২৫ আগস্ট ২০২২


তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে মায়ের লাশের পাশে তিন দিন!

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রেম ও বিবাহ বহির্ভুত ঘরসংসার ও মামলা। পরিণামে তালাবদ্ধ ঘরে পচনধরা লাশ হলেন এক যুবতী। তবে বেঁচে গেছে তার নারী ছেড়া ধন ১৪ মাসের কন্যা সন্তান। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেট মেট্রোপলিটন শাহপরাণ থানাধীন বালুচরে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দে বালুরের সেকান্দর মহলের নিচতলার ইউনিট থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এসময় লাশের পাশে থাকা তার ১৪ মাস বয়েসী কন্যা সন্তানকে অচেতন অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ। ময়না তদন্ত শেষে বুধবার লাশ ও তার কন্যা সন্তানকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এ ঘটনায় এসএমপির শাহপরাণ থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। নিহত আফিয়া বেগম (৩১) সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার জাঙ্গাইল তোয়াকুল গ্রামের আজির উদ্দিনের মেয়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আফিয়ার পিতৃপরিবার হতদরিদ্র। বেশ কয়েক বছর আগে সিলেট নগরীতে থাকা এক নারী চিকিৎসকের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতে দেয় তার পরিবার। ওই নারী চিকিৎসকের ঘরে থাকাবস্থায় আফিয়ার নিয়াজ নামের এক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়াজ তাকে বিয়ে করবে আশ্বাস দিয়ে ভোগ করতে থাকে। আফিয়াকে নিয়ে নিয়াজ স্বামী-স্ত্র্রী পরিচয়ে নগরের বিভিন্নস্থানে বাসাভাড়া দিয়ে থাকতো। কিন্তু আইনীভাবে আফিয়াকে স্ত্রীর মর্যাদা দেয়নি। পিতৃপরিবার থেকেও এ বিয়ের কোনো স্বীকৃতিও দেওয়া হয়নি। তাই আফিয়ার কথিত স্বামীর পরিচয় এবং ঠিকানাও জানতো না তার পিতৃপরিবার। এভাবে নিয়াজের সাথে আইনত বিবাহ বহির্ভুত ঘরসংসার চলছিল আফিয়ার। এক পর্যায়ে নিজের টাকাকড়ি ব্যয় করে নিয়াজকে ওমান পাঠিয়ে দেয় আফিয়া।

আজ থেকে দু’বছর আগে দেশে ফিরে নিয়াজ আফিয়াকে নিয়ে আবারোা বিবাহ বর্হির্ভুত ঘরসংসার শুরু করে। এসময় নিয়াজ কর্র্তৃক অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে আফিয়া তার গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি দিতে ও আইনত বিয়ে করতে নিয়াজকে বারবার চাপ দেয়। এ নিয়ে অনেক দেনদরবার এরবং সালিশও হয়কিন্তু নিয়াজ আফিয়াকে আইনত বিয়ে না করেই আবারো ওমান চলে যায়। তাই আফিয়া নিয়াজের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক দীর্ঘদিন ধর্ষণ ও গর্ভে সন্তান দেওয়ার অভিযোগ করে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যংাতন দমন আইনে একটি মামলা করে। এ মামলায় নিয়াজের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়। আফিয়ার কোলে চলে আসে এক শিশু কন্যা। সম্প্রতি নিয়াজ আবার দেশে ফিরলে আফিয়ার মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। আজ থেকে ৯দিন পূর্বে নিয়াজ জামিনে বের হয়ে আবারো লাপাত্তা হয়ে যায়। মঙ্গলবার রাতে নিজের ভাড়াকরা তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে আফিয়ার পচনধরা লাশ উদ্ধার এবং তার ১৪ মাসের মেয়েকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। দুধের ওই শিশু কন্যা দীর্ঘ ৬৭ ঘণ্টা ময়ের কাছেই জীবিত ছিল।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে আফিয়ার ভাড়া করা ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এতে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সন্দেহ হয় এবং দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তারা দেখতে পান-আফিয়ার ইউনিটের দরজা বাইর থেকে তালা দেওয়া। এরপর তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে আফিয়ার মরদেহ খাটের পড়ে থাকতে দেখে। মরদেহ থেকে উৎকট দুর্গন্ধ বের হচ্ছিলো। মৃতদেহের পাশেই অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় আফিয়ার ১৪ মাসের শিশুকন্যাকে। তখন পুলিশ শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস চলতে দেখে দ্রুত তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

শাহপরাণ থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, বাসার দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিলো। প্রাথমিক ধারণা- এটি হত্যাকাণ্ড। লাশের ময়না তদন্ত শেষে আফিয়ার পিতার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠেলে তার মেয়েকে আয়িার মায়ের কাছে দেওয়া হয় । এ ঘটনায় আফিয়ার মা কুটিনা বেগম বাদী হয়ে গতকাল বুধবার অজ্ঞাতনামা আসামী করে এসএমপির শাহপরাণ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে ঘটনাটি রহস্যজনক। বিভিন্ন দিক সামনে নিয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। আমরা বেশ কিছু ক্লু (সূত্র) পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এ মুহুর্তে এসব বলা যাচ্ছে না।

শেয়ার করুন