৫ জানুয়ারি ২০১৮
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি অঞ্চল হিসেবে খ্যাত দিনারপুর পরগণায় ফের পাহাড় কাটা শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় পাহাড় কেটে স্থানীয় একটি কোম্পানির মাটি ভরাটের কাজে সরবারহ করাহচ্ছে এই পাহাড়ের মাটি।
এতে করে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চলকে। অপরদিকে মাটি বিক্রি করে কোম্পানির কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
গত ২০-২৫দিন ধরে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের দিনারপুর পরগণার পানিউমদা ইউনিয়নের উড়ার পাড়া নামকস্থানে ৩টি পাহাড় থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এইসব পাহাড় (ডিসি খতিয়ান) আওতাভুক্ত। প্রভাবশালী ভূমি দস্যুদের কারণে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি অঞ্চলের কয়েক শতাব্দীর ঐতিহ্য।
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনকে বার বার বিষয়টি অবগত করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে জোরালো কোনো প্রদক্ষেপ না নেয়ায় অল্প কিছু দিন বন্ধ থাকার পর জায়গা পরিবর্তন করে ভূমিখেকোরা প্রকাশ্যেই শুরু করেছে পাহাড় নিধন।
এলাকাবাসী সূত্রে আরো জানা যায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত থাকায় সাধারণ মানুষ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না। কখনো গভীর রাতে আবার ভোরের সূর্য উদয় হওয়ার আগে আবার কখনো দুপুর কিংবা বিকাল বেলা সবার চোখের সামনে এমন কর্মকাণ্ড চলে আসছে। পাহাড় কাটায় প্রশাসনের নীরবতা ভাবিয়ে তুলছে শান্তপ্রিয় দিনারপুরবাসীকে।
স্থানীয় লোকজন জানায়, যেসব ব্যক্তিরা নিজেদের জনপ্রতিনিধি দাবি করেন সেসব ব্যক্তিরাই পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির টাকায় ভাগ বসান। এদিকে পানিউমদা ইউপির জিনাথ রেজোয়ানা কোম্পানির ভরাটের কাজে পাহাড় কাটার মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। মাটি বিক্রি করে টাকা গুলো দেয়া হয় দিনারপুর পরগণার একজন ক্ষমতাসীন, প্রভাবশালী নেতার হাতে।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে পাহাড় কাটার স্থান পরির্দশন করেছেন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন হাসান। তিনি জানান, পাহাড় যারা কাটছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাহাড় কেটে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কুচক্রী মহল।
এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মনীষ চাকমা জানান, পাহাড় কেটে যারা বিলীন করে দিচ্ছে তাদের ছাড় দেয়া হবে না, সরকারের সম্পদ যারা বিলীন করে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
(আজকের সিলেট/৫ জানুয়ারি/ডি/কেআর/ঘ.)