২০ আগস্ট ২০২২


লাভের ‘গুড়’ কে খাচ্ছে?

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : খোলা বাজারে ডিম ও মুরগির হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি হলেও খামারি ও ভোক্তা এর সুফল পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পোলট্রি শিল্পের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)। সংগঠনটি বলছে, খামারিরা লোকসানে মুরগি বিক্রি করছেন। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কে খাচ্ছে লাভের গুড়?

এ নিয়ে অনুসন্ধানের পর বিপিআইসিসি বলছে, কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে মূলত মধ্যস্বত্বভোগীরাই লাভবান হচ্ছেন। তারা কেজিতে ৩০ টাকার বেশি পর্যন্ত লাভ করছেন। এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে ডিমান্ড-সাপ্লাই গ্যাপ ও সুযোগসন্ধানী মধ্যস্বত্বভোগীদের অধিক মুনাফা লাভের অপপ্রয়াসকে দায়ী করে সংগঠনটি বলছে, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে ভবিষ্যতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিপিআইসিসির সমন্বয়ে শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং তৃণমূল খামারিদের সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে।

গত ১৬ আগস্ট বিপিআইসিসির জরুরি বৈঠকে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান বিষয়ক প্রতিবেদনে মধ্যস্বত্বভোগীদের অন্যায্য মুনাফার বিষয় উঠে আসে।

এ প্রতিবেদন সামনে রেখে বিপিআইসিসির সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, গত ৬ আগস্টের আগে খামারিরা ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি গড়ে ১২৮-১৩১ টাকায় অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ১২-১৪ টাকা লোকসানে বিক্রি করলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভ করেছে কেজিতে ২৭-৩২ টাকা। খামারি ও ভোক্তা উভয়েই প্রত্যাশিত প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘বাজার ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীরা থাকবেই, তবে মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভের পরিমাণ যৌক্তিক হতে হবে। প্রান্তিক খামারিরা নায্যমূল্য না পেলে উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। তাই প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় সরকারকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। মসিউর বলেন, সরকারের যতগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে, সেখানে মূলত ডেইরি ও মৎস্য খাতই প্রাধান্য পেয়েছে অথচ আমিষের চাহিদা পূরণে ৪০-৫০ শতাংশ অবদানই পোলট্রি খাতের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩ ও ১৪ আগস্ট মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজিতে দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। পাইকারি পর্যায়ে বাদামি ডিম ১০ দশমিক ৯০ টাকায় এবং ব্রয়লার মুরগির দর ১৭০-১৭৫ টাকায় উঠে আসে। এ দাম বাড়ায় সাধারণ খামারিদের কোনো হাত নেই। পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে এলে দাম পুনরায় কমতে শুরু করবে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ফিড তৈরির কাঁচামালের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক দরপতন, পণ্য আমদানিতে মাত্রাতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া এবং লোডশেডিংয়ের ফলে ডিম ও মুরগির উৎপাদন খরচ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা এবং ডিমের খরচ ন্যূনতম ৯ দশমিক ৫০ টাকা।

বিপিআইসিসির সভাপতি বলেন, তুলনামূলক কম দামে প্রাণিজ আমিষ সরবরাহ করায় পোলট্রির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও নির্ভরশীলতা বেড়েছে। এখন উৎপাদন খরচ কমিয়ে এনে কীভাবে আরও সাশ্রয়ীমূল্যে ডিম ও মুরগি ভোক্তার কাছে পৌঁছানো যায়, সে চেষ্টাই আমরা করছি।

আমরা একটা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি বলে জানিয়ে মসিউর বলেন, খামারি ও সরবরাহকারীদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয় এমন কিছু করা যাবে না। কাঁচামালের দাম কমলে, ডলারের দর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে পরিস্থিতি আপনাআপনি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারসহ সবার সহযোগিতা দরকার।

শেয়ার করুন