২৮ জুলাই ২০২২


প্রবাসী পিতা-পুত্রের দাফন সম্পন্ন, থানায় অপমৃত্যু মামলা

শেয়ার করুন

ওসমানীনগর প্রতিনিধি : ওসমানীনগরে দুই যুক্তরাজ্য প্রবাসীর মৃত্যু এবং ৩জন গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঘটনার ৩দিন পেড়িয়ে গেলেও এখনো এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়নি। গত বুধবার রাতে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে পরিবারের নিকট যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুল ইসলামের লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের পারকুল মাদ্রাসা মাঠে পিতা-পুত্রের জানাযার পর নিজ গ্রাম দিরারাই খাতুপুর তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এদিকে, এঘটনায় নিকট আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সাথে নিকট আত্মীয়সহ নিহত এবং অসুস্থদের মোবাইলের কলরেকর্ড খতিয়ে দেখছে তারা।

রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুছনে আরা ও তাদের ছেলে সাদিকুল ইসলামের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও মেয়ে সামিরা ইসলাম এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন।

গত বুধবার রাতে ঘটনার সংবাদদাতা রফিকুল ইসলামের শ্যালক দেলোয়ার হোসেনের খবরের প্রেক্ষিতে ওসমানীনগর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং ২১/২২।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে গত বুধবার দেশে ফিরেন নিহত রফিকুল ইসলামের বৃদ্ধা মা জরিনা বেগম, ভাই শফিকুল ইসলাম, বিজেকুল ইসলাম ও বোন শাহিনা বেগম।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুলাই উপজেলার তাজপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় উঠেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম, তার স্ত্রী হুসনে আরা বেগম, ছেলে সাদিকুল ইসলাম, মাইকুল ইসলাম ও মেয়ে সামিরা ইসলাম। বাসায় তাদের সাথে বসবাস করছিলেন রফিকুল ইসলামের শশুর আনফর আলী, শ্বাশুড়ী বদরুন্নেছা, শ্যালক দেলোয়ার হোসেন, শ্যালকের স্ত্রী শোভা বেগম ও তাদের শিশু মেয়ে সাবিলা বেগম। ২৫ জুলাই সোমবার রাতের খাবার শেষে প্রবাসী পরিবারের সকল একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন ২৬ জুলাই মঙ্গলবার সকালে ডাকাডাকির পর প্রবাসীদের সাড়াশব্দ না পেয়ে সকাল সোয়া ১১টায় জাতীয় সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করেন রফিকুল ইসলামের শ্যালক দেলোয়ার হোসেন। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় প্রবাসী ৫জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত ডাক্তার পিতা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করে।

এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমদ পিপিএম, পুলিশ সুপার (পদোন্নতি প্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি) ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, ওসমানীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম।

ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম মাঈন উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন