৯ আগস্ট ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির এ সদস্যের সামনে পিছনে প্রটোকলের শখ দীর্ঘ দিনের। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকা কালে তিনি ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর। সে সময় রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলের তোয়াক্কা না করে সামনে ও পিছনে পুলিশের গাড়ি নিয়ে ঘুরতেন। সেই থেকে তার পুলিশ প্রটোকলের খুবই শখ। এই কারনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামীলীগের সাথে সর্বোচ্চ সম্পর্ক রক্ষা করে চলতেন। উদ্দেশ্য ছিল ‘প্রতিমন্ত্রী’ মর্যাদা নিয়ে পুলিশ প্রটোকল সহ ঘুরে বেড়ানো। কিন্তু তার সেই শখ আর পূর্ণ হলনা।
মেয়র আরিফ পুলিশ প্রোটোকল না পেলেও নিজের নিরাপত্তার জন্য রেখেছেন বিশেষ বাহিনী। সিটি কর্পোরেশনের টাকা খরচ করে ‘অঘোষিত প্রোটোকল’ নিয়ে ঘুরে বেড়ান। আশা ছিল এক সময় সরকার প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দিলে পুলিশ প্রোটোকল পাবেন। একারনে তিনি বিগত সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এর সাথে লিয়াজু ম্যান্টেইন করে চলছেন। কিন্তু বিধি বাম, তার কপালে শেষ পর্যন্ত প্রোটোকল ঝুটল না।
সিলেট মহানগর বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি নেতাদের পাশ কাটিয়ে চলতেন। তিনি নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে আতাত করে চলতেন। যে কারনে দলে তিনি ‘কুটনৈতিক’ নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি কি ভাবে আশা করলেন যে, আওয়ামীলীগ তাকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেবে? তার এই আশা করাটাও অন্যায়!
তবে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নগর বিএনপির এক নেতা বলেন, মামলার অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত আসামী হলেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যেকোন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করতে পারে। একারনেই মুলত মেয়র রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সরকার ও সরকার দলীয় নেতাদের সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেন।
সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, জাতির পিতার কন্যা, বাংলাদেশর ইতিহাসের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবকিছু বিচার বিশ্লেষন করেই সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। দেশবরেণ্য অর্থনীতিবীদ শাহ এএসএম কিবরিয়া হত্যা মামলা ও বর্ষিয়ান রাজনীতিবীদ সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের উপর গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযুক্ত আসামীর গাড়িতে কখনো জাতীয় পতাকা তুলে দেবেন না। সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন কর্মকান্ডে উনি যে সহযোগীতা পাচ্ছেন তাতেই উনার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।
তবে বিষয়টি নিয়ে জানতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
তবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও সাবেক জ্যৈষ্ঠ প্যানেল মেয়র, মহানগর বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, আরিফুল হক চৌধুরী ২০০৩ সালে যখন কমিশনার ছিলেন আমারও একই পরিষদের কমিশনারের দায়িত্ব পালন করার সৌভাগ্য হয়েছিল। আমি দেখেছি তৎক্ষালিন সময়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিএনপি সমর্থিত মেয়র মুজিবুর রহমান সারোয়ার এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামীলীগ সমর্থিত মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে তৎক্ষালিন অর্থমন্ত্রী, সিলেটের কৃতি সন্তান এম. সাইফুর রহমান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে কথা বলে প্রতিন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন। তৎক্ষালিন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও প্রস্তাবটিতে সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম, বর্তমান সরকার ও সরকার দলীয় নেতাদের সাথে অত্যন্ত সুসম্পর্ক বজায় রাখা মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে দেশের চার সিটি করপোরেশনের মেয়রকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদ-মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রীর পদপর্যাদা পেয়েছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র। আর চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা।