৫ আগস্ট ২০২২
ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রী স্মৃতি রানী দাসের আত্মহত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এক যুবকের ‘ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার’ হয়ে ওই পথ বেছে নিয়ছিলেন স্মৃতি। ঘটনার দুই মাস ১২ দিনের মাথায় তার মৃত্যুর জন্য দায়ী শ্যামল দাস (২১) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সুধাংশু দাসের ছেলে। তিনি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন আদালতে। পরে তাকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে।
বৃহস্পতিবার নগরীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে বিকালে জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে নেয় এসএমপির শাহপরান (র.) থানার সদস্যরা।
এ ঘটনায় নিজের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন শ্যামল দাস। সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আাদালতের বিচারক সাইফুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর আগে স্মৃতি রানী দাসের আত্মহত্যার ঘটনায় পেনাল কোডের ৩০৬/৩৪ ধারায় শাহপরান থানায় মামলা (নং১৫/২৫/৫/২২) করেছিলেন তার বাবা যুগল কিশোর।
সেই জবানবন্দির বরাত দিয়ে আদালত সূত্র ও পুলিশ জানায়, স্মৃতি রানী দাসের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার হ্যাক করে আপত্তিকর ছবি দিয়ে তাকে ব্লাকমেইল করে মানসিক চাপে ফেলেন শ্যামল দাস। এভাবে তার কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন।
তবে, এ ঘটনায় স্মৃতি রানী আত্মহত্যা করবেন তা ভাবতে পারেননি। স্মৃতির ছবি পাঠিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় ম্যাসেঞ্জারে চ্যাটিং (বার্তা) পাঠাতো, কল দিতো, উত্যক্ত করতেন। সর্বশেষ তাকে বিকাশে ২৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন স্মৃতি। বিকাশের নম্বরের সূত্র ধরেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
শাহপরান (র.) থানার ওসি সৈয়দ আনিসুল হক জানান, স্মৃতির বাবাকে বাদী করে আমরা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা নিয়েছি। ওই মামলায় শ্যামল দাসকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে সে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ম্যাসেঞ্জার হ্যাক করে স্মৃতি রানী দাসের ব্যক্তিগত ছবি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন শ্যামল দাস। এরপর স্মৃতি রানীকে মানসিক চাপে ফেলে টাকা আদায় করতেন। আত্মসম্মানের ভয়ে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে এমনটি ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, স্মৃতির মোবাইল ফোনের লক খুলতে পারলে আরও তথ্য জানা যাবে। সেটি সিআইডির মাধ্যমে এক্সপার্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।আপাতত ৫ দিনের ক্ষুদে বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য তদন্তকারী কর্মকর্তার সংগ্রহে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, স্মৃতি রানী দাস (২০) কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের সাপান্তার যুগল কিশোর দাাসের মেয়ে। তিনি এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। চলতি বছরের ২৫ মে এমসি কলেজের নতুন হোস্টেলের চারতলার ৪০৩নং কক্ষ থেকে স্মৃতি রানী দাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি হোস্টেলের তৃতীয় তলায় ৩০৭নং কক্ষে থাকতেন। স্মৃতি আত্মহত্যা করেছিলেন বলে তখন জানিয়েছিল পুলিশ।