১৬ আগস্ট ২০২২
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি : বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের পূর্ব ইছাপুর গ্রামের একটি রাস্তার উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে সম্প্রতি দুটি প্রকল্পে ৫শ’২৫ ফুট রাস্তা সিসি ঢালাই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০বছর আগে ইট সলিং করা এই রাস্তার সিসি ঢালাইয়ে নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বালাগঞ্জ-খসরুপুর রাস্তা থেকে পূর্ব ইছাপুর গ্রামের রুশন মিয়ার বাড়ির সামনে আশ্রয়ন প্রকল্প পর্যন্ত ২৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭ ফুট প্রস্থের রাস্তা সিসি ঢালাইয়ে ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ২শ’ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন ‘মেসার্স জননী ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আরেকটি প্রকল্পে পাশাপাশি দুটি আশ্রয়ন প্রকল্পের মধ্যেখানে ২৬৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭ ফুট প্রস্থের রাস্তার অবশিষ্ট অংশ সিসি ঢালাইয়ে ২ লক্ষ ৫৯ হাজার ২শ’ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। রাস্তার এই অংশের কাজ বাস্তবায়ন করেছেন ‘মেসার্স অসীম ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে, নতুন ইট ও সারি বালু ব্যবহার করার কথা থাকলেও রাস্তা থেকে তোলা পুরাতন ইট ও পলি বালু ব্যবহার করে সিসি ঢালাই করায় রাস্তার স্থায়ীত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ইতিমধ্যে পূর্ব ইছাপুর গ্রামের বাসিন্দা তোফায়েল মিয়া এলাকাবাসীর পক্ষে ২৭জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, রাস্তার উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দু’টি প্রকল্পে ৫লক্ষ ১৬হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন ও ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাদির মিয়া অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে রাস্তার সিসি ঢালাইয়ে নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুর্নীতি ঢাকতে সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা অন্য কোনো জনপ্রতিনিধিকে না ডেকে চেয়ারম্যান ও মেম্বার মিলে রাস্তাটি উদ্বোধন করে তাদের নাম ফলক লাগিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপেক্ষিতে সরেজমিন গেলে পূর্ব ইছাপুর গ্রামের আওলাদ মিয়া, আলাল মিয়া ও মইনু মিয়া বলেন- সিসি ঢালাই করার আগে কংক্রিট ব্যবহার করা হয়নি। রোলার দিয়ে মাটিও বসানো হয় নি। এতে রাস্তার পাশ ভেঙে যাচ্ছে। ভাঙা স্থানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাটি দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। ২০বছর আগে ইট সলিং করা রাস্তার উপর থেকে পুরাতন ইট তুলে সেগুলো কংক্রিট করে সেই কংক্রিট ব্যবহার করে অর্ধ ইঞ্চি করে ঢালাই দেয়া হয়েছে। মানুষ এবং গরু-বাছুরের পায়ের চাপে ঢালাই উঠে যাচ্ছে। রাস্তায় যেভাবে নিম্ন মানের কাজ করা হয়েছে তাতে বরাদ্দের অর্ধেক টাকাও ব্যয় হওয়ার কথা নয়।
পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বাস্তবায়ন করেছে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অফিসের কর্মকর্তা ও আমরা কাজ তদারকি করেছি এখানে অনিয়ম বা দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে।