওরে। আর এই গাছ গুলো দেখে যেন প্রকৃতির প্রেমেও পড়েন অনেকেই। বর্ষায় হাওরের চারদিকে পানির থৈ থৈ শব্দে আকর্ষিত করে পর্যটকদের। টাঙ্গুয়া হাওরের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিনিয়ত প্রকৃতি প্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের মিলন মেলায় পরিণত হচ্ছে।’ প্রতিদিনই এ হাওরের সৌন্দর্য উপভোগে ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো পর্যটক।
‘টাঙ্গুয়া হাওর’ সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায় অবস্থিত। এ দুটি উপজেলার চার ইউনিয়নের ১৮ মৌজা’র নেয় টাঙ্গুয়া হাওরের আয়তন ধারিয়াছে প্রায় ১২ হাজার ৬৫৫ হেক্টর। হাওরে রয়েছে ছোট বড় ১০৯ বিল। তবে প্রধান বিল ৫৪টি। এছাড়াও টাঙ্গুয়া হাওরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য খাল, বিল ও নালা। আর এসব খাল, বিল, নালা সব কিছু বর্ষায় মিলিত হয়ে সমুদ্রের নেয় পরিণত হয়। বর্ষাকালে টাঙ্গুয়া হাওরের উপর নির্ভরশীল হাওর পারের অসংখ্য মানুষ।’
‘টাঙ্গুয়ার হাওরকে বলা হয় থাকে দেশি মাছের আধার বা ‘মাদার ফিশারিজ’। প্রাকৃতিক বন, অতিতি ও দেশি পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবেও পরিচিত এ হাওর। আবার এটি দেশি মাছের অন্যতম প্রজননক্ষেত্র। হাওরে প্রতিবছর শীত মৌসুমে দেখা মিলে দেশি ও অতিতি লাখও পাখির। টাঙ্গুয়া হাওর সর্বশেষ গণনা ২০১৬ সালে অনুযায়ী এ হাওরে ৯১ হাজার ২৩৬ পরিযায়ী পাখি এসেছে। হাওরে মাছের মজুত আছে ছয় হাজার ৭০১ মেট্রিক টন। বিলুপ্ত প্রায় মাছের মধ্যে আছে চিতল, মহাশোল, নানিদ, সরপুঁটি, বাগাড় ও রিটা। বেশি পাওয়া যায় রুই, গইন্যা, কাতলা, কালবাউশ, শোল, গজার, টাকি, মেনি, বোয়াল ট্যাংরা ইত্যাদি।’
‘প্রকৃতি প্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের আগমনে চাঞ্চল্য হয়ে উঠে টাঙ্গুয়া হাওর। বর্তমানে নদী পথে প্রতিনিয়ত ইঞ্জিল চালিত ছোট-বড় নৌকা, স্পীড বোর্ড দিয়ে ভ্রমণে আসে পর্যটক। টাঙ্গুয়া হাওরে পর্যটকরা এসে মিলিত হয় ‘ওয়াচ টাওয়ারে’। পর্যটকরা ওয়াচ টাওয়ারে এসে মিলিত হয়ে প্রকৃতির ছবি কিংবা ব্যক্তির ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। হাওরে রয়েছে চা, পান, বিস্কুট, ঝাঁলমুড়ি, কিংবা লাইফ জ্যাকেট ইত্যাদি পণ্যের দোকান। আর এসব দোকানে পর্যটকদের নিমন্ত্রণ করেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এসব কিছু মিলিয়ে ব্যাস্ত সময় পাড় করেন হাওরবাসী।’
‘ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আব্দুল্লাহ ও আবু সাঈদ বলেন, টাঙ্গুয়া হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আমরা আনন্দিত। যেদিকে দু’চোঁখ যায় শুধু পানি, গাছ, পাহাড় দেখা যায়। শহরে এসব কিছুর দেখা মিলে না বলেই টাঙ্গুয়া হাওরে চলে এসেছি।’
‘সিলেট থেকে আসা পর্যটক সৌরভ আহমেদ বলেন, প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টাঙ্গুয়া হাওর লিখে সার্চ করলেই সৌন্দর্যময় বিভিন্ন ছবির দেখা মিলে। আর এসব প্রাকৃতিক ছবি বাস্তবে দেখতে ছুটে এসেছি হাওরে। প্রাকৃতিক দৃশ্য গুলো নিজের চোঁখে দেখে আমি খুবই আনন্দিত।’
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রায়হান কবির বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পর্যটন কেন্দ্র গুলো খুলে দেওয়ায় টাঙ্গুয়ার হাওর সহ উপজেলার সকল পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। বলা যায় পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে তাহিরপুর উপজেলা।